market basics
02 Sep, 2026
শেয়ার বাজার শেখার গাইড: একদম শুরু থেকে বিনিয়োগ বোঝার সহজ পথ
শেয়ার বাজারের নাম শুনলেই অনেকের মনে হয় এটি খুব কঠিন একটি বিষয়। চার্ট, DSEX, EPS, P/E Ratio, Dividend, Volume, Support, Resistance—এত ধরনের শব্দ দেখে একজন নতুন বিনিয়োগকারী সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে শেয়ার বাজার শেখার জন্য শুরুতেই অনেক কিছু জানার প্রয়োজন নেই। কিছু মৌলিক বিষয় ধারাবাহিকভাবে বুঝতে পারলেই ধীরে ধীরে বাজার, কোম্পানি এবং শেয়ারের আচরণ বোঝা সম্ভব।
এই গাইডটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের একদম নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য। এখানে আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে শেয়ার বাজার বোঝার চেষ্টা করব।
গুরুত্বপূর্ণ: এই গাইডটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কেনা বা বিক্রির পরামর্শ হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে নিজে যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ব্রোকার বা বিনিয়োগ পরামর্শকের সহায়তা নিন।
অধ্যায় ১: শেয়ার বাজার আসলে কী?
সহজ ভাষায়, শেয়ার বাজার হলো এমন একটি বাজার যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানার অংশ বা শেয়ার কেনাবেচা করা হয়।
ধরুন, একটি কোম্পানির মোট ১০ লাখ শেয়ার আছে। আপনি যদি সেই কোম্পানির ১,০০০টি শেয়ার কিনেন, তাহলে কোম্পানিটির খুব ছোট একটি অংশের মালিক আপনি হয়ে গেলেন।
এই কারণেই Share শুধু একটি কাগজ বা ট্রেডিংয়ের সংখ্যা নয়—এটি একটি ব্যবসার মালিকানার অংশ।
বাংলাদেশে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টক এক্সচেঞ্জ হলো:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)
DSE কী?
DSE বা Dhaka Stock Exchange হলো বাংলাদেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ, যেখানে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়।
DSEX কী?
DSEX হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজার সূচক। বাজারের অনেক শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার সামগ্রিক একটি ধারণা এই সূচক থেকে পাওয়া যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—DSEX বাড়লেই আপনার কেনা প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন নয়।
বাজারের সামগ্রিক অবস্থা এবং নির্দিষ্ট কোম্পানির অবস্থা আলাদা বিষয়।
অধ্যায় ২: শেয়ার কেনার আগে কী কী লাগবে?
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে শুধু টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন হয় একটি BO Account।
BO Account কী?
BO Account বা Beneficiary Owner Account হলো এমন একটি হিসাব যেখানে আপনার কেনা শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে:
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকে → BO Account-এ আপনার শেয়ার থাকে।
একজন নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য BO Account, Broker, Trading Account এবং টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি বিষয় হলো—শেয়ার বাজারে প্রবেশ করার আগে আপনার নিজের Investment Horizon এবং Risk Tolerance বোঝা দরকার।
Investment Horizon
আপনি কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, সেটিই Investment Horizon।
উদাহরণ:
কয়েক দিন → স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং
কয়েক মাস → মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগ
কয়েক বছর → দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
Risk Tolerance
বিনিয়োগের সময় আপনি কতটা মূল্য ওঠানামা বা সম্ভাব্য ক্ষতি গ্রহণ করতে পারবেন, সেটিই Risk Tolerance।
শুধু অন্য কেউ লাভ করেছে দেখে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার বাইরে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
অধ্যায় ৩: একটি শেয়ারের দাম কীভাবে ওঠানামা করে?
এটি শেয়ার বাজার বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
একটি শেয়ারের দাম মূলত বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর পরিবর্তিত হয়।
ধরুন:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ৫০ টাকা।
কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন শেয়ারটির দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, তাহলে তারা ৫০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে শেয়ার কিনতে আগ্রহী হতে পারেন।
অন্যদিকে, যদি অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রি করতে চান এবং ক্রেতা কম থাকে, তাহলে দাম কমার চাপ তৈরি হতে পারে।
এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
Bid Price
কোনো শেয়ার কেনার জন্য ক্রেতা যে দাম দিতে প্রস্তুত, সেটি Bid Price।
Ask Price
কোনো শেয়ার বিক্রি করার জন্য বিক্রেতা যে দাম গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটি Ask Price।
Bid-Ask Spread
সর্বোচ্চ Bid Price এবং সর্বনিম্ন Ask Price-এর পার্থক্যকে Bid-Ask Spread বলা হয়।
নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে এগুলো বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন কোনো শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে যাবেন, তখন এই শব্দগুলো নিয়মিত দেখতে পাবেন।
অধ্যায় ৪: Market Order ও Limit Order বুঝুন
শেয়ার কেনার সময় শুধু "কিনব" বললেই হয় না। আপনি কীভাবে অর্ডার দেবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি সাধারণ ধারণা হলো:
Market Order
বর্তমান বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম মূল্যে দ্রুত শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার অর্ডারকে Market Order বলা হয়।
Limit Order
আপনি একটি নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে শেয়ার কেনা বা বিক্রি করতে চাইলে Limit Order ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা।
আপনি ঠিক করলেন, ৯৫ টাকা হলে কিনবেন।
তাহলে ৯৫ টাকা Limit Price দিয়ে অর্ডার দিতে পারেন। বাজারে সেই দামে বিক্রেতা পাওয়া গেলে অর্ডারটি সম্পন্ন হতে পারে।
মনে রাখবেন: Limit Order দিলেই যে অর্ডার অবশ্যই সম্পন্ন হবে, তা নয়।
অধ্যায় ৫: LTP, Open, High, Low এবং Closing Price
একটি শেয়ারের দৈনিক বাজার তথ্য দেখতে গেলে কিছু সাধারণ শব্দ নিয়মিত চোখে পড়বে।
LTP
LTP বা Last Traded Price হলো সর্বশেষ সম্পন্ন লেনদেন যে মূল্যে হয়েছে।
Opening Price
ট্রেডিং দিনের শুরুতে সম্পন্ন হওয়া প্রথম লেনদেনের মূল্যকে Opening Price বলা হয়।
Day High
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day High।
Day Low
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বনিম্ন যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day Low।
Closing Price
ট্রেডিং দিনের শেষে ব্যবহৃত সমাপনী মূল্যকে Closing Price বলা হয়।
এই তথ্যগুলো একটি শেয়ারের দৈনিক আচরণ বোঝার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে।
অধ্যায় ৬: Volume কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু শেয়ারের দাম দেখলে অনেক সময় পুরো ছবি পাওয়া যায় না।
এর সঙ্গে Volume দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
Volume বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে তা বোঝায়।
ধরুন, একটি শেয়ারের দাম ১০০ টাকা থেকে ১০৫ টাকা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এই মূল্যবৃদ্ধির সময় কত শেয়ার লেনদেন হয়েছে?
যদি Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে সেই মূল্য পরিবর্তনের পেছনে বাজারে তুলনামূলক বেশি অংশগ্রহণ ছিল কি না, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করা যায়।
তবে Volume বেশি হলেই শেয়ার ভালো বা দাম আরও বাড়বেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
Volume-কে সবসময় Price Movement, কোম্পানির তথ্য এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
অধ্যায় ৭: Trend, Support এবং Resistance
শেয়ার বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:
"দাম এখন কোন দিকে যাচ্ছে?"
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Trend দেখা হয়।
Trend
একটি নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের দাম সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়।
সাধারণভাবে Trend তিন ধরনের হতে পারে:
Uptrend — দাম ধীরে ধীরে উচ্চতর পর্যায়ে যাচ্ছে
Downtrend — দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাচ্ছে
Sideways — দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে
Support
Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে কোনো শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
Resistance
Resistance হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে বিক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার বারবার ৫০ টাকার কাছাকাছি এসে নিচে নেমে যায় এবং ৪০ টাকার কাছাকাছি এসে আবার ক্রেতা পায়।
তাহলে ৪০ টাকা একটি সম্ভাব্য Support এবং ৫০ টাকা একটি সম্ভাব্য Resistance হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে Support বা Resistance কোনো গ্যারান্টি নয়। বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এগুলো ভেঙেও যেতে পারে।
অধ্যায় ৮: Breakout, Breakdown এবং Pullback
Support ও Resistance বোঝার পর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সামনে আসে।
Breakout
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Resistance স্তর অতিক্রম করে শেয়ার নতুন মূল্যপরিসরে গেলে তাকে Breakout বলা হয়।
Breakdown
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Support স্তরের নিচে শেয়ার নেমে গেলে তাকে Breakdown বলা হয়।
Pullback
একটি Trend চলার সময় বিপরীত দিকে শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা ফিরে এলে তাকে Pullback বলা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠল। এরপর কিছু সময়ের জন্য ৫৭ টাকায় নেমে আবার বাড়তে শুরু করল।
এই ধরনের সাময়িক ফিরে আসাকে Pullback হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
আবার Breakout-এর পর দাম দ্রুত আগের জায়গায় ফিরে এলে সেটি False Breakout হতে পারে।
তাই শুধু "Breakout হয়েছে" দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। Price, Volume এবং সামগ্রিক Trend একসঙ্গে দেখা দরকার।
অধ্যায় ৯: কোম্পানি ভালো কিনা কীভাবে বুঝবেন?
এখানে আমরা Technical Analysis থেকে কিছুটা Fundamental Analysis-এর দিকে যাব।
শুধু শেয়ারের চার্ট দেখে একটি কোম্পানিকে ভালো বা খারাপ বলা যায় না।
একটি কোম্পানি বুঝতে হলে অন্তত কয়েকটি বিষয় দেখতে পারেন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
ROE
ROA
P/E Ratio
Book Value
Business Growth
Revenue
কোম্পানি তার ব্যবসা থেকে কত টাকার বিক্রি বা আয় করছে, সেটি Revenue।
Net Profit
সব প্রয়োজনীয় খরচ, ব্যয় ও কর বিবেচনার পর কোম্পানির যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই Net Profit।
EPS
EPS বা Earnings Per Share বোঝায় কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে।
উদাহরণ:
একটি কোম্পানির EPS যদি ৫ টাকা হয়, তাহলে প্রতি শেয়ারের হিসাবে কোম্পানির আয় ৫ টাকা—এমন একটি হিসাব পাওয়া যায়।
তবে শুধু EPS বেশি হলেই শেয়ার সস্তা বা ভালো—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
অধ্যায় ১০: P/E Ratio কী এবং কেন দেখা হয়?
P/E Ratio শেয়ার বাজারের অন্যতম পরিচিত একটি valuation metric।
সহজভাবে:
P/E = শেয়ারের বাজারমূল্য ÷ EPS
ধরুন:
শেয়ারের বাজারমূল্য = ১০০ টাকাEPS = ১০ টাকা
তাহলে P/E = ১০।
অর্থাৎ বাজারে শেয়ারটি তার প্রতি শেয়ারের আয়ের প্রায় ১০ গুণ মূল্যে লেনদেন করছে।
কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি নির্দিষ্ট P/E নিজে থেকে ভালো বা খারাপ নয়।
একটি কোম্পানির P/E অন্য কোম্পানির সঙ্গে, একই sector-এর সঙ্গে এবং কোম্পানির earnings growth-এর সঙ্গে তুলনা করে দেখা বেশি কার্যকর।
এজন্য P/E-এর পাশাপাশি Revenue Growth, EPS Growth, Debt, Profit Margin এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও দেখা উচিত।
অধ্যায় ১১: Dividend কী?
কোম্পানি তার মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করলে তাকে Dividend বা লভ্যাংশ বলা হয়।
Dividend সাধারণত দুইভাবে দেখা যেতে পারে:
Cash Dividend
Stock Dividend
Cash Dividend
যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের নগদ অর্থ হিসেবে Dividend দেওয়া হলে সেটি Cash Dividend।
Stock Dividend
নগদের পরিবর্তে অতিরিক্ত শেয়ার দেওয়া হলে সেটিকে Stock Dividend বলা হয়।
তবে Dividend ঘোষণা দেখেই কোনো শেয়ার কিনে ফেলা উচিত নয়।
একজন বিনিয়োগকারীর উচিত Dividend-এর পাশাপাশি কোম্পানির:
Profit
Cash Flow
Dividend History
Payout Ratio
Business Growth
ইত্যাদিও দেখা।
অধ্যায় ১২: Record Date এবং Ex-Dividend Date
Dividend-এর সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ প্রায়ই দেখা যায়।
Record Date
কোনো নির্দিষ্ট corporate benefit পাওয়ার জন্য কোন শেয়ারহোল্ডাররা যোগ্য, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত নির্ধারিত তারিখ হলো Record Date।
Ex-Dividend Date
কোন তারিখ থেকে শেয়ার কিনলে নির্দিষ্ট Dividend পাওয়ার যোগ্যতা প্রযোজ্য নাও হতে পারে, সেই তারিখকে Ex-Dividend Date বলা হয়।
এই বিষয়গুলো না বুঝে শুধু "Dividend দিচ্ছে" দেখে শেয়ার কেনা নতুন বিনিয়োগকারীদের একটি সাধারণ ভুল।
অধ্যায় ১৩: Portfolio কী?
একজন বিনিয়োগকারীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগের সমষ্টিকে Portfolio বলা হয়।
ধরুন আপনার কাছে:
Bank sector-এর ২টি শেয়ার
Pharmaceutical sector-এর ২টি শেয়ার
Textile sector-এর ১টি শেয়ার
আছে।
সবগুলো মিলিয়ে আপনার একটি Portfolio তৈরি হয়েছে।
Diversification
একটি মাত্র কোম্পানিতে সব টাকা না রেখে বিভিন্ন কোম্পানি বা খাতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়াকে Diversification বলা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বা sector-এর খারাপ পারফরম্যান্সের প্রভাব কিছুটা কমানো।
তবে অতিরিক্ত diversification করলেই ঝুঁকি শূন্য হয়ে যায় না।
অধ্যায় ১৪: Risk Management — লাভের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ
শেয়ার বাজারে নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শুধু লাভের কথা চিন্তা করা।
কিন্তু একজন ভালো বিনিয়োগকারী আগে চিন্তা করেন:
"আমি ভুল হলে কত টাকা হারাতে পারি?"
এখানেই Risk Management গুরুত্বপূর্ণ।
Position Size
একটি নির্দিষ্ট শেয়ার বা ট্রেডে আপনি কত টাকা বা কত শেয়ার বিনিয়োগ করছেন, সেটিই Position Size।
একটি শেয়ারে পুরো মূলধন ব্যবহার করার পরিবর্তে নিজের ঝুঁকি অনুযায়ী Position Size নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
Stop Loss
সম্ভাব্য ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য নির্ধারিত মূল্য বা বিক্রির ব্যবস্থা হলো Stop Loss।
Risk-Reward Ratio
কোনো ট্রেডে সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, সেটি Risk-Reward Ratio দিয়ে বোঝানো হয়।
উদাহরণ:
আপনি যদি একটি ট্রেডে সম্ভাব্য ২ টাকা ক্ষতির বিপরীতে ৬ টাকা লাভের সুযোগ খুঁজে থাকেন, তাহলে সম্ভাব্য Risk-Reward Ratio প্রায় 1:3।
তবে বাস্তবে বাজারে কোনো ফলাফল নিশ্চিত নয়।
অধ্যায় ১৫: Candlestick কী?
চার্টে শেয়ারের Price Movement বোঝার জন্য Candlestick বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
একটি Candlestick সাধারণত চারটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখায়:
Open
High
Low
Close
এই চারটি তথ্য দেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়।
নতুন বিনিয়োগকারীরা পরে ধীরে ধীরে Hammer, Doji, Engulfing Pattern, Shooting Star ইত্যাদি Candlestick Pattern শিখতে পারেন।
তবে শুধু একটি Candlestick Pattern দেখেই Buy বা Sell সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
অধ্যায় ১৬: Technical Indicator শেখা কখন শুরু করবেন?
নতুনদের একটি সাধারণ ভুল হলো শুরুতেই অনেক Indicator শেখার চেষ্টা করা।
RSI, MACD, Moving Average, Bollinger Bands, Stochastic—সব একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই।
প্রথমে এগুলো বুঝুন:
Price
Volume
Trend
Support
Resistance
এরপর ধীরে ধীরে Indicator যোগ করুন।
Moving Average
নির্দিষ্ট সময়ের শেয়ারের গড় মূল্য ব্যবহার করে Trend বোঝার একটি পদ্ধতি হলো Moving Average।
RSI
RSI বা Relative Strength Index শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্য পরিবর্তনের গতি ও শক্তি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
MACD
MACD শেয়ারের Trend ও Momentum বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
Indicator হলো বিশ্লেষণের সহায়ক উপকরণ—ভবিষ্যৎ দামের নিশ্চয়তা দেওয়ার যন্ত্র নয়।
অধ্যায় ১৭: DSE-তে একটি শেয়ার বিশ্লেষণের সহজ Checklist
একজন Beginner হিসেবে কোনো শেয়ার দেখার সময় নিচের checklist অনুসরণ করতে পারেন।
ধাপ ১ — কোম্পানিটি কী করে?
প্রথমে বুঝুন কোম্পানির মূল ব্যবসা কী।
ধাপ ২ — Revenue ও Profit দেখুন
কোম্পানির ব্যবসা বাড়ছে নাকি কমছে?
ধাপ ৩ — EPS দেখুন
EPS ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, কমছে নাকি অস্থির?
ধাপ ৪ — Debt দেখুন
কোম্পানির ঋণের পরিমাণ কত?
ধাপ ৫ — Cash Flow দেখুন
কোম্পানি বাস্তবে ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ তৈরি করতে পারছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
ধাপ ৬ — Dividend History দেখুন
কোম্পানি নিয়মিত Dividend দেয় কি না এবং সেই Dividend ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না দেখুন।
ধাপ ৭ — Valuation দেখুন
P/E, P/B Ratio ইত্যাদি একই sector-এর অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করুন।
ধাপ ৮ — Chart দেখুন
Trend, Support, Resistance ও Volume বিশ্লেষণ করুন।
ধাপ ৯ — Risk নির্ধারণ করুন
ভুল হলে আপনি কতটা ক্ষতি সহ্য করতে পারবেন?
ধাপ ১০ — তারপর সিদ্ধান্ত নিন
সবশেষে তথ্যগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
অধ্যায় ১৮: Beginner হিসেবে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
১. গুজব শুনে শেয়ার কেনা
"এই শেয়ার কাল বাড়বে"—এ ধরনের কথার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
২. অন্যের Portfolio কপি করা
অন্য একজন বিনিয়োগকারীর Risk Tolerance, Investment Horizon এবং Financial Situation আপনার মতো নাও হতে পারে।
৩. শুধু দাম কম দেখে শেয়ার কেনা
১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়েছে মানেই শেয়ারটি সস্তা—এমন নয়।
কোম্পানির Fundamental অবস্থা খারাপ হলে দাম আরও কমতে পারে।
৪. শুধু Dividend দেখে বিনিয়োগ করা
Dividend গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি কোম্পানি বিশ্লেষণের একমাত্র বিষয় নয়।
৫. সব টাকা একটি শেয়ারে দেওয়া
এতে একটি কোম্পানির খারাপ পারফরম্যান্স পুরো Portfolio-কে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. Stop Loss বা Risk Management না বোঝা
বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি আগে বোঝা জরুরি।
৭. প্রতিদিন Buy/Sell করা
প্রতিদিন ট্রেড করাই সফল বিনিয়োগের প্রমাণ নয়।
অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত হলো কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা।
অধ্যায় ১৯: Beginner থেকে Confident Investor হওয়ার Roadmap
শেয়ার বাজার শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধাপে ধাপে এগোনো।
Level 1 — Market Basics
প্রথমে শিখুন:
Share
DSE
DSEX
BO Account
Bid
Ask
LTP
Volume
Market Order
Limit Order
Level 2 — Company Basics
এরপর শিখুন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
Book Value
Level 3 — Valuation
তারপর শিখুন:
P/E Ratio
P/B Ratio
P/S Ratio
Dividend Yield
ROE
ROA
Level 4 — Technical Analysis
এরপর:
Trend
Support
Resistance
Breakout
Breakdown
Volume
Moving Average
RSI
MACD
Candlestick
Level 5 — Risk Management
সবশেষে গুরুত্ব দিন:
Position Size
Stop Loss
Risk-Reward Ratio
Diversification
Portfolio Management
এইভাবে এগোলে একসঙ্গে শত শত বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন হবে না।
অধ্যায় ২০: DsePlex Glossary কীভাবে ব্যবহার করবেন?
শেয়ার বাজার শেখার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নতুন নতুন শব্দ।
একদিন আপনি "EPS" দেখবেন, পরের দিন "P/E", তারপর "Free Float", "Market Capitalization", "Bid-Ask Spread", "Circuit Breaker"—এভাবে অনেক শব্দ সামনে আসবে।
প্রতিটি শব্দ মুখস্থ করার দরকার নেই।
বরং যখন কোনো শব্দ বুঝতে সমস্যা হবে, তখন DsePlex-এর শেয়ার বাজার শব্দকোষ (Glossary A-Z) ব্যবহার করুন।
Glossary-তে A থেকে Z পর্যন্ত শেয়ার বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখানে যেমন পাওয়া যাবে:
BO Account
Bid Price
Ask Price
Market Capitalization
DSE
DSEX
EPS
P/E Ratio
Dividend
Portfolio
Support
Resistance
RSI
Volume
Stop Loss
Trend
এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ Term
শেষ কথা: শেয়ার বাজার শেখা একটি Journey
শেয়ার বাজারে সফল হওয়ার জন্য একদিনে সবকিছু শেখার প্রয়োজন নেই।
বরং প্রথমে Market Basics বুঝুন। এরপর কোম্পানি কীভাবে কাজ করে তা শিখুন। তারপর Financial Statement, Valuation, Technical Analysis এবং Risk Management-এর দিকে এগিয়ে যান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে শিখুন, পরে টাকা বিনিয়োগ করুন।
কারণ শেয়ার বাজারে লাভ করার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনাও আছে।
একজন Beginner-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমে "কত টাকা লাভ করব" নয়, বরং:
"আমি কীভাবে বাজারটাকে ভালোভাবে বুঝতে পারি?"
যত বেশি আপনি Price, Volume, Company Fundamentals, Valuation এবং Risk Management বুঝবেন, তত বেশি সচেতনভাবে নিজের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
শেয়ার বাজার কোনো দ্রুত ধনী হওয়ার মেশিন নয়। এটি শেখা, বিশ্লেষণ, ধৈর্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
আজ যদি একদম শুরু করেন, তাহলে প্রথম কাজ হোক—Market Basics শেখা এবং যে শব্দগুলো বুঝছেন না সেগুলো DsePlex Glossary থেকে খুঁজে শেখা।
221
12
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
শেয়ারের দাম কীভাবে ওঠানামা করে? Bid, Ask ও Bid-Ask Spread-এর বিস্তারিত নির্দেশিকা
শেয়ারের দাম কেন প্রতি সেকেন্ডে পরিবর্তিত হয়? বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষি, Bid, Ask, Spread এবং Market Depth কীভাবে কাজ করে তার বাস্তব ও সহজ ব্যাখ্যা।
শেয়ার বাজারে কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্টক এক্সচেঞ্জ নিজে থেকে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর নির্ধারণ করে দেয় না। শেয়ারের দাম সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হয় মুক্ত বাজারের প্রধান নীতি—চাহিদা ও সরবরাহ (Demand and Supply) এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক দরকষাকষির ওপর ভিত্তি করে।
চাহিদা ও সরবরাহ কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করে?
একটি সাধারণ কাঁচাবাজারে যেভাবে দ্রব্যের দাম ওঠানামা করে, শেয়ার বাজারেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য।
চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম (দাম বৃদ্ধি): কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য যদি বহু বিনিয়োগকারী আগ্রহী থাকেন কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে বিক্রেতা কম থাকে, তাহলে শেয়ারটি পাওয়ার জন্য ক্রেতারা বেশি দাম দিতে রাজি হন। ফলে শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে।
সরবরাহ বেশি, চাহিদা কম (দাম হ্রাস): কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক খবর এলে বা বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে চাইলে অনেকে একসঙ্গে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করেন। ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ বেশি হলে শেয়ার দ্রুত বিক্রি করার জন্য বিক্রেতারা কম দামে রাজি হন, ফলে শেয়ারের দাম কমে যায়।
ট্রেডিং চলাকালীন মোবাইল অ্যাপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে যে দাম পরিবর্তন হতে দেখা যায়, তা মূলত ক্রেতা ও বিক্রেতার চলমান প্রস্তাবের ফলাফল।
Bid Price কী?
Bid Price হলো বাজারে কোনো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে শেয়ারটি কেনার জন্য ক্রেতা সর্বোচ্চ যে মূল্য দিতে ইচ্ছুক।
ধরুন, একটি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য একাধিক ক্রেতা বিভিন্ন দাম প্রস্তাব করেছেন:
ক্রেতা ক: ৪৯.৫০ টাকা
ক্রেতা খ: ৪৯.৮০ টাকা
ক্রেতা গ: ৫০.০০ টাকা
এখানে বাজারে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য হলো ৫০.০০ টাকা। ট্রেডিং স্ক্রিনে এই ৫০.০০ টাকাই হবে বর্তমান সর্বোচ্চ Bid Price। আপনি যদি তৎক্ষণাৎ শেয়ার বিক্রি করতে চান, তবে সর্বোচ্চ এই দামে বিক্রি করতে পারবেন।
Ask Price (বা Offer Price) কী?
Ask Price হলো বাজারে থাকা বিক্রেতা তার শেয়ার বিক্রি করার জন্য সর্বনিম্ন যে মূল্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
ধরুন, শেয়ারটির বিক্রেতারা বিভিন্ন দামে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন:
বিক্রেতা ১: ৫০.৫০ টাকা
বিক্রেতা ২: ৫০.৮০ টাকা
বিক্রেতা ৩: ৫১.০০ টাকা
এখানে বিক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি করতে রাজি বিক্রেতা ১ (৫০.৫০ টাকা)। এটিই হবে বর্তমান সর্বনিম্ন Ask Price। আপনি যদি তৎক্ষণাৎ বাজার থেকে শেয়ার কিনতে চান, তবে এই সর্বনিম্ন মূল্যে কিনতে হবে।
Bid-Ask Spread কী এবং এর গুরুত্ব কী?
বাজারে সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য (Bid) এবং সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্যের (Ask) মধ্যকার ব্যবধানকে Bid-Ask Spread বলা হয়।
$$\text{Bid-Ask Spread} = \text{Ask Price} - \text{Bid Price}$$
উপরের উদাহরণ অনুযায়ী:
Ask Price = ৫০.৫০ টাকা
Bid Price = ৫০.০০ টাকা
Spread = ০.৫০ টাকা
স্প্রেডের পরিমাণ দেখে বোঝা যায় বাজারে লেনদেনের তারল্য বা Liquidity কেমন:
ন্যারো স্প্রেড (Narrow Spread): যেসব শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, সেগুলোতে Bid এবং Ask-এর ব্যবধান খুব কম হয় (যেমন—১০ পয়সা বা ২০ পয়সা)। এতে বিনিয়োগকারী তাৎক্ষণিকভাবে ন্যায্য মূল্যে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেন।
ওয়াইড স্প্রেড (Wide Spread): কম লেনদেন হওয়া বা স্বল্প মূলধনী কোম্পানিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রস্তাবিত মূল্যের দূরত্ব অনেক বেশি হতে পারে (যেমন—১ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত)। এমন শেয়ারে তাৎক্ষণিক কেনাবেচা করতে গেলে অযথা ক্ষতি হতে পারে।
Market Depth বা Order Book কীভাবে পড়তে হয়?
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি শেয়ারের পাশে একটি চার্ট বা তালিকা দেখা যায়, যাকে মার্কেট ডেপথ (Market Depth) বলা হয়।
ক্রেতার তালিকা (Buyer / Bid)
বিক্রেতার তালিকা (Seller / Ask)
দর (Bid Price)
পরিমাণ (Volume)
৫০.০০
৫,০০০
৪৯.৮০
১০,০০০
৪৯.৫০
১২,০০০
এই ছকটি দেখে বোঝা যায়:
৫০.০০ টাকায় মোট ৫,০০০টি শেয়ার কেনার অর্ডার জমা আছে।
৫০.৫০ টাকায় মোট ২,০০০টি শেয়ার বিক্রির অর্ডার ঝুলে আছে।
যতক্ষণ না কোনো ক্রেতা ৫০.৫০ টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন অথবা কোনো বিক্রেতা ৫০.০০ টাকায় নেমে এসে বিক্রি করছেন, ততক্ষণ নতুন কোনো লেনদেন কার্যকর হবে না। যখনই কোনো এক পক্ষ অন্য পক্ষের দাম মেনে নেয়, তখনই লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং সেই মূল্যটিই নতুন বাজারদর বা LTP হিসেবে চার্টে প্রতিফলিত হয়।
126
2
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
Market Order বনাম Limit Order: শেয়ার কেনাবেচার সঠিক অর্ডার দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
শেয়ার কেনার সময় অর্ডার কীভাবে দিতে হয়? মার্কেট অর্ডার এবং লিমিট অর্ডারের পার্থক্য, সুবিধা, ঝুঁকি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) কখন কোন অর্ডার ব্যবহার করবেন তার বিস্তারিত আলোচনা।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির মৌলিক বা কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত দামে শেয়ারটি নিজের পোর্টফোলিওতে আনতে ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্মে সঠিক নিয়মে অর্ডার প্লেস করা সমানভাবে জরুরি।
অর্ডার দেওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে না বুঝলে অনেক সময় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কেনা হয়ে যায়, অথবা বিক্রির সময় অযথা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। শেয়ার বাজারে প্রধানত দুই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় অর্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়: Market Order এবং Limit Order।
Market Order (মার্কেট অর্ডার) কী?
Market Order হলো এমন একটি নির্দেশ, যার মাধ্যমে বর্তমান বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে সহজলভ্য সেরা মূল্যে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় সম্পন্ন হয়।
কীভাবে কাজ করে: আপনি যখন কোনো শেয়ারে মার্কেট বাই (Buy) অর্ডার দেন, সিস্টেম কোনো নির্দিষ্ট দামের জন্য অপেক্ষা করে না। সেই মুহূর্তে বিক্রেতাদের মধ্যে সর্বনিম্ন যে Ask Price পাওয়া যাবে, সরাসরি সেই মূল্যে শেয়ারটি কিনে নেওয়া হয়।
বিক্রির ক্ষেত্রে: মার্কেট সেল (Sell) অর্ডার দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ক্রেতার প্রস্তাবিত Bid Price-এ শেয়ার বিক্রি হয়ে যায়।
মার্কেট অর্ডারের সুবিধা ও ঝুঁকি:
সুবিধা: লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার নিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি। জরুরি মুহূর্তে কোনো শেয়ার দ্রুত কিনতে বা লোকসান কমাতে দ্রুত বিক্রি করতে এটি কার্যকরী।
ঝুঁকি: দামের ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বিশেষ করে যেসব শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ কম (Low Volume) বা Bid-Ask Spread বেশি, সেখানে স্ক্রিনে দেখা শেষ লেনদেনের দামের চেয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক বেশি বা কম মূল্যে লেনদেন কার্যকর হতে পারে (যাকে Slippage বলা হয়)।
Limit Order (লিমিট অর্ডার) কী?
Limit Order হলো এমন একটি শর্তযুক্ত অর্ডার, যেখানে আপনি শেয়ার কেনা বা বিক্রির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মূল্য (Limit Price) নির্ধারণ করে দেন।
ক্রয়ের ক্ষেত্রে: আপনি যে লিমিট প্রাইস নির্ধারণ করবেন, শেয়ারের দাম সেই নির্দিষ্ট স্তরে নামলে বা তার চেয়ে কমে পাওয়া গেলে তবেই অর্ডার কার্যকর হবে। এর চেয়ে বেশি দামে সিস্টেম কখনোই শেয়ার কিনবে না।
বিক্রির ক্ষেত্রে: আপনার নির্ধারিত লিমিট প্রাইস বা তার চেয়ে বেশি দাম পেলেই কেবল শেয়ার বিক্রি হবে। এর চেয়ে কম দামে বিক্রি হবে না।
একটি সহজ উদাহরণ:
ধরে নিন, একটি ভালো কোম্পানির শেয়ারদর বর্তমানে ১০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
আপনি চান শেয়ারটির দাম কিছুটা সংশোধন হয়ে ৯৫ টাকায় এলে কিনবেন।
তখন আপনি ৯৫ টাকা মূল্যে একটি 'Buy Limit Order' দিয়ে রাখতে পারেন।
ট্রেডিং সময়ের মধ্যে যদি কোনো বিক্রেতা ৯৫ টাকায় শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হন, তবেই আপনার অর্ডারটি সম্পন্ন হবে। যদি শেয়ারের দাম ৯৫ টাকায় না নেমে উল্টো বাড়তে থাকে, তবে আপনার অর্ডারটি কার্যকর না হয়ে পেন্ডিং থেকে যাবে।
মার্কেট অর্ডার ও লিমিট অর্ডারের তুলনামূলক পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য
Market Order (মার্কেট অর্ডার)
Limit Order (লিমিট অর্ডার)
মূল্য নিয়ন্ত্রণ
দামের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; তাৎক্ষণিক সেরা বাজারদরে কার্যকর হয়।
বিনিয়োগকারী নিজেই সুনির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য বা সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন।
কার্যকরের নিশ্চয়তা
বাজারে বিক্রেতা বা ক্রেতা থাকলে শতভাগ দ্রুত কার্যকর হয়।
নির্দিষ্ট দামে বিপরীত পক্ষ না পাওয়া পর্যন্ত কার্যকর হয় না (বাতিল হতে পারে)।
কার্যকরের গতি
অতি দ্রুত (তাৎক্ষণিক)।
বাজার পরিস্থিতি এবং নির্ধারিত মূল্যের ওপর নির্ভরশীল।
ঝুঁকির ধরন
অপ্রত্যাশিত বেশি বা কম দামে লেনদেন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দাম নির্দিষ্ট থাকে, তবে শেয়ারটি হাতছাড়া হওয়ার সুযোগ থাকে।
নতুনদের জন্য কোনটি সবচেয়ে নিরাপদ?
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য Limit Order ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।
লিমিট অর্ডার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি আপনাকে আকস্মিক দরপতন বা অস্বাভাবিক মূল্যে শেয়ার কেনা থেকে সুরক্ষিত রাখে।
বিশেষ করে বাজারে যখন তীব্র অস্থিরতা বা Volatility থাকে, তখন মার্কেট অর্ডার দিলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
তবে যদি এমন কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কোম্পানির বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে যেকোনো মূল্যে শেয়ারটি তাৎক্ষণিক বিক্রি করে ফেলা প্রয়োজন, কেবল তখনই অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা মার্কেট অর্ডার ব্যবহার করেন।
103
3
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
শেয়ার বাজার শেখার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ: নতুন থেকে দক্ষ বিনিয়োগকারী হওয়ার ৫টি ধাপ
শেয়ার বাজার শেখার সুশৃঙ্খল রোডম্যাপ। নতুন অবস্থা থেকে একজন আত্মবিশ্বাসী ও সফল বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠার ৫টি ধারাবাহিক পর্যায় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।
শেয়ার বাজারে পা রেখে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী যে বিভ্রান্তিতে পড়েন তা হলো—কোথা থেকে শুরু করবেন এবং কোনটির পর কোনটি শিখবেন। ইন্টারনেটে তথ্যের কোনো অভাব নেই; কিন্তু সঠিক ধারাবাহিকতা না থাকলে অতিরিক্ত তথ্য মাথায় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
একজন সফল বিনিয়োগকারী হতে হলে একসঙ্গে শত শত বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন ধাপে ধাপে একটি কাঠামোগত রোডম্যাপ অনুসরণ করা। নিচে নতুন পর্যায় থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ ও আত্মবিশ্বাসী বিনিয়োগকারী হওয়ার ৫টি সুনির্দিষ্ট লেভেল তুলে ধরা হলো:
লেভেল ১: Market Basics (বাজারের প্রাথমিক ভিত্তি)
শেয়ার বাজারে প্রথম টাকা খাটানোর আগে বাজারের ভাষা এবং লেনদেনের পরিকাঠামো বুঝতে হবে। এই স্তরে মূল লক্ষ্য হলো সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা জানা।
শেয়ার ও মালিকানা: Share কী এবং অংশীদারিত্বের ধারণা।
বাজার অবকাঠামো: DSE, CSE এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা BSEC-এর কাজ।
সূচক বিশ্লেষণ: প্রধান বাজার সূচক DSEX কীভাবে তৈরি হয় এবং এর ওঠানামার অর্থ কী।
লেনদেনের মূল উপাদান: BO Account, Bid Price, Ask Price, Bid-Ask Spread ও LTP।
অর্ডার পদ্ধতি: কখন Market Order এবং কখন Limit Order দিতে হয়।
লেভেল ২: Company Basics (কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বাস্থ্য)
শেয়ারের সংখ্যা দেখার আগে পেছনের বাস্তব ব্যবসাটি লাভজনক কি না তা বোঝার স্তর। এটি ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের প্রাথমিক ধাপ।
আয়ের উৎস: কোম্পানির পণ্যের চাহিদা এবং মোট বিক্রয়লব্ধ আয় বা Revenue।
প্রকৃত লাভ: সব খরচ বাদে কোম্পানির টিকে থাকা নিট মুনাফা বা Net Profit।
শেয়ারপ্রতি উপার্জন: বিনিয়োগকারীর আসল আয়ের পরিমাপক EPS।
ঋণ ও দায়বদ্ধতা: কোম্পানির ব্যাংকের দেনা বা Debt বোঝা।
নগদ প্রবাহ: কাগজে মুনাফার বদলে ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টে বাস্তব নগদ অর্থ বা Cash Flow যাচাই।
লভ্যাংশ নীতি: নগদ লভ্যাংশ (Cash Dividend) বনাম বোনাস শেয়ার (Stock Dividend)-এর প্রভাব।
লেভেল ৩: Valuation (শেয়ারের সঠিক মূল্য নির্ধারণ)
কোম্পানি ভালো হলেই যেকোনো দামে শেয়ার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোম্পানিটির বর্তমান দর কি ন্যায্য নাকি অতিরিক্ত চড়া, তা যাচাইয়ের কৌশল এই ধাপে শিখতে হয়।
উপার্জন বনাম দাম: শেয়ারের মূল্যায়ন মাপার প্রধান অনুপাত P/E Ratio।
সম্পদ বনাম দাম: কোম্পানির নিট সম্পদের সাপেক্ষে মূল্যায়ন বা Price-to-Book (P/B) Ratio ও NAVPS।
ডিভিডেন্ড রিটার্ন: শেয়ারদরের অনুপাতে নগদ লভ্যাংশের হার বা Dividend Yield।
মূলধনের দক্ষতা: কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের টাকা কতটা দক্ষতার সাথে খাটাচ্ছে তা পরিমাপের অনুপাত—ROE (Return on Equity) এবং ROA (Return on Assets)।
লেভেল ৪: Technical Analysis (সময় ও প্রবেশ নির্ধারণ)
কোম্পানি ভালো এবং দামও ন্যায্য, কিন্তু ঠিক কোন মুহূর্তে শেয়ারে প্রবেশ (Entry) করবেন এবং কখন বের (Exit) হবেন—তা নির্ধারণ করে টেকনিক্যাল চার্ট।
প্রাইস চরিত্র: ক্যান্ডেলস্টিকের গঠন (Candlestick) এবং ওপেন, হাই, লো ও ক্লোজ।
বাজারের গতি: শেয়ারের সাধারণ দিক বা Trend (আপট্রেন্ড, ডাউনট্রেন্ড ও সাইডওয়েজ)।
মূল্যস্তর: দর ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি Support এবং বাধার দেয়াল Resistance।
গতিশীলতা ও রূপবদল: Breakout, Breakdown ও সুস্থ সংশোধনের Pullback।
লেনদেনের শক্তি: চার্টের সত্যতা নিশ্চিত করতে ট্রেডিং Volume।
সহায়ক নির্দেশক: গড় মূল্যরেখা Moving Average, শক্তির সূচক RSI এবং মোমেন্টাম নির্দেশক MACD।
লেভেল ৫: Risk Management & Psychology (মূলধন রক্ষা ও মনস্তত্ত্ব)
এটি সেই চূড়ান্ত পর্যায়, যা একজন সাধারণ সৌখিন ট্রেডারকে পেশাদার ও আত্মবিশ্বাসী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীতে রূপান্তর করে। কৌশল যতই ভালো হোক, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ছাড়া বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব।
ঝুঁকির পরিমাপ: যেকোনো একক সিদ্ধান্তে মোট পোর্টফোলিওর ২%-এর বেশি ক্ষতি না করার নিয়ম।
শেয়ারের সংখ্যা নির্ধারণ: পূর্বনির্ধারিত ঝুঁকি অনুযায়ী সঠিক Position Size বের করা।
লোকসান নিয়ন্ত্রণ: বিশ্লেষণ ভুল প্রমাণিত হলে সাথে সাথে বেরিয়ে আসার স্বয়ংক্রিয় শৃঙ্খলা বা Stop Loss।
সম্ভাব্য লাভের অনুপাত: অনুকূল Risk-Reward Ratio (কমপক্ষে ১:২) ছাড়া অযথা ট্রেডে প্রবেশ না করা।
সম্পদ বণ্টন: সব অর্থ এক জায়গায় না রেখে বিভিন্ন খাতে সুষম Diversification ও পেশাদার Portfolio পরিচালনা।
শেয়ার বাজারে সফলতার কোনো সংক্ষিপ্ত শর্টকাট নেই। এই রোডম্যাপের প্রতিটি লেভেল ধীরে ধীরে আত্মস্থ করুন এবং নিজের বাস্তব সিদ্ধান্তগুলোর একটি ট্রেডিং জার্নাল লিখে রাখুন। বাজারকে বোঝা যখন আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে, মুনাফা তখন আপনার শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পুরস্কার হিসেবে ধরা দেবে।
111
2
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
DsePlex শেয়ার বাজার শব্দকোষ (A-Z Glossary) ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
শেয়ার বাজারের জটিল ও অপরিচিত পরিভাষা সহজে বোঝার উপায়। DsePlex A-Z Glossary ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত সঠিক আর্থিক ও টেকনিক্যাল শব্দের সহজ ব্যাখ্যা খুঁজে নেবেন তার ব্যবহারিক গাইডলাইন।
শেয়ার বাজারে নতুন প্রবেশ করা একজন বিনিয়োগকারীর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা কোনো জটিল গাণিতিক হিসাব নয়; বরং বাজারের অজস্র নতুন ও অপরিচিত পরিভাষা (Jargon)।
সংবাদের শিরোনামে চোখ রাখলেই চোখে পড়ে "সার্কিট ব্রেকারে শেয়ার", ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে লেখা থাকে "ইপিএস ও এনএভিপিএস বৃদ্ধি", ব্রোকারেজ অ্যাপে থাকে "মার্কেট ডেপথ, বিড ও আস্ক", আর চার্ট খুললেই সামনে আসে "আরএসআই ডাইভারজেন্স ও গোল্ডেন ক্রস"। এতসব ইংরেজি ও প্রায়োগিক শব্দের ভিড়ে একজন নতুন শিক্ষার্থী সহজেই খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এই সমস্যা সমাধানের জন্যই তৈরি করা হয়েছে DsePlex শেয়ার বাজার শব্দকোষ (Glossary)—যেখানে শেয়ার বাজারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাকে একদম সহজ বাংলায়, বাস্তব উদাহরণসহ A থেকে Z বর্ণানুক্রমিক ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
পরিভাষা মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই: সঠিক রেফারেন্স পদ্ধতি
অনেক শিক্ষার্থী শুরুতেই শত শত সংজ্ঞা মুখস্থ করার চেষ্টা করেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। শেয়ার বাজার কোনো তাত্ত্বিক পরীক্ষার বিষয় নয়; এটি একটি বাস্তব প্রয়োগের জায়গা।
সঠিক পদ্ধতি হলো—যখনই কোনো কোম্পানি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বা চার্ট দেখতে গিয়ে কোনো নতুন শব্দ সামনে আসবে, তখনই তা মুখস্থ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বস্ত শব্দকোষ থেকে তার পেছনের অর্থটি বুঝে নেওয়া।
DsePlex Glossary-তে সাজানো প্রধান ৪টি পরিভাষা স্তর
DsePlex শব্দকোষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) উপযোগী প্রতিটি শব্দকে ব্যবহারিক ক্যাটাগরির সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:
১. বাজারের সাধারণ পরিকাঠামো (Market Infrastructure): লেনদেন শুরু করার প্রাথমিক ধাপগুলো বুঝতে সহায়ক পরিভাষা:
BO Account: সেন্ট্রাল ডিপোজিটরিতে আপনার শেয়ার সংরক্ষণের ইলেকট্রনিক হিসাব।
DSE ও DSEX: দেশের প্রধান শেয়ার বাজার এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলনকারী প্রধান সূচক।
Market Order ও Limit Order: তাৎক্ষণিক বা নির্দিষ্ট শর্তে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডারের ধরন।
২. অর্ডার বুক ও মূল্যস্তর (Price & Order Book): দৈনন্দিন লেনদেনের পর্দা পড়তে যেসব শব্দ দরকার:
Bid Price ও Ask Price: ক্রেতার সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য।
Bid-Ask Spread: ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান, যা বাজারের তারল্য নির্দেশ করে।
LTP ও Closing Price: শেষ লেনদেনকৃত দর বনাম দিনের সমাপনী সমন্বিত দর।
৩. কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বাস্থ্য ও ভ্যালুয়েশন (Fundamentals & Valuation): কোম্পানির ব্যালেন্স শিট ও ফলাফল যাচাইয়ের মূল চাবিকাঠি:
Revenue ও Net Profit: প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি বনাম সমস্ত খরচ বাদে অবশিষ্ট প্রকৃত মুনাফা।
EPS: প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে অর্জিত আনুপাতিক আয়।
P/E Ratio: শেয়ারটি আয়ের তুলনায় সস্তা নাকি চড়া মূল্যে লেনদেন হচ্ছে তা যাচাইয়ের প্রধান অনুপাত।
Dividend, Cash Dividend ও Stock Dividend: শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে মুনাফা বণ্টনের নগদ ও বোনাস মাধ্যম।
Record Date ও Ex-Dividend Date: লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণকারী সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তারিখ।
৪. টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Technicals & Risk Management): চার্ট পড়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং মূলধন রক্ষা করতে:
Candlestick: নির্দিষ্ট সময়ের ক্রেতা-বিক্রেতার লড়াইয়ের চিত্রভিত্তিক ক্যান্ডেল।
Trend, Support ও Resistance: মূল্যের দিকপ্রবণতা, তলানির ক্রয়বলয় এবং উপরের বিক্রয়বাধা।
Breakout, Breakdown ও Pullback: মূল সীমানা ভেদ করা ও সুস্থ পরীক্ষা।
Volume, Moving Average, RSI ও MACD: লেনদেনের শক্তি, গড় দিক এবং মোমেন্টাম পরিমাপক নির্দেশক।
Stop Loss, Position Size, Risk-Reward Ratio ও PortfolioDiversification: মূলধন সুরক্ষা ও সুষম বণ্টনের চূড়ান্ত নিয়ম।
শব্দকোষটি কার্যকরভাবে ব্যবহারের ৩টি সহজ ধাপ
ব্রাউজারে বুকমার্ক করে রাখা: যেকোনো রিপোর্ট বা চার্ট বিশ্লেষণের সময় DsePlex Glossary লিংকটি ব্রাউজারে পিন বা বুকমার্ক করে রাখুন।
সার্চ ও বর্ণানুক্রমিক ফিল্টার ব্যবহার: শব্দকোষের সার্চ বক্সে সরাসরি শব্দটি (যেমন: P/E, EPS বা Resistance) টাইপ করুন অথবা A-Z সূচক থেকে প্রথম বর্ণ বেছে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত শব্দটিতে পৌঁছান।
প্রাসঙ্গিক উদাহরণের সাথে মিলিয়ে নেওয়া: প্রতিটি শব্দের কেবল আভিধানিক অর্থ নয়, বরং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাস্তব প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব কী—তা পড়ে নিজের বিশ্লেষণের সাথে মিলিয়ে নিন।
শেয়ার বাজার কোনো অনুমান বা ভাগ্যের খেলা নয়; এটি একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ভাষা। এই ভাষার প্রতিটি শব্দের সঠিক অর্থ যখন আপনার কাছে পরিষ্কার থাকবে, তখন বাজারের গুজব বা কৃত্রিম ভীতি কখনোই আপনার যৌক্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে নাড়াতে পারবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
শেয়ার বাজার শেখা মানে শুধু শেয়ারের দাম দেখা নয়।
একজন সচেতন বাজার অংশগ্রহণকারীর জন্য বাজারের ভাষা বোঝা প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যে ব্যক্তি LTP, Volume, EPS, P/E, Market Capitalization, Support, Resistance, Breakout কিংবা Dividend-এর মতো শব্দগুলো বুঝতে পারেন না, তার জন্য বাজারের তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা কঠিন হতে পারে।
তাই DsePlex A-Z Glossary-কে শুধু একটি অভিধান হিসেবে না দেখে শেয়ার বাজার শেখার একটি রেফারেন্স লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহার করুন।
একটি শব্দ শিখুন, সেটির উদাহরণ বুঝুন, সম্পর্কিত শব্দ পড়ুন এবং বাস্তব বাজারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
ধীরে ধীরে দেখবেন, আগে যে বাজারের তথ্যগুলো জটিল মনে হতো, সেগুলো অনেক বেশি পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
শুরু করুন আপনার শেখার যাত্রা
DsePlex শেয়ার বাজার শব্দকোষে A থেকে Z পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজারের শব্দ খুঁজে দেখুন।
একটি শব্দ → একটি ধারণা → একটি নতুন শেখা।
নিয়মিত শেখার মাধ্যমে এই ছোট ছোট ধারণাগুলোই একসময় আপনার শেয়ার বাজার সম্পর্কে শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
মনে রাখবেন: শব্দকোষ আপনাকে বাজারের ভাষা বুঝতে সাহায্য করবে; কিন্তু বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ঝুঁকি এবং নিজের গবেষণা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করার বিষয়টিও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
119
2
পড়ুন →
Glossary
শব্দকোষ: Bid-Ask Spread (বিড-আস্ক স্প্রেড)
কোনো শেয়ারের সর্বোচ্চ Bid এবং সর্বনিম্ন Ask মূল্যের মধ্যকার পার্থক্যকে Bid-Ask Spread বলা হয়।
পড়ুন →