Advanced Screener: ফিল্টার করে কীভাবে আপনার স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী শেয়ার খুঁজবেন?
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) বর্তমানে প্রায় ৪০০-এর বেশি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে। এখন ধরুন, আপনার এমন কিছু শেয়ার দরকার যাদের P/E রেশিও ১৫ এর নিচে, যারা নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেয় এবং যাদের আজকের ভলিউম অনেক বেশি।
৪০০টি কোম্পানির ডেটা ম্যানুয়ালি ঘেঁটে এই শর্তগুলো পূরণ করে এমন শেয়ার বের করাটা খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজার মতোই কঠিন! কিন্তু এই অসাধ্য কাজটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে করে দিতে পারে DSEPlex-এর Advanced Screener (অ্যাডভান্সড স্ক্রিনার)।
Advanced Screener কী? স্ক্রিনার হলো এমন একটি স্মার্ট টুল যেখানে আপনি আপনার নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি বা শর্ত (Parameters) সেট করে দিলে, টুলটি পুরো মার্কেট স্ক্যান করে শুধুমাত্র সেই শেয়ারগুলোই আপনার সামনে এনে দিবে যেগুলো আপনার শর্তগুলো পূরণ করে।
কী ধরনের ফিল্টার বা শর্ত আপনি সেট করতে পারবেন?
১. ফান্ডামেন্টাল ফিল্টার (Fundamental Filters): আপনি যদি লং-টার্ম বিনিয়োগকারী হন, তবে ফান্ডামেন্টাল ডেটা দিয়ে স্ক্রিনিং করতে পারেন। যেমন:
- EPS (আয়) ৫ টাকার বেশি হতে হবে।
- P/E রেশিও (Price to Earnings) ১০ থেকে ১৫ এর মধ্যে হতে হবে।
- Dividend Yield (লভ্যাংশ হার) ৫% এর বেশি হতে হবে।
২. টেকনিক্যাল ও প্রাইস ফিল্টার (Technical Filters): আপনি যদি শর্ট-টার্ম বা ডে-ট্রেডার হন, তবে টেকনিক্যাল ডেটা দিয়ে ফিল্টার করতে পারেন। যেমন:
- শেয়ারের দাম ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হতে হবে।
- আজকের ভলিউম (Volume) ১ মিলিয়নের বেশি হতে হবে।
- RSI (Relative Strength Index) ৫০ থেকে ৭০ এর ভেতর থাকতে হবে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
- সাইডবার মেনু থেকে '🔍 Adv. Screener'-এ ক্লিক করুন।
- আপনার স্ক্রিনে অনেকগুলো ড্রপডাউন এবং স্লাইডার ফিল্টার দেখতে পাবেন।
- আপনার ট্রেডিং প্ল্যান অনুযায়ী শর্তগুলো (যেমন: P/E, EPS, Volume ইত্যাদি) ইনপুট দিন।
- নিচে সাথে সাথেই ফিল্টার করা শেয়ারের তালিকা চলে আসবে। ৪০০ শেয়ার থেকে কমে হয়তো আপনার সামনে মাত্র ১০-১২টি সেরা শেয়ারের লিস্ট আসবে, যেগুলো নিয়ে আপনি ফার্দার এনালাইসিস করতে পারবেন।
এভাবে স্ক্রিনার ব্যবহার করে আপনি প্রতিদিন আপনার রিসার্চের কয়েক ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারেন।
স্ক্রিনার দিয়ে তো সেরা শেয়ার বের করলেন, কিন্তু পুরো বাজারের সামগ্রিক মুড বা সেন্টিমেন্ট আজ কেমন—তা এক পলকে বুঝবেন কীভাবে?
পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা শিখবো— Market Heatmap: কালার কোড দেখে পুরো বাজারের সেন্টিমেন্ট কীভাবে বুঝবেন?