শেয়ারের দৈনিক দর পরিচিতি: LTP, Open, High, Low ও Closing Price-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
market basics
06 Sep, 2026 100 Views

শেয়ারের দৈনিক দর পরিচিতি: LTP, Open, High, Low ও Closing Price-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা

প্রতিদিনের শেয়ার লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পড়তে শিখুন। Last Traded Price (LTP), ওপেনিং প্রাইস, ডে হাই, ডে লো এবং ক্লোজিং প্রাইস বিশ্লেষণ করে শেয়ারের দৈনিক গতিপ্রকৃতি বোঝার উপায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) ট্রেডিং বোর্ডে তাকালে প্রতিটি কোম্পানির নামের পাশে বেশ কয়েকটি সংখ্যার পরিবর্তন চোখে পড়ে। এই সংখ্যাগুলো নিছক কোনো এলোমেলো সংখ্যা নয়; এগুলো সারাদিনের লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের স্পষ্ট হিসাব। একটি শেয়ারের দৈনিক আচরণ বুঝতে পাঁচটি প্রাথমিক মূল্যস্তর সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়।

১. LTP (Last Traded Price বা সর্বশেষ লেনদেনকৃত দর)

LTP হলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে মূল্যে শেয়ারটির একটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

  • ট্রেডিং চলাকালীন এই সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়।

  • প্রতিটি নতুন ক্রেতা ও বিক্রেতা যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট দামে সম্মত হন, সাথে সাথে সেই দামটি নতুন LTP হিসেবে পর্দায় প্রদর্শিত হয়।

  • মনে রাখবেন, স্ক্রিনে প্রদর্শিত LTP স্থায়ী কোনো দর নয়; যেকোনো মুহূর্তে নতুন লেনদেনের সাথে সাথে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।

২. Opening Price (ওপেনিং প্রাইস বা প্রারম্ভিক মূল্য)

ট্রেডিং দিনের শুরুতে বাজার খোলার সাথে সাথে কোনো শেয়ারের প্রথম যে লেনদেনটি সম্পন্ন হয়, তাকে Opening Price বলা হয়।

  • বাজার শুরুর আগের ক্রেতা-বিক্রেতার আগ্রহ বা আগের রাতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবরের প্রভাব সরাসরি ওপেনিং প্রাইসে দেখা যায়।

  • আগের দিনের সমাপনী মূল্যের চেয়ে ওপেনিং প্রাইস বেশি হলে বোঝা যায় শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ইতিবাচক।

৩. Day High (ডে হাই বা দিনের সর্বোচ্চ দর)

একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেডিং সেশনে শেয়ারটির হাতবদল হতে হতে সর্বোচ্চ যে মূল্যে লেনদেন কার্যকর হয়েছে, সেটিই হলো Day High।

  • এটি নির্দেশ করে সারাদিনের লেনদেনে ক্রেতারা শেয়ারটি কেনার জন্য সর্বোচ্চ কতটা আগ্রাসী ছিলেন।

  • কোনো শেয়ার যদি দিনের সিংহভাগ সময় তার ডে হাইয়ের কাছাকাছি অবস্থান করে, তবে তা বাজারে ক্রেতাদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

৪. Day Low (ডে লো বা দিনের সর্বনিম্ন দর)

ট্রেডিং সেশনের মধ্যে শেয়ারটি সর্বনিম্ন যে মূল্যে হাতবদল হয়েছে, তাকে Day Low বলা হয়।

  • এটি নির্দেশ করে সারাদিনে বিক্রেতাদের চাপের কারণে শেয়ারটির দর সর্বনিম্ন কতটা নিচে নেমেছিল।

  • শেয়ারের দর যদি ডে লো ভেঙে আরও নিচে নামতে থাকে, তবে তা বাজারে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপের লক্ষণ।

৫. Closing Price (ক্লোজিং প্রাইস বা সমাপনী মূল্য)

ট্রেডিং সেশনের সমাপ্তিতে যে মূল্যটিকে সেই দিনের চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তাকে Closing Price বলে।

  • স্টক এক্সচেঞ্জে ক্লোজিং প্রাইস শুধুমাত্র শেষ মুহূর্তের LTP দিয়ে নির্ধারিত হয় না। শেষ ৩০ মিনিট বা নির্ধারিত সময়ের গড় লেনদেন মূল্যের (Weighted Average Price) ওপর ভিত্তি করে এটি হিসাব করা হয়, যাতে কেউ কৃত্রিমভাবে শেষ সেকেন্ডে দাম প্রভাবিত করতে না পারে।

  • পরবর্তী ট্রেডিং দিনের সার্কিট ব্রেকার বা মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে এই ক্লোজিং প্রাইসকেই বিবেচনা করা হয়।

একটি কাল্পনিক উদাহরণের মাধ্যমে সামগ্রিক চিত্র

ধরা যাক, 'ক' কোম্পানির একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেডিং সেশনের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

পরিমাপক মূল্য (টাকা) বাজারের মনস্তত্ত্ব
Opening Price ৫০.০০ সকাল ১০টায় দিনের প্রথম লেনদেন শুরু হলো।
Day High ৫৪.০০ দুপুরের দিকে ব্যাপক ক্রয়ের চাপে দাম সর্বোচ্চ ৫৪ টাকায় ওঠে।
Day Low ৪৯.৫০ সেশনের শুরুতে সাময়িক বিক্রির চাপে দর নেমেছিল।
LTP ৫২.৮০ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শেষ লেনদেনটি সম্পন্ন হয়।
Closing Price ৫২.৫০ শেষ সময়ের গড় হিসাব অনুযায়ী দিনের সমাপ্তি মূল্য নির্ধারিত হয়।

এই পাঁচটি উপাত্তের সমন্বয়েই পরবর্তীতে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Candlestick তৈরি হয়। প্রতিদিনের এই তথ্যগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে শেয়ারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি ও ভোলাটিলিটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

এই টিউটোরিয়ালটি কি আপনার জন্য উপকারী ছিল?

Latest Price
Workspace
AI Desk
Profile