Fundamental Analysis কী?

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস হলো কোম্পানির আর্থিক দলিলপত্র এবং ব্যবসার ধরন বিচার করে একটি শেয়ারের প্রকৃত মূল্য (Intrinsic Value) বের করার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।

কেন ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস করা হয়?

আপনি যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনেন, তার মানে আপনি সেই কোম্পানির একটি ছোট অংশের মালিকানা কিনছেন। ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিসের মূল উদ্দেশ্য হলো—আপনি যে কোম্পানির মালিকানা কিনছেন, সেই কোম্পানিটি আসলে ব্যবসায়ে কতটা ভালো করছে এবং ভবিষ্যতে তার ব্যবসার সম্ভাবনা কেমন, তা যাচাই করা। এটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য অপরিহার্য।

মূল উপাদানসমূহ (Key Components)

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস করতে হলে কোম্পানির Financial Statements (যেমন Income Statement, Balance Sheet) পড়তে হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু মেট্রিক্স হলো:

১. EPS (Earnings Per Share)

কোম্পানির মোট নিট মুনাফাকে মোট শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে EPS পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কোম্পানিটি তার প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করছে, তা-ই হলো EPS। একটি কোম্পানির EPS ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে সেটি ভালো লক্ষণ।

২. PE Ratio (Price to Earnings Ratio)

PE Ratio হলো শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য এবং EPS-এর অনুপাত। সহজ কথায়, কোম্পানি ১ টাকা আয় করলে তার বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটি কিনতে কত টাকা দিতে প্রস্তুত, সেটাই হলো PE Ratio। PE কম হলে শেয়ার সস্তা, আর বেশি হলে শেয়ার দামি হিসেবে ধরা হয়।

৩. NAV (Net Asset Value per Share)

কোম্পানির সমস্ত সম্পদ (Assets) থেকে সমস্ত দায় (Liabilities) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে শেয়ার প্রতি NAV পাওয়া যায়। এটি নির্দেশ করে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আপনি কত টাকার সম্পদ পাবেন।

৪. ROE (Return on Equity)

শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ করা মূলধনের (Equity) ওপর কোম্পানি শতকরা কত টাকা মুনাফা তৈরি করতে পারছে, তা ROE দিয়ে মাপা হয়। ROE বেশি হওয়া মানে কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট বিনিয়োগকারীদের টাকাকে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করে মুনাফা করছে।

৫. Dividend (লভ্যাংশ) এবং Dividend Yield

কোম্পানি তার মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করে, তাকে Dividend বলে। আর আপনার বিনিয়োগ করা টাকার (শেয়ারের বর্তমান দাম) ওপর আপনি কত শতাংশ ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন, সেটাই হলো Dividend Yield। ভালো ডিভিডেন্ড হিস্ট্রি থাকা কোম্পানি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৬. Debt (ঋণ)

কোম্পানির ব্যাংক লোন বা অন্যান্য ঋণ কেমন, তা যাচাই করা। ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হলে (High Debt-to-Equity ratio) কোম্পানির ঝুঁকি বেশি থাকে।

সতর্কতা: এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও বিশ্লেষণমূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এটি কোনো শেয়ার কেনা বা বিক্রির পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজস্ব যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত পেশাদারের পরামর্শ নিন।

Latest Price
Workspace
AI Desk
Profile