technical analysis
29 Aug, 2026
Technical Analysis কী? — একদম শুরু থেকে শেখার গাইড
আপনি যদি কখনো শেয়ারের চার্ট দেখে ভেবে থাকেন—“এই শেয়ারটি এখন বাড়বে নাকি কমবে?”, তাহলে Technical Analysis আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
Technical Analysis বা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস হলো শেয়ারের Price, Volume, Trend এবং চার্টের বিভিন্ন Price Pattern বিশ্লেষণ করে বাজারের সম্ভাব্য গতিপথ বোঝার একটি পদ্ধতি।
সহজ ভাষায় বললে—
শেয়ারের দাম কীভাবে চলছে, কোথায় থামছে, কোথা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ কেমন—এসব তথ্য চার্টের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করাই Technical Analysis।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
Technical Analysis ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারে না।
এটি আপনাকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। তাই Technical Analysis শেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “আগামীকাল দাম কত হবে” নিশ্চিতভাবে জানা নয়; বরং সম্ভাব্য ভালো ও খারাপ পরিস্থিতি আগে থেকে চিনতে শেখা।
Technical Analysis কেন শিখবেন?
ধরুন, আপনি DSE-তে একটি শেয়ার দেখলেন।
শেয়ারের বর্তমান মূল্য ১০০ টাকা।
এখন শুধু ১০০ টাকা দেখলে খুব বেশি কিছু বোঝা যায় না।
কিন্তু যদি আপনি দেখেন—
কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ছে
প্রতিবার কমলে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
আগের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি যাচ্ছে
দাম বাড়ার সময় Volume বাড়ছে
নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ Support আছে
ওপরে একটি গুরুত্বপূর্ণ Resistance আছে
তাহলে একই ১০০ টাকার শেয়ার সম্পর্কে আপনার ধারণা অনেক বেশি পরিষ্কার হবে।
এই তথ্যগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাই Technical Analysis শেখার মূল উদ্দেশ্য।
Technical Analysis-এর মূল ধারণা
Technical Analysis শেখার শুরুতে আপনাকে শত শত Indicator মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই।
বরং প্রথমে নিচের কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে:
Price → Volume → Trend → Support & Resistance → Candlestick → Pattern → Indicator
এই ধারাবাহিকতাটি মনে রাখুন।
কারণ একজন নতুন বিনিয়োগকারী যদি প্রথম দিনেই RSI, MACD, Bollinger Bands, Stochastic এবং আরও দশটি Indicator নিয়ে বসেন, তাহলে চার্ট বোঝার বদলে আরও বেশি বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রথমে দামের ভাষা বুঝতে হবে।
তারপর Indicator।
১. Price — শেয়ারের দাম
Technical Analysis-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো Price বা শেয়ারের দাম।
একটি শেয়ারের দাম প্রতিদিন একই থাকে না।
কখনো ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকলে দাম বাড়তে পারে।
আবার বিক্রেতাদের চাপ বেশি হলে দাম কমতে পারে।
এই দাম কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কোথায় গিয়ে থামছে এবং কোন দিকে এগোচ্ছে—এসবই Technical Analysis-এর মূল বিষয়।
উদাহরণ:
ধরুন একটি শেয়ার:
৯০ → ৯৫ → ১০০ → ১০৫ → ১১০
এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাচ্ছে।
অন্যদিকে:
১১০ → ১০৫ → ১০০ → ৯৫ → ৯০
এখানে দাম নিচের দিকে যাচ্ছে।
কিন্তু শুধু দুই-তিন দিনের দাম দেখে Trend নির্ধারণ করা উচিত নয়। সাধারণত পর্যাপ্ত সময়ের Price Movement দেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়।
২. Price Action — দাম কী বলছে?
Price Action হলো কোনো শেয়ারের অতীত ও বর্তমান মূল্য চলাচল বিশ্লেষণ করে বাজারের আচরণ বোঝার পদ্ধতি। DSEPlex Glossary-তেও Price Action-এর এই ধারণাটিই ব্যবহার করা হয়েছে।
Price Action — DSEPlex Glossary
সহজভাবে বললে—
চার্টে Indicator-এর আগে দাম কী করছে সেটি দেখা হলো Price Action-এর মূল ধারণা।
Price Action বিশ্লেষণের সময় আমরা দেখতে পারি:
দাম কোথা থেকে উঠছে
কোথায় গিয়ে থামছে
আগের উচ্চতা ভাঙছে কি না
আগের নিম্নতা ভাঙছে কি না
ক্রেতা নাকি বিক্রেতা বেশি শক্তিশালী
দাম দ্রুত নাকি ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে Price Action আরও বিস্তারিতভাবে শেখানো হবে।
৩. Trend — শেয়ার কোন দিকে যাচ্ছে?
কোনো শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়।
Trend — DSEPlex Glossary
সাধারণভাবে তিন ধরনের Trend দেখা যায়:
Uptrend
দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাওয়ার প্রবণতা।
উদাহরণ:
১০০ → ১০৫ → ১০৩ → ১১০ → ১০৮ → ১১৫
এখানে প্রতিটি বড় ওঠার পর দাম আগের তুলনায় আরও ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
Technical Analysis-এ Uptrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Higher High এবং Higher Low দেখা যায়।
Downtrend
দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাওয়ার প্রবণতা।
উদাহরণ:
১২০ → ১১৫ → ১১৭ → ১০৮ → ১১১ → ১০২
এখানে দাম নতুন নতুন নিম্ন পর্যায় তৈরি করছে।
Downtrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Lower High এবং Lower Low দেখা যেতে পারে।
Sideways Trend
দাম একটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে ওঠানামা করছে।
উদাহরণ:
১০০ → ১০৫ → ১০২ → ১০৭ → ১০৩ → ১০৬
দাম খুব পরিষ্কারভাবে ওপরে বা নিচে যাচ্ছে না।
এই ধরনের বাজারকে অনেক সময় Sideways বা Range-bound Market বলা হয়।
৪. Volume — আসলে কতটা লেনদেন হচ্ছে?
Volume হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে। DSEPlex Glossary-তে Volume-কে ঠিক এইভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
Volume — DSEPlex Glossary
ধরুন, কোনো শেয়ারের দাম আজ ৫% বেড়েছে।
শুধু দাম দেখে আপনি বলতে পারেন—
“শেয়ারটির দাম বেড়েছে।”
কিন্তু Volume দেখলে আরও একটি প্রশ্ন করা যায়—
এই মূল্যবৃদ্ধির সময় বাজারে অংশগ্রহণ কতটা ছিল?
যদি দাম বাড়ার সঙ্গে Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে বাজারে অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
আবার দাম বাড়লেও Volume খুব দুর্বল হলে সেটিকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তবে মনে রাখবেন:
Volume একা কোনো শেয়ারের ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে না।
Price এবং Volume একসঙ্গে বিশ্লেষণ করাই বেশি কার্যকর।
৫. Support — কোথায় এসে দাম থামতে পারে?
ধরুন একটি শেয়ারের দাম:
১২০ → ১১০ → ১০২ → ১০০ → ১০৫ → ১১২
এরপর আবার:
১১২ → ১০৪ → ১০০ → ১০৬
দেখা যাচ্ছে, শেয়ারটি ১০০ টাকার আশেপাশে এসে বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
এই ধরনের মূল্যাঞ্চলকে Support হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
DSEPlex Glossary অনুযায়ী, Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে অতীতে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
Support — DSEPlex Glossary
সহজভাবে মনে রাখুন:
Support = নিচের দিকে সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহের অঞ্চল।
তবে Support কোনো পাকা দেয়াল নয়।
বিক্রির চাপ অনেক বেশি হলে Support ভেঙে যেতে পারে।
৬. Resistance — কোথায় গিয়ে বিক্রির চাপ আসতে পারে?
এবার উল্টো উদাহরণ দেখি।
একটি শেয়ারের দাম:
১০০ → ১১০ → ১২০ → ১১৫ → ১২২ → ১১৮
যদি দেখা যায় ১২০–১২২ টাকার আশেপাশে বারবার দাম আটকে যাচ্ছে, তাহলে ওই অঞ্চলটি সম্ভাব্য Resistance হতে পারে।
সহজভাবে মনে রাখুন:
Resistance = ওপরের দিকে সম্ভাব্য বিক্রির চাপের অঞ্চল।
Support ও Resistance একসঙ্গে বোঝা Technical Analysis শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। DSEPlex Glossary-তে এ দুটিকে Price Movement, Breakout এবং সম্ভাব্য Reversal বোঝার গুরুত্বপূর্ণ Technical ধারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
Support & Resistance — DSEPlex Glossary
৭. Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া
ধরুন একটি শেয়ারের Resistance ১৫০ টাকা।
শেয়ারটি কয়েকবার ১৫০ টাকার কাছে গিয়ে নিচে নেমেছে।
এরপর একদিন দাম ১৫০ টাকার ওপরে চলে গেল।
এটিকে Breakout হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
DSEPlex Glossary অনুযায়ী, কোনো শেয়ারের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ Support বা Resistance অতিক্রম করে নতুন মূল্যপরিসরে প্রবেশ করলে তাকে Breakout বলা হয়।
Breakout — DSEPlex Glossary
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে।
প্রতিটি Breakout সফল হয় না।
কখনো দাম Resistance-এর ওপরে গেলেও আবার দ্রুত নিচে ফিরে আসে।
এটিকে False Breakout বলা হয়। DSEPlex Glossary-তেও False Breakout-এর জন্য আলাদা শব্দকোষ পেজ রয়েছে।
False Breakout — DSEPlex Glossary
তাই Breakout দেখলেই চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৮. Breakdown — Support ভেঙে নিচে যাওয়া
Breakout-এর বিপরীত দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Breakdown।
যদি কোনো শেয়ারের দাম গুরুত্বপূর্ণ Support-এর নিচে চলে যায়, তাকে Breakdown বলা হয়।
Breakdown — DSEPlex Glossary
উদাহরণ:
Support = ১০০ টাকা
দাম:
১০৫ → ১০২ → ১০০ → ৯৮ → ৯৫
যদি ১০০ টাকার Support গুরুত্বপূর্ণভাবে ভেঙে যায়, তাহলে এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেত হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে এখানেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
দাম সাময়িকভাবে Support-এর নিচে গিয়ে আবার ওপরে ফিরে আসতে পারে।
৯. Candlestick — চার্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা
Technical Analysis শেখার সময় খুব দ্রুত আপনি Candlestick শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হবেন।
Candlestick নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্যকে একটি দৃশ্যমান আকারে দেখায়। DSEPlex Glossary-তেও Candlestick-এর সংজ্ঞা এভাবেই দেওয়া হয়েছে।
Candlestick — DSEPlex Glossary
একটি Candlestick দেখে আমরা জানতে পারি:
কোথায় Open হয়েছে
দিনের সর্বোচ্চ দাম কত ছিল
দিনের সর্বনিম্ন দাম কত ছিল
কোথায় Close হয়েছে
ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কার চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা পুরোপুরি Candlestick শেখার জন্য আলাদা পাঠ করব।
Technical Analysis কি শুধু ট্রেডারদের জন্য?
শুধু স্বল্পমেয়াদি Trader-দের জন্য নয়।
একজন দীর্ঘমেয়াদি Investor-ও Technical Analysis ব্যবহার করতে পারেন।
যেমন:
কোনো কোম্পানির Fundamental Analysis করে আপনি মনে করলেন কোম্পানিটি ভালো।
কিন্তু শেয়ারটির দাম বর্তমানে খুব দ্রুত বেড়ে গেছে।
তখন Technical Analysis ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারেন—
বর্তমান দাম কোথায়
Support কোথায়
Resistance কোথায়
Trend কেমন
দাম অতিরিক্ত দ্রুত বেড়েছে কি না
সম্ভাব্য Entry কোথায় হতে পারে
অর্থাৎ Fundamental Analysis আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, আর Technical Analysis আপনাকে মূল্যের আচরণ ও সম্ভাব্য Entry/Exit অঞ্চল বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
Technical Analysis বনাম Fundamental Analysis
একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝি।
ধরুন আপনি একটি কোম্পানি বিশ্লেষণ করছেন।
Fundamental Analysis-এ আপনি দেখতে পারেন:
EPS
Revenue
Profit
Debt
Dividend
NAV
P/E
যেমন, EPS কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে তা বোঝায়। DSEPlex-এর EPS Glossary-তেও এটিকে Fundamental Analysis-এর গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
EPS — DSEPlex Glossary
অন্যদিকে Technical Analysis-এ আপনি দেখবেন:
Price
Volume
Trend
Support
Resistance
Candlestick
Pattern
Indicator
অর্থাৎ একটি কোম্পানিকে বোঝার জন্য Fundamental এবং Technical—দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
DSE-তে Technical Analysis শেখার সময় কী দেখবেন?
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে Technical Analysis শেখার সময় বাস্তব DSE ডেটার সঙ্গে অনুশীলন করা সবচেয়ে ভালো।
DSEPlex-এর Advanced Chart-এ শেয়ারের Price, Volume, Open, High, Low এবং বিভিন্ন Technical Indicator দেখা যায়।
DSEPlex Advanced Chart
উদাহরণ হিসেবে কোনো শেয়ারের চার্ট খুলে প্রথমে শুধু এই পাঁচটি প্রশ্ন করুন:
১. দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
২. Trend পরিষ্কার কি না?
৩. Support কোথায়?
৪. Resistance কোথায়?
৫. Volume কী বলছে?
এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই আপনার Technical Analysis শেখার প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়ে যাবে।
নতুনরা যে ভুলগুলো করবেন না
ভুল ১ — প্রথম দিনেই ১০টি Indicator ব্যবহার করা
এটি করবেন না।
প্রথমে Price এবং Chart বুঝুন।
ভুল ২ — RSI দেখেই শেয়ার কেনা
RSI একটি Indicator। এটি একা Buy বা Sell-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ভুল ৩ — Support মানেই দাম অবশ্যই বাড়বে
না।
Support ভেঙে যেতে পারে।
ভুল ৪ — Resistance মানেই দাম অবশ্যই কমবে
না।
Resistance ভেঙে দাম আরও ওপরে যেতে পারে।
ভুল ৫ — Breakout দেখেই দৌড়ে কেনা
Breakout-এর পর False Breakout হতে পারে।
Volume এবং Price Behaviour-ও দেখতে হবে।
ভুল ৬ — শুধু একটি দিনের চার্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
এক দিনের পরিবর্তন দিয়ে পুরো Trend বোঝা সবসময় সম্ভব নয়।
বিভিন্ন সময়সীমার চার্ট দেখা প্রয়োজন হতে পারে।
একটি সহজ Technical Analysis Checklist
কোনো শেয়ার প্রথমবার দেখলে এই ক্রমে বিশ্লেষণ করার অভ্যাস করুন:
ধাপ ১
Price দেখুন
বর্তমান দাম কোথায়?
ধাপ ২
Trend দেখুন
Uptrend, Downtrend নাকি Sideways?
ধাপ ৩
Support দেখুন
দামের নিচে গুরুত্বপূর্ণ Support কোথায়?
ধাপ ৪
Resistance দেখুন
দামের ওপরে গুরুত্বপূর্ণ Resistance কোথায়?
ধাপ ৫
Volume দেখুন
মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে Volume কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে?
ধাপ ৬
Candlestick দেখুন
সাম্প্রতিক Candle কী ধরনের Price Behaviour দেখাচ্ছে?
ধাপ ৭
তারপর Indicator ব্যবহার করুন
প্রয়োজন অনুযায়ী RSI, Moving Average, MACD বা অন্য Indicator ব্যবহার করুন।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আজ যদি আপনি শুধু নিচের বিষয়গুলো বুঝতে পারেন, তাহলে এই অধ্যায় সফলভাবে শেষ করেছেন:
Price — দাম কী করছে?
Price Action — দাম কীভাবে আচরণ করছে?
Trend — দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
Volume — কতটা লেনদেন হচ্ছে?
Support — নিচে কোথায় ক্রেতার আগ্রহ দেখা যেতে পারে?
Resistance — ওপরে কোথায় বিক্রির চাপ দেখা যেতে পারে?
Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া।
Breakdown — গুরুত্বপূর্ণ Support ভেঙে নিচে যাওয়া।
Candlestick — নির্দিষ্ট সময়ের Price Movement-এর দৃশ্যমান রূপ।
মনে রাখার সহজ সূত্র
Technical Analysis-কে আপাতত এইভাবে মনে রাখুন:
দাম কী করছে?
↓
কোন দিকে যাচ্ছে?
↓
কোথায় Support?
↓
কোথায় Resistance?
↓
Volume কী বলছে?
↓
Candlestick কী দেখাচ্ছে?
↓
তারপর Indicator দিয়ে আরও যাচাই।
পরবর্তী অধ্যায়
অধ্যায় ২: চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা একদম শূন্য থেকে শিখব—
Chart কী
Chart কেন ব্যবহার করা হয়
Line Chart
Bar Chart
Candlestick Chart
Open, High, Low, Close
Timeframe কী
দৈনিক Chart কী
সাপ্তাহিক Chart কী
মাসিক Chart কী
DSE শেয়ারের Chart কীভাবে পড়বেন
Chart দেখার সময় কোন তথ্য আগে দেখবেন
এরপর আমরা ধাপে ধাপে Candlestick → Trend → Support & Resistance → Volume → Trendline → Chart Pattern → Moving Average → RSI → MACD → Advanced Technical Analysis → Trading Strategy → Risk Management পর্যন্ত যাব।
257
13
পড়ুন →
getting started
07 Oct, 2026
DSEPlex-এ স্বাগতম: কীভাবে ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলবেন এবং ব্যবহার শুরু করবেন?
শেয়ার বাজারে সফল হওয়ার জন্য সঠিক তথ্য এবং এনালাইসিস টুলস থাকা অত্যন্ত জরুরি। DSEPlex হলো বাংলাদেশের শেয়ার বাজার (DSE) ভিত্তিক একটি আধুনিক এবং সম্পূর্ণ ডেটা-ড্রিভেন প্ল্যাটফর্ম, যা সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ট্রেডার—সবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
আপনি যদি DSEPlex-এ নতুন হয়ে থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। চলুন জেনে নিই কীভাবে আপনি প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হবেন এবং এর সুবিধাগুলো নেওয়া শুরু করবেন।
DSEPlex কেন ব্যবহার করবেন? DSEPlex-এ আপনি কেবল শেয়ারের সর্বশেষ দামই দেখতে পাবেন না, বরং এখানে রয়েছে:
Advanced Charting: প্রফেশনাল টেকনিক্যাল এনালাইসিসের জন্য।
AI Tools: মার্কেট স্ক্যান এবং ইনসাইট পাওয়ার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাপোর্ট।
Virtual Portfolio: কোনো ঝুঁকি ছাড়াই রিয়েল-টাইম ডেটায় ট্রেডিং প্র্যাকটিস করার সুবিধা।
Advanced Screener: নিজের পছন্দমতো ফিল্টার বসিয়ে শেয়ার খুঁজে বের করার টুল।
কীভাবে DSEPlex-এ অ্যাকাউন্ট খুলবেন?
প্ল্যাটফর্মটির বেশিরভাগ ফিচার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, Virtual Portfolio, AI Tools-এর মতো প্রিমিয়াম এবং পার্সোনালাইজড ফিচারগুলো ব্যবহার করার জন্য আপনার একটি অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ:
Sign In পেজে যান: ওয়েবসাইটের ওপরের ডানদিকে থাকা "Sign In" বাটনে ক্লিক করুন।
রেজিস্ট্রেশন: আপনি যদি নতুন ব্যবহারকারী হন, তবে 'Create an account' বা 'Sign Up' অপশনে ক্লিক করুন।
তথ্য প্রদান: আপনার নাম, ইমেইল অ্যাড্রেস এবং একটি সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন। চাইলে খুব সহজেই Google অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও (One-tap login) সরাসরি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।
ইমেইল ভেরিফিকেশন: আপনার দেওয়া ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিঙ্ক যেতে পারে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। সেখানে ক্লিক করে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করে নিন।
লগইন করার পর আপনার প্রথম কাজ কী হবে?
অ্যাকাউন্ট খোলার পর আপনি যখন DSEPlex-এ লগইন করবেন, তখন প্রথমেই ড্যাশবোর্ডটি একটু ঘুরে দেখুন।
ওয়েবসাইটের বাম পাশের মেনুবার থেকে 'Latest Price'-এ গিয়ে আজকের বাজারের অবস্থা দেখে নিতে পারেন।
আপনার পছন্দের শেয়ারগুলো আলাদা করে নজরে রাখার জন্য সেগুলোকে Watchlist বা Virtual Portfolio-তে অ্যাড করে রাখতে পারেন।
মার্কেট সম্পর্কে কোনো শব্দ বুঝতে অসুবিধা হলে আমাদের Academy এবং Glossary সেকশনের সাহায্য নিতে পারেন।
DSEPlex-এর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যেন যে কেউ খুব সহজেই ডেটাগুলো বুঝতে পারে। পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা জানবো "DSEPlex ড্যাশবোর্ড"-এর কোন অংশে কী আছে এবং তা কীভাবে পড়তে হয়।
11
পড়ুন →
getting started
07 Oct, 2026
DSEPlex ড্যাশবোর্ড পরিচিতি: এক নজরে বাজারের সামগ্রিক অবস্থা কীভাবে বুঝবেন?
শেয়ার বাজারে প্রতিদিন লেনদেন শুরুর পর মুহূর্তের মধ্যেই অনেক কিছু পরিবর্তিত হতে থাকে। দাম বাড়ছে নাকি কমছে, সূচকের অবস্থা কী, বা কোন শেয়ারটি আজ বেশি লেনদেন হচ্ছে—এই সব তথ্য আলাদা আলাদাভাবে খুঁজে বের করা বেশ সময়সাপেক্ষ।
বিনিয়োগকারীদের এই সময় বাঁচাতে এবং পুরো বাজারের একটি পরিষ্কার চিত্র চোখের সামনে তুলে ধরতে DSEPlex-এর ড্যাশবোর্ড বা হোমপেজটিকে সাজানো হয়েছে অত্যন্ত গোছানোভাবে। চলুন জেনে নিই, লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে আপনি কী কী দেখতে পাবেন।
১. মার্কেট ইনডেক্স বা সূচক (Market Index) ড্যাশবোর্ডের একদম ওপরের দিকেই আপনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকগুলোর (DSEX, DSES, DS30) লাইভ আপডেট দেখতে পাবেন।
মার্কেট কি আজ পজিটিভ নাকি নেগেটিভ?
সূচক কত পয়েন্ট বাড়ল বা কমল? সবকিছু এখানে সবুজ (বাড়লে) এবং লাল (কমলে) রংয়ের মাধ্যমে হাইলাইট করা থাকে, যা এক নজরেই বাজারের বর্তমান অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে।
২. মার্কেট স্ট্যাটাস (Market Status) মার্কেট বর্তমানে ওপেন আছে, নাকি ক্লোজ হয়ে গেছে, সেটি আপনি ড্যাশবোর্ড থেকেই দেখতে পারবেন। এছাড়া মোট কত টাকার ট্রেড (Total Trade Value) বা লেনদেন হয়েছে, তার রিয়েল-টাইম আপডেট এখানে থাকে।
৩. সাইডবার মেনু (Navigation Menu) আপনার স্ক্রিনের বাঁ দিকে একটি বিস্তারিত নেভিগেশন মেনু রয়েছে। এটি আপনার DSEPlex ব্যবহারের প্রধান রিমোট কন্ট্রোল! এখান থেকেই আপনি এক ক্লিকে চলে যেতে পারবেন:
Latest Price বা Price Board-এ।
Advanced Chart বা Screener-এ।
আপনার নিজস্ব Virtual Portfolio-তে।
এমনকি আমাদের অত্যাধুনিক AI Tools সেকশনগুলোতে।
৪. কুইক মার্কেট ওভারভিউ (Top Movers & Volume) ড্যাশবোর্ডের নিচের দিকে স্ক্রল করলেই আপনি আজকের দিনের টপ গেইনার (যাদের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে), টপ লুজার (যাদের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে) এবং ভলিউম লিডারদের (যাদের শেয়ার সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হচ্ছে) তালিকা দেখতে পাবেন। এর মাধ্যমে বাজারের ট্রেন্ড কোনদিকে যাচ্ছে, তা খুব দ্রুত ক্যাচ করা সম্ভব।
কীভাবে ড্যাশবোর্ড আপনার ট্রেডিংয়ে সাহায্য করবে? একজন স্মার্ট বিনিয়োগকারী কখনোই শুধু একটি শেয়ারের দিকে তাকিয়ে থাকেন না; তিনি প্রথমে বাজারের সামগ্রিক সেন্টিমেন্ট বোঝার চেষ্টা করেন। DSEPlex-এর ড্যাশবোর্ড প্রতিদিন সকালে ট্রেডিং শুরুর পর আপনাকে সেই "বিগ পিকচার" বা সামগ্রিক চিত্রটা দিতে সাহায্য করে।
ড্যাশবোর্ডে বাজারের হালচাল দেখার পর, আমাদের পরবর্তী কাজ হবে নির্দিষ্ট শেয়ারের দাম দেখা। পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা শিখবো— Latest Price এবং Price Board ব্যবহার করে কীভাবে লাইভ মার্কেটে শেয়ারের দাম মনিটর করতে হয়।
11
পড়ুন →
getting started
07 Oct, 2026
DSEPlex মোবাইল ভিউ এবং প্রোফাইল সেটিংস: যেকোনো জায়গা থেকে কীভাবে বাজার মনিটর করবেন?
কর্মব্যস্ত জীবনে সবসময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে বসে শেয়ার বাজার মনিটর করা সম্ভব হয় না। আপনি হয়তো অফিসে আছেন, ট্রাফিক জ্যামে বসে আছেন, বা ঢাকার বাইরে কোথাও ভ্রমণে আছেন—এমন সময় মার্কেটের একটি বড় মুভমেন্ট মিস হয়ে গেলে আফসোসের সীমা থাকে না।
আপনার এই সমস্যার সমাধান দিতে DSEPlex-কে তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ মোবাইল-বান্ধব (Mobile-responsive) হিসেবে।
DSEPlex অ্যাপ ইনস্টল (PWA) আপনাকে প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে আলাদা কোনো ভারী অ্যাপ নামানোর প্রয়োজন নেই। DSEPlex হলো একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA)।
আপনি মোবাইল ব্রাউজার (Google Chrome বা Safari) থেকে dseplex.com-এ প্রবেশ করলেই মেনুর একদম ওপরে "Install DsePlex App" বা "Add to Home Screen" নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন।
এটিতে ক্লিক করলেই DSEPlex একটি অ্যাপের মতো আপনার মোবাইলের হোমস্ক্রিনে ইনস্টল হয়ে যাবে। এরপর থেকে এক ক্লিকেই, স্ক্রিনের পুরোটা জুড়ে অত্যন্ত ফাস্ট এবং স্মুথভাবে আপনি মার্কেট মনিটর করতে পারবেন।
প্রোফাইল ও বেসিক সেটিংস আপনার DSEPlex অভিজ্ঞতাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে প্রোফাইল সেটিংস ব্যবহার করতে পারেন।
লগইন করার পর ওয়েবসাইটের ওপরের ডানদিকে আপনার প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করুন।
এখান থেকে আপনি আপনার নাম পরিবর্তন, পাসওয়ার্ড আপডেট এবং অন্যান্য পার্সোনাল সেটিংস ম্যানেজ করতে পারবেন।
ড্যাশবোর্ড এবং চার্টগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা মোবাইলের ছোট স্ক্রিনেও খুব সুন্দরভাবে মানিয়ে যায় এবং চোখের ওপর কোনো চাপ ফেলে না (Dark Theme)।
পরবর্তী ধাপে আপনাকে স্বাগতম! অভিনন্দন! এই ১২টি আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি সফলভাবে DSEPlex-এর বেসিক ফিচারগুলো ব্যবহার করা শিখে গেছেন। এখন আপনি অনায়াসেই মার্কেটের ডেটা দেখতে পারবেন, ভার্চুয়াল পোর্টফোলিও বানাতে পারবেন এবং লাইভ প্রাইস ট্র্যাক করতে পারবেন।
কিন্তু শেয়ার বাজারে সাধারণদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হলে আপনাকে প্রফেশনাল লেভেলের এনালাইসিস এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) সাহায্য নিতে হবে।
আমাদের পরবর্তী ক্যাটাগরি "DSEPlex Guide"-এ আমরা শিখবো কীভাবে Advanced Chart, Market Heatmap, এবং আমাদের অত্যাধুনিক AI Tools (AI Scanner, AI Wealth) ব্যবহার করে আপনি সেরা শেয়ারগুলো খুঁজে বের করবেন!
11
পড়ুন →
platform guide
07 Oct, 2026
Advanced Chart: DSEPlex-এ টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য চার্ট কীভাবে ব্যবহার করবেন?
"Getting Started" সিরিজে আমরা DSEPlex-এর বেসিক ফিচারগুলো সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা প্রবেশ করছি অ্যাডভান্সড লেভেলে! DSEPlex Guide-এর এই সিরিজে আমরা শিখবো কীভাবে প্রফেশনাল ট্রেডারদের মতো এনালাইসিস করতে হয়। আর টেকনিক্যাল এনালাইসিসের কথা উঠলেই সবার আগে যে জিনিসটি প্রয়োজন, তা হলো একটি শক্তিশালী চার্ট (Chart)।
শেয়ার বাজারে অতীত ডেটা বা প্রাইস হিস্ট্রি দেখে ভবিষ্যৎ দামের একটি সম্ভাব্য ধারণা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো চার্ট। DSEPlex-এ প্রফেশনাল ট্রেডারদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক Advanced Chart।
Advanced Chart-এ কী কী সুবিধা রয়েছে?
১. বিভিন্ন টাইমফ্রেম (Timeframes): ডে-ট্রেডিং বা লং-টার্ম ইনভেস্টমেন্ট—আপনার স্ট্র্যাটেজি যাই হোক না কেন, এখানে আপনি ১ মিনিট, ৫ মিনিট, ১ দিন (1D), ১ সপ্তাহ (1W) বা ১ মাসের (1M) টাইমফ্রেমে শেয়ারের দামের ওঠানামা দেখতে পারবেন।
২. ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন (Candlesticks): সাধারণ লাইন চার্টের বদলে এখানে ডিফল্টভাবে 'ক্যান্ডেলস্টিক' চার্ট দেওয়া থাকে। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোনো নির্দিষ্ট দিনে শেয়ারের Open, High, Low এবং Close প্রাইস কত ছিল এবং বাজারে ক্রেতা নাকি বিক্রেতার জোর বেশি ছিল।
৩. পাওয়ারফুল ইন্ডিকেটরস (Indicators): Advanced Chart-এ শত শত টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর বিল্ট-ইন রয়েছে। চার্টের ওপরের মেনু থেকে 'Indicators'-এ ক্লিক করে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় RSI, MACD, Moving Average, Bollinger Bands-এর মতো জনপ্রিয় সব টুল অ্যাড করে নিতে পারবেন।
৪. ড্রয়িং টুলস (Drawing Tools): সাপোর্ট-রেজিস্ট্যান্স (Support & Resistance) আঁকা কিংবা ট্রেন্ডলাইন (Trendline) টানার জন্য চার্টের বাঁ পাশে রয়েছে চমৎকার সব ড্রয়িং টুলস। এছাড়া ফিবোনাচি (Fibonacci) বা বিভিন্ন চার্ট প্যাটার্ন আঁকার সব সুবিধাও এখানে রয়েছে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন? খুবই সহজ! DSEPlex-এর সাইডবার মেনু থেকে সরাসরি 'Adv. Chart'-এ ক্লিক করুন। এরপর ওপরের সার্চ বক্সে আপনার পছন্দের শেয়ারের নাম লিখলেই তার বিস্তারিত চার্ট আপনার সামনে ওপেন হয়ে যাবে। আপনি চাইলে আপনার এনালাইসিস সেভ (Save) করেও রাখতে পারবেন, যাতে পরবর্তীতে আবার নতুন করে আঁকতে না হয়।
একটি শেয়ারের চার্ট তো দেখলেন, কিন্তু আপনি যদি একসাথে একাধিক শেয়ারের চার্ট পাশাপাশি রেখে তুলনা করতে চান?
পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা শিখবো— Multi Chart: একসাথে একাধিক শেয়ারের চার্ট কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
3
পড়ুন →
Featured
platform guide
07 Oct, 2026
Market Anomalies: বাজারে অস্বাভাবিক দাম বা ভলিউম পরিবর্তন কীভাবে ধরবেন?
শেয়ার বাজারে সাধারণত দাম বাড়ে ভালো কোনো খবর এলে, আর দাম কমে খারাপ কোনো খবরে। কিন্তু ধরুন, কোনো কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল তেমন ভালো নয় এবং কোনো পজিটিভ খবরও নেই, তবুও হঠাৎ করে শেয়ারটির লেনদেন (Volume) গত এক মাসের গড়ের চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে গেলো!
কিংবা কোনো শেয়ারের দাম কোনো কারণ ছাড়াই টানা কয়েকদিন ধরে শুধু সার্কিট ব্রেক করে বাড়ছে। বাজারের এই ধরনের অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক আচরণকে বলা হয় 'Market Anomalies' (মার্কেট অ্যানোম্যালিস)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ৪০০টি শেয়ারের মধ্যে এই অস্বাভাবিক আচরণগুলো খালি চোখে ধরা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু DSEPlex-এর Market Anomalies টুলের সাহায্যে আপনি মুহূর্তেই এগুলো ধরে ফেলতে পারবেন।
অ্যানোম্যালিস (Anomalies) ধরা কেন জরুরি? অস্বাভাবিক ভলিউম বা দামের পরিবর্তন সাধারণত ইঙ্গিত দেয় যে 'স্মার্ট মানি' বা বড় কোনো বিনিয়োগকারী চক্র (Syndicate) নিঃশব্দে শেয়ারটি কিনছে (Accumulation) অথবা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে গুছিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে (Distribution)। আপনি যদি এই অস্বাভাবিক আচরণগুলো আগে থেকে ধরতে পারেন, তবে আপনি তাদের ফাঁদে পা দেওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারবেন অথবা সঠিক সময়ে এন্ট্রি নিয়ে লাভবান হতে পারবেন।
DSEPlex-এ Market Anomalies কীভাবে কাজ করে? আমাদের সিস্টেম সারাদিন পুরো মার্কেটকে স্ক্যান করে এবং গাণিতিক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অস্বাভাবিক শেয়ারগুলোকে আলাদা করে ফেলে। মেনু থেকে '🎯 Market Anomalies'-এ ক্লিক করলে আপনি মূলত দুটি জিনিস দেখতে পাবেন:
১. Volume Shockers (অস্বাভাবিক লেনদেন): যেসব শেয়ারের আজকের ভলিউম তাদের গত কয়েক সপ্তাহ বা মাসের গড় ভলিউমের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে অনেক বেশি। ২. Price Shockers (অস্বাভাবিক দামের পরিবর্তন): যেসব শেয়ারের দাম বাজারের স্বাভাবিক গতির চেয়ে খুব দ্রুত এবং অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বা কমছে।
কীভাবে ট্রেডে ব্যবহার করবেন? Anomalies পেজে কোনো শেয়ারের নাম দেখলেই সাথে সাথে সেটি কিনে ফেলা বা বিক্রি করা উচিত নয়। এটি মূলত আপনাকে একটি "সতর্ক সংকেত" বা "এলার্ট" দেয়। এই তালিকা থেকে শেয়ার বাছাই করে এরপর তার 'Advanced Chart' দেখুন। যদি দেখেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ 'রেজিস্ট্যান্স' ব্রেক করে এই অস্বাভাবিক ভলিউম তৈরি হয়েছে, তবে সেটি একটি ভালো এন্ট্রি পয়েন্ট হতে পারে।
মার্কেটের ডেটা এবং অ্যানোম্যালিস তো স্ক্যান করলেন, কিন্তু আপনি কি জানেন এই স্ক্যানিংয়ের কাজটিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI দিয়ে আরও নিখুঁত ও পাওয়ারফুল করা যায়?
পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা আমাদের সবচেয়ে অ্যাডভান্সড ফিচারগুলোর একটি নিয়ে আলোচনা শুরু করবো— AI Market Scanner: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কীভাবে স্টক স্ক্যান করবেন?
2
পড়ুন →