technical analysis
29 Aug, 2026
চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু
চার্ট কী?
আপনি যখন কোনো শেয়ারের দাম গত কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা একসঙ্গে দেখতে চান, তখন সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো চার্ট।
সহজ ভাষায়—
সময়ের সঙ্গে শেয়ারের দাম কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিকে চোখে বোঝার মতোভাবে দেখানোর পদ্ধতিই হলো Price Chart।
ধরুন, কোনো শেয়ারের দাম গত ১০ দিনে ছিল:
৫০ → ৫২ → ৫১ → ৫৫ → ৫৮ → ৫৬ → ৬০ → ৬৩ → ৬১ → ৬৫
আপনি চাইলে এই দশটি দাম আলাদাভাবে লিখে দেখতে পারেন।
কিন্তু চার্টে দেখলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোঝা যাবে যে শেয়ারটির দাম সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
এ কারণেই Technical Analysis-এ Chart এত গুরুত্বপূর্ণ।
চার্ট কেন ব্যবহার করা হয়?
শুধু একটি শেয়ারের বর্তমান দাম জানলে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।
ধরুন একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা।
এই ১০০ টাকা দেখে আপনি জানেন না—
গতকাল দাম কত ছিল
গত সপ্তাহে দাম কত ছিল
এক মাস আগে দাম কত ছিল
দাম বাড়ছে নাকি কমছে
কোথা থেকে দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে
কোথায় গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছে
লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে নাকি কমছে
কিন্তু চার্টে এসব তথ্য একসঙ্গে দেখা যায়।
তাই চার্ট হলো Technical Analysis-এর মূল ভিত্তিগুলোর একটি।
একটি চার্টকে কীভাবে ভাববেন?
একটি চার্টকে আপনি শেয়ারের ইতিহাসের ছবি হিসেবে ভাবতে পারেন।
যেমন একজন ডাক্তার রোগীর আগের রিপোর্ট দেখে পরিবর্তন বোঝেন, তেমনি একজন Technical Analyst শেয়ারের আগের Price Movement দেখে বাজারের আচরণ বোঝার চেষ্টা করেন।
তবে এখানে একটি পার্থক্য আছে।
চার্ট আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে না।
চার্ট আমাদের অতীত ও বর্তমানের আচরণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে।
চার্টের দুইটি প্রধান অংশ
একটি সাধারণ শেয়ার চার্টে মূলত দুই ধরনের তথ্য থাকে:
১. Price
শেয়ারের দাম কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে।
২. Time
কোন সময়ে সেই মূল্য পরিবর্তন হয়েছে।
অর্থাৎ চার্টের:
অনুভূমিক দিক = সময়
উল্লম্ব দিক = দাম
এই দুটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে ফেললে চার্ট পড়ার প্রথম ধাপ শেষ।
চার্টে সময় কীভাবে দেখানো হয়?
চার্টের নিচের দিকে সাধারণত সময় বা তারিখ থাকে।
যেমন:
১০ আগস্ট → ১১ আগস্ট → ১২ আগস্ট → ১৩ আগস্ট → ১৬ আগস্ট → ১৭ আগস্ট
এখানে প্রতিটি দিনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে প্রতিটি ক্যালেন্ডার দিনে বাজার লেনদেন থাকে না। তাই চার্টে আপনি সব তারিখ ধারাবাহিকভাবে নাও দেখতে পারেন।
DSEPlex-এর শেয়ার চার্টেও তারিখের সঙ্গে Close, Volume, Change, Open, High এবং Low তথ্য দেখানো হয়।
চার্টে দাম কীভাবে দেখানো হয়?
চার্টে সাধারণত কয়েক ধরনের Price Chart দেখা যায়।
প্রধানগুলো হলো:
১. লাইন চার্ট
২. বার চার্ট
৩. ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট
Technical Analysis শেখার জন্য আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে Candlestick Chart।
তবে তার আগে অন্যগুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকা দরকার।
১. লাইন চার্ট
লাইন চার্ট হলো সবচেয়ে সহজ ধরনের চার্ট।
এখানে সাধারণত প্রতিটি সময়ের একটি নির্দিষ্ট দামকে বিন্দু হিসেবে দেখিয়ে সেই বিন্দুগুলো একটি রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়।
উদাহরণ:
৫০ → ৫২ → ৫৫ → ৫৩ → ৫৮ → ৬০
লাইন চার্ট দেখলে খুব সহজেই বোঝা যায়—
দাম সামগ্রিকভাবে ওপরে যাচ্ছে নাকি নিচে যাচ্ছে।
নতুনদের জন্য সুবিধা
লাইন চার্ট খুব সহজ।
আপনি যদি Technical Analysis একদম নতুন করে শুরু করেন, তাহলে প্রথমে লাইন চার্ট দেখে শুধু এই প্রশ্নটি করুন:
দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
তবে সমস্যা হলো, লাইন চার্ট সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দামের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।
একটি দিনের মধ্যে দাম কত ওপরে উঠেছিল বা কত নিচে নেমেছিল—এসব বিস্তারিত তথ্য সহজে দেখা যায় না।
এই কারণে Technical Analysis-এর গভীরে যাওয়ার জন্য আমরা Candlestick Chart ব্যবহার করব।
২. বার চার্ট
বার চার্ট একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্য দেখাতে পারে:
Open
High
Low
Close
এই চারটি তথ্যকে সংক্ষেপে OHLC বলা হয়।
বার চার্ট Candlestick-এর মতোই Price Movement-এর বিস্তারিত তথ্য দেয়, তবে এর উপস্থাপনার ধরন আলাদা।
নতুনদের জন্য শুরুতে এটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।
তাই আমরা এটিকে আপাতত ধারণা হিসেবে রাখব এবং মূল গুরুত্ব দেব Candlestick Chart-এ।
৩. ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট
এখন আসি Technical Analysis-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে।
Candlestick Chart।
একটি Candlestick নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের:
Open
High
Low
Close
এই চারটি মূল্যকে একটি দৃশ্যমান আকারে দেখায়।
DSEPlex Glossary-তেও Candlestick-কে নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্য প্রদর্শনের চার্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ক্যান্ডেলস্টিক — DSEPlex গ্লসারি
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা Candlestick নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত শিখব।
একটি ক্যান্ডেল কীভাবে তৈরি হয়?
ধরুন একটি শেয়ারের এক দিনের তথ্য হলো:
Open = ১০০ টাকা
High = ১০৮ টাকা
Low = ৯৭ টাকা
Close = ১০৬ টাকা
অর্থাৎ দিনের শুরুতে শেয়ারটি ১০০ টাকায় ছিল।
দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
সর্বনিম্ন ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছে।
শেষ পর্যন্ত ১০৬ টাকায় বন্ধ হয়েছে।
এই চারটি তথ্য একটি Candlestick-এর মাধ্যমে খুব সহজে দেখা যায়।
Open কী?
Open হলো নির্দিষ্ট সময়ের শুরুতে শেয়ারের যে দাম থেকে ওই সময়ের লেনদেন শুরু হয়।
ধরা যাক, দৈনিক চার্টে আজকের Open হলো ১০০ টাকা।
অর্থাৎ দিনের শুরুতে শেয়ারের দাম ছিল ১০০ টাকা।
DSEPlex-এর চার্টেও প্রতিটি ট্রেডিং দিনের জন্য Open মূল্য আলাদাভাবে দেখানো হয়।
সহজভাবে মনে রাখুন:
Open = শুরুতে দাম কত ছিল।
High কী?
High হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া দাম।
উদাহরণ:
Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকা
অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
সহজভাবে:
High = ওই সময়ের সর্বোচ্চ দাম।
Low কী?
Low হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়া দাম।
উদাহরণ:
Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকাLow = ৯৭ টাকা
অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বনিম্ন ৯৭ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
সহজভাবে:
Low = ওই সময়ের সর্বনিম্ন দাম।
Close কী?
Close হলো নির্দিষ্ট সময়ের শেষ লেনদেনের মূল্য বা দিনের সমাপ্তির মূল্য।
উদাহরণ:
Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকাLow = ৯৭ টাকাClose = ১০৬ টাকা
এখানে Close হলো ১০৬ টাকা।
সহজভাবে:
Close = সময় শেষে দাম কোথায় ছিল।
DSEPlex-এর চার্টে প্রতিটি দিনের Close মূল্যও আলাদাভাবে দেখা যায়।
OHLC কী?
এখন চারটি শব্দ একসঙ্গে মনে রাখুন:
O = Open
H = High
L = Low
C = Close
এগুলোকে একসঙ্গে বলা হয়:
OHLC
একটি শেয়ারের নির্দিষ্ট সময়ের Price Movement বোঝার জন্য OHLC অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ:
তথ্য
মূল্য
Open
১০০ টাকা
High
১০৮ টাকা
Low
৯৭ টাকা
Close
১০৬ টাকা
এখন শুধু এই চারটি সংখ্যা দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন—
শেয়ারটি ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছিল, দিনের মধ্যে ১০৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল এবং শেষে ১০৬ টাকায় ছিল।
Close কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
Technical Analysis-এ Close Price অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ দিনের মধ্যে দাম অনেকবার ওপরে-নিচে যেতে পারে।
কিন্তু দিন শেষে কোথায় এসে অবস্থান করছে, সেটিও বাজারের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
উদাহরণ:
পরিস্থিতি ১
Open = ১০০High = ১০৮Low = ৯৯Close = ১০৭
এখানে দিনের শেষে দাম Open-এর তুলনায় অনেক ওপরে।
পরিস্থিতি ২
Open = ১০০High = ১০৮Low = ৯৯Close = ১০০
এখানে দিনের মধ্যে দাম অনেক ওপরে উঠলেও শেষে আবার Open-এর কাছাকাছি ফিরে এসেছে।
দুটি দিনের High একই হলেও Price Behaviour এক নয়।
এই পার্থক্যগুলোই পরে Candlestick Analysis-এ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ক্যান্ডেলের Body কী?
একটি Candlestick-এর মাঝের মোটা অংশকে সাধারণভাবে Body বলা হয়।
Body মূলত Open এবং Close-এর মধ্যকার পার্থক্যকে দেখায়।
যদি Close, Open-এর ওপরে থাকে, তাহলে সাধারণত সেটিকে Bullish Candle হিসেবে দেখা হয়।
আর Close, Open-এর নিচে থাকলে Bearish Candle হিসেবে দেখা হয়।
DSEPlex-এর Candlestick Glossary-তে ক্যান্ডেলের Body এবং Wick-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যচলাচল বোঝানোর ধারণা রয়েছে।
ক্যান্ডেলস্টিক
Wick বা Shadow কী?
Candlestick-এর Body-এর ওপর বা নিচে যে সরু রেখা থাকে, তাকে সাধারণভাবে Wick বা Shadow বলা হয়।
এটি দেখায় যে নির্দিষ্ট সময়ে দাম কত ওপরে বা কত নিচে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে শেষ হয়নি।
উদাহরণ:
Open = ১০০High = ১১০Low = ৯৮Close = ১০৫
এখানে:
Body → ১০০ থেকে ১০৫
ওপরের Wick → ১০৫ থেকে ১১০
নিচের Wick → ৯৮ থেকে ১০০
এই Wick পরবর্তীতে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একটি ক্যান্ডেল দেখে কী বুঝবেন?
একটি ক্যান্ডেল দেখে শুরুতে শুধু চারটি প্রশ্ন করুন:
১. কোথায় Open হয়েছে?
দিন বা সময়ের শুরু কোথায় ছিল?
২. কোথায় Close হয়েছে?
শেষ কোথায় হয়েছে?
৩. সর্বোচ্চ কোথায় গিয়েছে?
High কত?
৪. সর্বনিম্ন কোথায় গিয়েছে?
Low কত?
এই চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই আপনি একটি Candlestick পড়ার প্রথম ধাপ শিখে ফেলেছেন।
Timeframe কী?
এখন একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Timeframe হলো একটি Candlestick বা Price Data কত সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে।
উদাহরণ:
১ মিনিটের চার্ট
প্রতিটি Candlestick = ১ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন।
৫ মিনিটের চার্ট
প্রতিটি Candlestick = ৫ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন।
১৫ মিনিটের চার্ট
প্রতিটি Candlestick = ১৫ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন।
১ ঘণ্টার চার্ট
প্রতিটি Candlestick = ১ ঘণ্টার মূল্য পরিবর্তন।
দৈনিক চার্ট
প্রতিটি Candlestick = একটি ট্রেডিং দিনের মূল্য পরিবর্তন।
সাপ্তাহিক চার্ট
প্রতিটি Candlestick = একটি সপ্তাহের মূল্য পরিবর্তন।
মাসিক চার্ট
প্রতিটি Candlestick = একটি মাসের মূল্য পরিবর্তন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন:
Timeframe পরিবর্তন করলে একই শেয়ারের চার্টের চেহারাও পরিবর্তিত হতে পারে।
দৈনিক চার্ট কী?
দৈনিক বা Daily Chart-এ সাধারণত প্রতিটি Candlestick একটি ট্রেডিং দিনের তথ্য প্রকাশ করে।
একটি দৈনিক Candlestick-এ থাকতে পারে:
Open → দিনের শুরু
High → দিনের সর্বোচ্চ
Low → দিনের সর্বনিম্ন
Close → দিনের শেষ মূল্য
নতুনদের জন্য Technical Analysis শেখার সময় Daily Chart খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এতে দৈনিক বাজারের Price Movement তুলনামূলকভাবে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
সাপ্তাহিক চার্ট কেন দেখবেন?
ধরুন Daily Chart দেখে কোনো শেয়ারকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে।
কিন্তু Weekly Chart খুলে দেখা গেল গত কয়েক মাস ধরে শেয়ারটি একটি বড় Downtrend-এর মধ্যে রয়েছে।
তাহলে শুধু Daily Chart দেখে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না।
এ কারণেই পরবর্তীতে আমরা Multiple Timeframe Analysis শিখব।
তবে এখনই জটিল করার দরকার নেই।
এই অধ্যায়ে শুধু মনে রাখুন:
ছোট Timeframe = ছোট সময়ের Price Movement
বড় Timeframe = বড় সময়ের Price Movement
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কোন চার্ট দিয়ে শুরু করবেন?
একজন সম্পূর্ণ নতুন বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী হলে শুরুতে আমি এই ক্রমটি অনুসরণ করতে বলব:
দৈনিক চার্ট → সাপ্তাহিক চার্ট → তারপর ছোট Timeframe
প্রথমে Daily Chart-এ দেখুন:
Trend কী
দাম কোথায়
Support কোথায়
Resistance কোথায়
সাম্প্রতিক Candlestick কেমন
Volume কেমন
তারপর Weekly Chart খুলে দেখুন:
বড় ছবিটা কী বলছে?
DSEPlex-এর চার্টে শেয়ারের Price এবং Volume-এর ঐতিহাসিক তথ্য দেখা যায়, এবং বিভিন্ন Technical Indicator-ও ব্যবহার করা যায়।
DSEPlex চার্ট
চার্টে Volume কোথায়?
অনেক চার্টে Price-এর নিচে Volume-এর আলাদা অংশ থাকে।
সাধারণত Volume Bar দিয়ে দেখানো হয় নির্দিষ্ট সময়ে কত লেনদেন হয়েছে।
উদাহরণ:
একটি দিনে Volume = ৫০,০০০
পরের দিনে Volume = ৮০,০০০
তারপর = ১,৫০,০০০
এখানে তৃতীয় দিনে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কিন্তু শুধু Volume বেড়েছে বলেই সেটিকে ভালো বা খারাপ বলা যাবে না।
দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
উদাহরণ:
দাম বাড়ছে + Volume বাড়ছে
এটি এক ধরনের পরিস্থিতি।
অন্যদিকে:
দাম কমছে + Volume বাড়ছে
এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতি।
এই বিষয়টি আমরা পরবর্তী Volume অধ্যায়ে বিস্তারিত শিখব।
চার্ট দেখার সময় প্রথমে কী দেখবেন?
আপনি যখন DSEPlex-এ কোনো শেয়ারের Chart খুলবেন, তখন প্রথমেই Indicator-এর তালিকা খুলবেন না।
প্রথমে খালি Chart দেখুন।
তারপর এই ক্রমে প্রশ্ন করুন:
ধাপ ১ — দাম
বর্তমান দাম কোথায়?
ধাপ ২ — সময়
আমি কোন Timeframe দেখছি?
ধাপ ৩ — Trend
দাম ওপরে যাচ্ছে, নিচে যাচ্ছে নাকি একই সীমায় চলছে?
ধাপ ৪ — গুরুত্বপূর্ণ মূল্যাঞ্চল
আগে কোথায় দাম থেমেছে বা ঘুরে দাঁড়িয়েছে?
ধাপ ৫ — Volume
দামের পরিবর্তনের সময় Volume কী করছে?
ধাপ ৬ — Candlestick
সাম্প্রতিক Candle কী ধরনের আচরণ দেখাচ্ছে?
ধাপ ৭ — তারপর Indicator
প্রয়োজন হলে Indicator ব্যবহার করুন।
একটি বাস্তব DSE উদাহরণ
ধরুন আপনি DSEPlex-এ কোনো DSE শেয়ারের Chart খুললেন।
চার্টের তথ্য এমন হতে পারে:
Close: ১৩০.২০ টাকাOpen: ১৩২.৭০ টাকাHigh: ১৩৩.৮০ টাকাLow: ১২৯.৮০ টাকাVolume: ৪৮,৯০৭
এ ধরনের তথ্য DSEPlex-এর বাস্তব শেয়ার চার্টে দেখা যায়।
এখন একজন নতুন ব্যবহারকারী কীভাবে পড়বেন?
প্রথমে দেখবেন:
Open = ১৩২.৭০
অর্থাৎ শুরুতে দাম ছিল ১৩২.৭০ টাকা।
High = ১৩৩.৮০
দিনে সর্বোচ্চ ১৩৩.৮০ টাকা পর্যন্ত গেছে।
Low = ১২৯.৮০
দিনে সর্বনিম্ন ১২৯.৮০ টাকা পর্যন্ত গেছে।
Close = ১৩০.২০
শেষে দাম ১৩০.২০ টাকায় ছিল।
অর্থাৎ Open-এর তুলনায় Close কম।
তাই ওই দিনের Price Movement-এ দুর্বলতা ছিল কি না, সেটি পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যেতে পারে।
কিন্তু একটি দিনের তথ্য দেখেই শেয়ারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চার্ট পড়ার সময় নতুনদের ৭টি ভুল
১. শুধু বর্তমান দাম দেখা
১০০ টাকা দাম দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
দাম কোথা থেকে এসেছে সেটিও দেখতে হবে।
২. Timeframe না দেখে Chart বিশ্লেষণ করা
৫ মিনিটের Chart এবং দৈনিক Chart একই বিষয় দেখায় না।
৩. শুধু একটি Candle দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
একটি Candle গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু পুরো বাজারের গল্প একটি Candle দিয়ে সবসময় বোঝা যায় না।
৪. High দেখে ভাবা যে দাম আবার সেখানে যাবে
আগের High ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়।
৫. Low-কে নিশ্চিত Support মনে করা
একটি Low ভবিষ্যতে Support হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
৬. Volume বাদ দেওয়া
Price-এর পাশাপাশি Volume-ও দেখতে হবে।
৭. প্রথম দিনেই অনেক Indicator বসানো
চার্টকে তথ্যের জঞ্জালে পরিণত করবেন না।
প্রথমে Price ও Candlestick বুঝুন।
ছোট্ট অনুশীলন
এখন আপনি DSEPlex-এর যেকোনো একটি শেয়ারের Chart খুলুন।
DSEPlex চার্ট
তারপর নিজেকে এই ১০টি প্রশ্ন করুন:
১. আমি কোন শেয়ারের Chart দেখছি?
২. কোন Timeframe দেখছি?
৩. বর্তমান দাম কত?
৪. Open কত?
৫. High কত?
৬. Low কত?
৭. Close কত?
৮. আজকের Candle কী বলছে?
৯. Volume কেমন?
১০. গত কয়েক দিনের তুলনায় দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
এই ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আপনি ইতিমধ্যে Chart পড়ার ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছেন।
এই অধ্যায়ে যা শিখলাম
আজ আমরা শিখলাম—
Chart কী
কেন Chart ব্যবহার করা হয়
Price কীভাবে Chart-এ দেখা যায়
Line Chart
Bar Chart
Candlestick Chart
Open
High
Low
Close
OHLC
Body
Wick
Timeframe
Daily Chart
Weekly Chart
Volume
Chart বিশ্লেষণের প্রাথমিক ধাপ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
চার্ট দেখার সময় প্রথমে Indicator নয়, Price দেখুন।
কারণ Technical Analysis-এর শুরু হয় Price থেকে।
সহজে মনে রাখুন
একটি চার্ট দেখলে প্রথমে মনে করুন:
সময় → দাম → OHLC → Candlestick → Volume → Trend
এরপর আসবে:
Support → Resistance → Pattern → Indicator
এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে Technical Analysis শেখা অনেক সহজ হবে।
পরবর্তী অধ্যায়
অধ্যায় ৩: ক্যান্ডেলস্টিক কী? — একটি ক্যান্ডেল কীভাবে বাজারের গল্প বলে
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা শুধু Candlestick নিয়ে বিস্তারিত শিখব:
Candlestick কী
একটি Candle-এর চারটি মূল তথ্য
Open
High
Low
Close
Body
Wick
Bullish Candle
Bearish Candle
বড় Body বনাম ছোট Body
লম্বা Wick কী বোঝাতে পারে
Doji
শক্তিশালী Bullish Candle
শক্তিশালী Bearish Candle
DSE শেয়ারের বাস্তব উদাহরণ
নতুনদের সাধারণ ভুল
কোন Candle দেখে কীভাবে Price Behaviour বোঝা শুরু করবেন
এরপর ধীরে ধীরে আমরা Candlestick Pattern → Trend → Support & Resistance → Volume → Chart Pattern → Moving Average → RSI → MACD-এর দিকে যাব।
150
11
পড়ুন →
technical analysis
29 Aug, 2026
ক্যান্ডেলস্টিক কী? — একটি ক্যান্ডেল কীভাবে বাজারের গল্প বলে
ক্যান্ডেলস্টিক কী?আপনি যখন কোনো শেয়ারের চার্ট খুলবেন, তখন সেখানে ছোট ছোট সবুজ ও লাল আকৃতির অনেকগুলো দণ্ড দেখতে পাবেন।এগুলোই হলো Candlestick বা ক্যান্ডেলস্টিক।একটি ক্যান্ডেল দেখতে ছোট হলেও এর মধ্যে নির্দিষ্ট একটি সময়ের শেয়ারের মূল্যচলাচলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকে।সহজভাবে বললে—একটি নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের দাম কোথা থেকে শুরু হয়েছে, কত ওপরে গেছে, কত নিচে নেমেছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় বন্ধ হয়েছে—এই তথ্যগুলোকে দৃশ্যমানভাবে দেখানোর একটি পদ্ধতি হলো Candlestick।ডিএসইর কোনো শেয়ারের দৈনিক চার্ট দেখলে প্রতিটি ট্রেডিং দিনের ক্যান্ডেল থেকে সেই দিনের মূল্যচলাচল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। DSEPlex-এর চার্টেও প্রতিটি দিনের ওপেন, হাই, লো ও ক্লোজ তথ্য আলাদাভাবে দেখা যায়।DSEPlex ক্যান্ডেলস্টিক গ্লসারিএকটি ক্যান্ডেলের মধ্যে কী থাকে?একটি সাধারণ ক্যান্ডেলের মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্য থাকে:Open — শুরুতে দামHigh — সর্বোচ্চ দামLow — সর্বনিম্ন দামClose — শেষে দামএই চারটি তথ্যকে একসঙ্গে বলা হয় OHLC।তাই ক্যান্ডেলস্টিক বোঝার প্রথম নিয়ম:ক্যান্ডেল বুঝতে হলে আগে OHLC বুঝতে হবে।একটি সহজ উদাহরণধরুন, কোনো ডিএসই শেয়ারের এক দিনের মূল্যতথ্য হলো:Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকাLow = ৯৭ টাকাClose = ১০৬ টাকাএখন দিনের গল্পটি কী?দিনের শুরুতে শেয়ারটির দাম ছিল ১০০ টাকা।দিনের মধ্যে ক্রেতারা দামকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত নিয়ে গেছে।আবার কোনো এক সময়ে বিক্রির চাপ বেড়ে দাম ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছে।শেষ পর্যন্ত দিনের লেনদেন ১০৬ টাকার আশেপাশে শেষ হয়েছে।এই পুরো গল্পটি একটি মাত্র ক্যান্ডেলের মাধ্যমে দেখা যায়।Open কী?Open হলো নির্দিষ্ট সময়ের শুরুতে শেয়ারের মূল্য।দৈনিক ক্যান্ডেলের ক্ষেত্রে এটি হলো সেই ট্রেডিং দিনের শুরুতে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের প্রথম দিকের মূল্য।উদাহরণ:Open = ১০০ টাকাঅর্থাৎ ওই দিনের ক্যান্ডেলটি ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছে।সহজে মনে রাখুন:ওপেন = শুরু কোথায় হয়েছিল।DSEPlex-এর শেয়ার চার্টে ওপেন মূল্য সরাসরি দেখা যায়। যেমন বিভিন্ন শেয়ারের দৈনিক তথ্যের সঙ্গে ওপেন, হাই, লো এবং ক্লোজ একসঙ্গে দেখানো হয়।High কী?High হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া মূল্য।উদাহরণ:High = ১০৮ টাকাএর অর্থ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।সহজে মনে রাখুন:হাই = সবচেয়ে ওপরে কোথায় গিয়েছিল।Low কী?Low হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়া মূল্য।উদাহরণ:Low = ৯৭ টাকাএর অর্থ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বনিম্ন ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল।সহজে মনে রাখুন:লো = সবচেয়ে নিচে কোথায় গিয়েছিল।Close কী?Close হলো নির্দিষ্ট সময়ের শেষ মূল্য।উদাহরণ:Close = ১০৬ টাকাঅর্থাৎ দিনের মূল্যচলাচল শেষে শেয়ারটি ১০৬ টাকায় ছিল।সহজে মনে রাখুন:ক্লোজ = শেষে কোথায় ছিল।ক্যান্ডেলস্টিক বিশ্লেষণে Close অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিনের মধ্যে দাম অনেক ওপরে বা নিচে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় অবস্থান করল সেটি বাজারের আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।OHLC একসঙ্গে বুঝুনএকটি ক্যান্ডেলের তথ্য যদি হয়:তথ্যমূল্যOpen১০০ টাকাHigh১০৮ টাকাLow৯৭ টাকাClose১০৬ টাকাতাহলে মনে রাখবেন:১০০ → শুরু১০৮ → সর্বোচ্চ৯৭ → সর্বনিম্ন১০৬ → শেষএটাই ওই ক্যান্ডেলের সম্পূর্ণ মূল্যগল্প।ক্যান্ডেলের Body কী?এবার আসি ক্যান্ডেলের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশে।ক্যান্ডেলের মাঝখানের মোটা অংশকে Body বলা হয়।Body মূলত Open এবং Close-এর মধ্যকার পার্থক্য দেখায়।ধরুন:Open = ১০০Close = ১০৬তাহলে Body ১০০ থেকে ১০৬ পর্যন্ত থাকবে।অন্যদিকে যদি:Open = ১০৬Close = ১০০তাহলে Body ১০৬ থেকে ১০০ পর্যন্ত থাকবে।সহজভাবে:Body দেখায় Open থেকে Close পর্যন্ত দাম কতটা পরিবর্তিত হয়েছে।Wick বা Shadow কী?ক্যান্ডেলের Body-এর ওপর ও নিচে যে সরু লাইন থাকে তাকে Wick বা Shadow বলা হয়।এটি দেখায় যে নির্দিষ্ট সময়ে দাম Body-এর বাইরে কতদূর গিয়েছিল।উদাহরণ:Open = ১০০High = ১১০Low = ৯৭Close = ১০৬এখানে—Body → ১০০ থেকে ১০৬ওপরের Wick → ১০৬ থেকে ১১০নিচের Wick → ৯৭ থেকে ১০০অর্থাৎ দিনের মধ্যে দাম ১১০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, কিন্তু ১১০ টাকায় শেষ হয়নি।আবার ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল, কিন্তু ৯৭ টাকায়ও শেষ হয়নি।এই কারণেই Wick খুব গুরুত্বপূর্ণ।গ্লসারি লিংক: আপনার বর্তমান গ্লসারিতে ক্যান্ডেলস্টিকের বিস্তারিত পেজটি ব্যবহার করুন:DSEPlex ক্যান্ডেলস্টিক গ্লসারিBullish Candle কী?যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের শেষে Close, Open-এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সাধারণভাবে সেটিকে Bullish Candle বলা হয়।উদাহরণ:Open = ১০০Close = ১০৮এখানে শেয়ারটি ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১০৮ টাকায় শেষ হয়েছে।অর্থাৎ:Close > Openএ ধরনের ক্যান্ডেল সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী মূল্যচাপ বা ক্রেতাদের তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান বোঝাতে পারে।অনেক চার্টে Bullish Candle সবুজ বা অন্য উজ্জ্বল রঙে দেখানো হয়।তবে মনে রাখবেন:সবুজ ক্যান্ডেল মানেই শেয়ার এখনই কিনতে হবে—এমন নয়।একটি ক্যান্ডেলকে সবসময় তার আগের ও পরের Price Action-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।Bearish Candle কী?যদি Close, Open-এর চেয়ে কম হয়, তাহলে সাধারণভাবে সেটিকে Bearish Candle বলা হয়।উদাহরণ:Open = ১০৮Close = ১০০অর্থাৎ শেয়ারটি ১০৮ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১০০ টাকায় শেষ হয়েছে।এক্ষেত্রে:Close < Openএ ধরনের ক্যান্ডেল সাধারণত বিক্রির চাপ বা তুলনামূলক দুর্বল মূল্যচাপের ইঙ্গিত দিতে পারে।অনেক চার্টে Bearish Candle লাল রঙে দেখানো হয়।তবে এখানেও একই কথা:একটি লাল ক্যান্ডেল দেখেই শেয়ার বিক্রি করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।সবুজ ক্যান্ডেল মানেই কি ভালো?না।এটি নতুনদের একটি খুব সাধারণ ভুল ধারণা।ধরুন একটি শেয়ার:Open = ১০০Close = ১০২অর্থাৎ একটি ছোট Bullish Candle তৈরি হয়েছে।কিন্তু তার আগের কয়েকদিন শেয়ারটির দাম ছিল:১৩০ → ১২২ → ১১৫ → ১০৮ → ১০২এখন শুধু আজকের সবুজ ক্যান্ডেল দেখে বললে—“শেয়ারটি শক্তিশালী।”এটি ভুল হতে পারে।কারণ বড় ছবিতে শেয়ারটি এখনো Downtrend-এর মধ্যে থাকতে পারে।তাই:একটি ক্যান্ডেল নয়, ক্যান্ডেলগুলোর ধারাবাহিক আচরণ দেখুন।লাল ক্যান্ডেল মানেই কি খারাপ?এটিও ঠিক নয়।ধরুন কোনো শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে Uptrend-এ রয়েছে।আজ একটি ছোট Bearish Candle তৈরি হয়েছে।এটি শুধু সাময়িক Profit Taking বা স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনের অংশ হতে পারে।তাই একটি লাল ক্যান্ডেল দেখেই পুরো Trend পরিবর্তন হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়।বড় Body কী বোঝাতে পারে?ধরুন একটি ক্যান্ডেলের:Open = ১০০Close = ১১০এখানে Body বেশ বড়।এটি বোঝায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে Open থেকে Close-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মূল্য পরিবর্তন হয়েছে।একটি বড় Bullish Body সাধারণত ক্রেতাদের শক্তিশালী অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিতে পারে।অন্যদিকে বড় Bearish Body বিক্রেতাদের শক্তিশালী চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে।তবে আবারও মনে রাখুন:Body-এর আকার একা সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট নয়।Volume, Trend, Support, Resistance এবং আগের ক্যান্ডেলগুলোর অবস্থাও দেখতে হবে।ছোট Body কী বোঝাতে পারে?যদি Open এবং Close খুব কাছাকাছি হয়, তাহলে Body ছোট হবে।এটি বোঝাতে পারে যে ওই সময়ের শুরু ও শেষ মূল্যের মধ্যে বড় পার্থক্য হয়নি।এ ধরনের ক্যান্ডেল বাজারে তুলনামূলক অনিশ্চয়তা বা ক্রেতা-বিক্রেতার ভারসাম্যের পরিস্থিতি বোঝাতে পারে।তবে শুধু ছোট Body দেখেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।লম্বা Wick কেন গুরুত্বপূর্ণ?এখন আসি ক্যান্ডেলস্টিকের একটি মজার অংশে।ধরুন একটি ক্যান্ডেলের ওপরের Wick অনেক লম্বা।এর অর্থ কী হতে পারে?দাম দিনের মধ্যে অনেক ওপরে উঠেছিল, কিন্তু পরে সেই উচ্চতা ধরে রাখতে পারেনি।অর্থাৎ ওপরে গিয়ে বিক্রির চাপ এসেছে কি না, সেটি বিশ্লেষণ করা যায়।অন্যদিকে নিচের Wick অনেক লম্বা হলে বোঝা যায় দাম নিচের দিকে গিয়েছিল, কিন্তু পরে সেখান থেকে উঠে এসেছে।এটি নিচের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।তবে এগুলোকে সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখতে হবে, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।Doji কী?Candlestick-এর একটি বহুল পরিচিত ধরন হলো Doji।যখন Open এবং Close প্রায় একই জায়গায় থাকে, তখন ক্যান্ডেলের Body খুব ছোট হয়ে যায়।এ ধরনের ক্যান্ডেলকে Doji বলা হয়।সহজভাবে:Doji = শুরু ও শেষের দাম প্রায় একই।এটি অনেক সময় বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সাময়িক অনিশ্চয়তা বা ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিতে পারে।কিন্তু Doji দেখলেই Trend পরিবর্তন হবে—এমন নয়।Doji কোথায় তৈরি হয়েছে সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।উদাহরণ:Resistance-এর কাছে DojiএবংSupport-এর কাছে Doji—দুটি পরিস্থিতির অর্থ এক নাও হতে পারে।ক্যান্ডেল কোথায় তৈরি হয়েছে সেটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।একই ক্যান্ডেল দুই জায়গায় দুই রকম অর্থ দিতে পারে।ধরুন একটি লম্বা নিচের Wick তৈরি হয়েছে।Support-এর কাছেএটি সম্ভাব্য ক্রেতা-প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।Downtrend-এর মাঝখানেএটি শুধু সাময়িক মূল্য প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।তাই ক্যান্ডেল বিশ্লেষণের সময় সবসময় প্রশ্ন করুন:“এই ক্যান্ডেলটি কোথায় তৈরি হয়েছে?”এটি শুধু “কী ক্যান্ডেল?” প্রশ্নের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।ক্যান্ডেল + Trendএকটি ক্যান্ডেল কখনো একা বিশ্লেষণ করবেন না।ধরুন একটি শেয়ার Uptrend-এ রয়েছে।সেখানে কয়েকটি Bullish Candle তৈরি হচ্ছে।তারপর একটি ছোট Bearish Candle তৈরি হলো।এখন প্রশ্ন:Trend কি পরিবর্তন হয়েছে?শুধু একটি Bearish Candle দেখে উত্তর দেওয়া যাবে না।আবার Downtrend-এর মধ্যে একটি Bullish Candle তৈরি হলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে Trend Reversal প্রমাণ করে না।এ কারণেই আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে Candlestick-এর সঙ্গে Trend, Support ও Resistance মিলিয়ে পড়ব।ক্যান্ডেল + Volumeক্যান্ডেলকে আরও ভালোভাবে বুঝতে Volume খুব গুরুত্বপূর্ণ।ধরুন:বড় Bullish Candle + খুব বেশি Volumeএবংবড় Bullish Candle + খুব কম Volumeএই দুটি পরিস্থিতিকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়।প্রথম ক্ষেত্রে বাজারে অংশগ্রহণ বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে।দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির শক্তি নিয়ে আরও যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে।DSEPlex-এর চার্টে Price-এর সঙ্গে Volume-ও দেখা যায়, তাই পরবর্তী পর্যায়ে আমরা সরাসরি এই দুই তথ্য একসঙ্গে পড়তে শিখব।ভলিউম — DSEPlex গ্লসারিবাংলাদেশের শেয়ারবাজারে একটি সহজ উদাহরণধরুন DSE-এর কোনো শেয়ারের দৈনিক তথ্য:Open = ৫০.০০High = ৫৫.০০Low = ৪৯.৫০Close = ৫৪.৫০এখন কী বোঝা গেল?শেয়ারটি ৫০ টাকা থেকে শুরু করেছে।দিনের মধ্যে ৫৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।৪৯.৫০ টাকা পর্যন্ত নেমেছে।শেষে ৫৪.৫০ টাকায় বন্ধ হয়েছে।এখানে:Close > Openতাই এটি Bullish Candle।আর যেহেতু High ছিল ৫৫ টাকা এবং Close ৫৪.৫০ টাকা, তাই ওপরে কিছুটা Wick রয়েছে।এখন একজন Technical Analyst আরও প্রশ্ন করবেন:আগের দিন কী হয়েছিল?আগের কয়েকদিনের Trend কী?৫৫ টাকা কি Resistance?Volume কেমন ছিল?এই ক্যান্ডেলটি Support-এর কাছে তৈরি হয়েছে কি?পরের দিন দাম কী করছে?এই প্রশ্নগুলোই ধীরে ধীরে আপনাকে সাধারণ Chart Reader থেকে Technical Analyst হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে।একটি ক্যান্ডেল পড়ার ৬ ধাপকোনো ক্যান্ডেল দেখলে এই ক্রমে বিশ্লেষণ করুন।ধাপ ১ — Open দেখুনকোথা থেকে শুরু হয়েছে?ধাপ ২ — Close দেখুনকোথায় শেষ হয়েছে?ধাপ ৩ — Body দেখুনBody বড় নাকি ছোট?ধাপ ৪ — Wick দেখুনওপরে বা নিচে Wick কতটা লম্বা?ধাপ ৫ — Volume দেখুনক্যান্ডেল তৈরির সময় Volume কেমন?ধাপ ৬ — অবস্থান দেখুনক্যান্ডেলটি কোথায় তৈরি হয়েছে?Support-এর কাছে?Resistance-এর কাছে?Uptrend-এ?Downtrend-এ?Sideways Market-এ?এই ছয়টি বিষয় একসঙ্গে দেখার অভ্যাস করুন।নতুনদের সাধারণ ভুলভুল ১: সবুজ মানেই কিনতে হবেভুল।সবুজ ক্যান্ডেল শুধু Close Open-এর ওপরে হয়েছে তা দেখায়।ভুল ২: লাল মানেই বিক্রি করতে হবেভুল।একটি Bearish Candle পুরো Trend পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।ভুল ৩: একটি Candle দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়াভুল।আগের ও পরের Price Action দেখতে হবে।ভুল ৪: Wick উপেক্ষা করাWick দিনের মধ্যে দামের প্রত্যাখ্যান বা মূল্যচাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।ভুল ৫: Volume না দেখাক্যান্ডেল ও Volume একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে তথ্য অনেক বেশি পরিষ্কার হতে পারে।ভুল ৬: ক্যান্ডেলের অবস্থান না দেখাএকই ক্যান্ডেল Support, Resistance এবং Trend-এর ভিন্ন অবস্থানে ভিন্ন অর্থ দিতে পারে।ছোট্ট অনুশীলনএখন DSEPlex-এর যেকোনো একটি শেয়ারের দৈনিক চার্ট খুলুন।DSEPlex চার্টএকটি ক্যান্ডেল নির্বাচন করুন।তারপর খাতায় বা মনে মনে লিখুন:Open = ?High = ?Low = ?Close = ?তারপর বলুন:১. এটি Bullish নাকি Bearish?২. Body বড় নাকি ছোট?৩. ওপরের Wick কেমন?৪. নিচের Wick কেমন?৫. Volume কেমন?৬. ক্যান্ডেলটি কোথায় তৈরি হয়েছে?৭. আগের ক্যান্ডেলগুলো কী করছিল?এই অনুশীলনটি কয়েকটি শেয়ারে করলে ক্যান্ডেলস্টিকের ভাষা আপনার কাছে অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।এই অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাএকটি ক্যান্ডেল শুধু একটি সবুজ বা লাল দণ্ড নয়।এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের বাজারের গল্প থাকে।Open বলে কোথা থেকে শুরু হয়েছে।High বলে কত ওপরে গিয়েছিল।Low বলে কত নিচে নেমেছিল।Close বলে শেষে কোথায় ছিল।Body বলে Open ও Close-এর মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছে।Wick বলে দাম Body-এর বাইরে কতদূর গিয়েছিল।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ক্যান্ডেলটি কোথায় এবং কোন Trend-এর মধ্যে তৈরি হয়েছে, সেটি তার অর্থ বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সহজে মনে রাখার সূত্রএকটি ক্যান্ডেল দেখলে মনে করুন:ওপেন → হাই → লো → ক্লোজতারপর:Body → Wick → Volume → অবস্থান → Trendএই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলেই আপনি ধীরে ধীরে ক্যান্ডেলস্টিক পড়তে শিখবেন।পরবর্তী অধ্যায়অধ্যায় ৪: ক্যান্ডেলস্টিকের ধরন — Bullish, Bearish, Doji ও গুরুত্বপূর্ণ Candle Patternপরবর্তী অধ্যায়ে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে শিখব:Bullish CandleBearish CandleDojiSpinning TopMarubozuHammerInverted HammerShooting StarHanging ManLong Wickশক্তিশালী Bullish Candleশক্তিশালী Bearish Candleকোন ক্যান্ডেল কোথায় বেশি গুরুত্বপূর্ণSupport ও Resistance-এর কাছে Candle কীভাবে পড়বেনDSE শেয়ারের বাস্তব উদাহরণকোন ক্যান্ডেল দেখে নতুনরা সবচেয়ে বেশি ভুল করেনএরপর Candlestick Pattern থেকে ধীরে ধীরে আমরা Trend ও Support-Resistance-এর সঙ্গে ক্যান্ডেল মিলিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করব।
171
9
পড়ুন →
Featured
technical analysis
29 Aug, 2026
ক্যান্ডেলস্টিকের ধরন — Bullish, Bearish, Doji ও গুরুত্বপূর্ণ Candle Pattern
ক্যান্ডেলস্টিকের ধরন কীভাবে চিনবেন?আগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছি একটি ক্যান্ডেলের মধ্যে Open, High, Low এবং Close থাকে। এখন আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্ডেল চিনতে শিখব।চার্টে সব ক্যান্ডেল দেখতে এক রকম নয়।কোনো ক্যান্ডেলের Body বড়, কোনোটি ছোট।কোনো ক্যান্ডেলের ওপরের Wick লম্বা, কোনো ক্যান্ডেলের নিচের Wick লম্বা।আবার কোনো ক্যান্ডেলে Open ও Close প্রায় একই জায়গায় থাকে।এই পার্থক্যগুলোই আমাদের বাজারের Price Action বা মূল্য আচরণ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।DSEPlex Glossary-তে Candlestick-কে নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্যকে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।ক্যান্ডেলস্টিক — DSEPlex গ্লসারিতবে একটি বিষয় শুরুতেই মনে রাখুন:কোনো একটি ক্যান্ডেল একা দেখে Buy বা Sell সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।ক্যান্ডেলের ধরন, অবস্থান, Trend, Support, Resistance এবং Volume—সবকিছু মিলিয়ে বিশ্লেষণ করতে হয়।প্রথমে দুটি বড় ভাগক্যান্ডেলস্টিককে প্রাথমিকভাবে দুটি বড় ভাগে ভাগ করে বোঝা যায়:Bullish Candleযখন Close > Open।অর্থাৎ যে দামে শুরু হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দামে শেষ হয়েছে।Bearish Candleযখন Close < Open।অর্থাৎ যে দামে শুরু হয়েছে, তার চেয়ে কম দামে শেষ হয়েছে।এখন এগুলোর ভেতরের বিভিন্ন ধরন দেখব।১. Bullish Candleধরুন একটি শেয়ারের তথ্য:Open = ১০০ টাকাHigh = ১১০ টাকাLow = ৯৮ টাকাClose = ১০৮ টাকাএখানে:Close > Openঅর্থাৎ এটি একটি Bullish Candle।এর অর্থ হলো ওই নির্দিষ্ট সময়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শেয়ারের মূল্য বেড়েছে।অনেক চার্টে এই ধরনের ক্যান্ডেল সবুজ রঙে দেখানো হয়।কিন্তু সতর্ক থাকুনএকটি Bullish Candle দেখলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে শেয়ারটি এখনই আরও বাড়বে।যদি এটি কোনো বড় Resistance-এর ঠিক নিচে তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।আবার যদি এটি শক্তিশালী Support-এর কাছ থেকে তৈরি হয়, তাহলে এর গুরুত্ব অন্যরকম হতে পারে।২. Bearish Candleধরুন:Open = ১১০ টাকাHigh = ১১২ টাকাLow = ১০০ টাকাClose = ১০২ টাকাএখানে:Close < Openতাই এটি Bearish Candle।অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারটির মূল্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কমেছে।অনেক চার্টে Bearish Candle লাল রঙে দেখানো হয়।কিন্তু এটিও মনে রাখুন:একটি লাল ক্যান্ডেল মানেই শেয়ারটি এখনই বিক্রি করতে হবে—এমন নয়।আগের Trend এবং ক্যান্ডেলটি কোথায় তৈরি হয়েছে তা দেখতে হবে।৩. Doji — যখন ক্রেতা-বিক্রেতার লড়াই প্রায় সমানDoji হলো এমন একটি ক্যান্ডেল যেখানে Open এবং Close খুব কাছাকাছি থাকে।ফলে Body খুব ছোট হয় বা প্রায় দেখা যায় না।সহজভাবে:Doji = শুরু এবং শেষের দাম প্রায় একই।ধরুন:Open = ১০০High = ১০৮Low = ৯৫Close = ১০০এখানে দিনের মধ্যে দাম অনেক ওপরে এবং নিচে গেলেও শেষ পর্যন্ত Open-এর কাছাকাছি ফিরে এসেছে।এটি বাজারে অনিশ্চয়তা বা ক্রেতা-বিক্রেতার সাময়িক ভারসাম্য বোঝাতে পারে।কিন্তু Doji দেখলেই Trend Reverse হবে—এমন নয়।Doji কোথায় তৈরি হয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণএকটি Doji যদি দীর্ঘ Uptrend-এর পর Resistance-এর কাছে তৈরি হয়, তাহলে বাজারে অনিশ্চয়তা বা ক্রেতাদের শক্তি কমছে কি না তা যাচাই করার কারণ হতে পারে।অন্যদিকে একই ধরনের Doji যদি একটি Sideways Market-এর মাঝখানে তৈরি হয়, তাহলে এর গুরুত্ব অনেক কম হতে পারে।তাই সবসময় প্রশ্ন করুন:Doji কী ধরনের? — এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো Doji কোথায় তৈরি হয়েছে?৪. Spinning TopSpinning Top হলো ছোট Body এবং তুলনামূলকভাবে ওপর ও নিচে Wick থাকা একটি ক্যান্ডেল।এটি সাধারণত বোঝায় যে ওই সময়ে দাম ওপরে ও নিচে উভয় দিকেই চলাচল করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত Open ও Close খুব দূরে সরে যায়নি।সহজভাবে বললে:ক্রেতারা দাম ওপরে নিতে চেয়েছে।বিক্রেতারাও দাম নিচে নামাতে চেয়েছে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ খুব পরিষ্কারভাবে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।এটি বাজারের অনিশ্চয়তা বা সাময়িক ভারসাম্য বোঝাতে পারে।তবে এটিকে একা Reversal Signal হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।৫. Marubozu — শক্তিশালী মূল্যচাপের ক্যান্ডেলMarubozu হলো এমন একটি ক্যান্ডেল যেখানে Body তুলনামূলকভাবে বড় এবং Wick খুব ছোট বা প্রায় নেই।Bullish MarubozuOpen-এর কাছাকাছি থেকে দাম শুরু হয়ে শক্তিশালীভাবে ওপরে উঠে Close-এর কাছাকাছি শেষ হয়েছে।উদাহরণ:Open = ১০০High ≈ ১১৫Low ≈ ১০০Close = ১১৫এখানে ক্রেতাদের শক্তিশালী মূল্যচাপ দেখা যেতে পারে।Bearish Marubozuএর বিপরীত।দাম Open-এর কাছাকাছি থেকে শুরু হয়ে নিচের দিকে শক্তিশালীভাবে নেমে Close-এর কাছাকাছি শেষ হয়েছে।এতে বিক্রেতাদের শক্তিশালী চাপের ইঙ্গিত থাকতে পারে।কিন্তু আবারও সতর্কতাশক্তিশালী Marubozu দেখেই শেয়ার কেনা বা বিক্রি করা উচিত নয়।দেখতে হবে এটি কোথায় তৈরি হয়েছে।যেমন:Resistance ভাঙার সময় Bullish MarubozuএবংUptrend-এর একেবারে ওপরে Bullish Marubozu—দুটি পরিস্থিতি এক নয়।৬. Hammer — নিচ থেকে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়াHammer একটি বহুল পরিচিত Candlestick Pattern।সাধারণত Hammer-এর:Body তুলনামূলকভাবে ছোটনিচের Wick দীর্ঘওপরের Wick খুব ছোট বা প্রায় নেইধরুন কোনো শেয়ারের দাম দিনের মধ্যে অনেক নিচে নেমেছিল।কিন্তু পরে ক্রেতারা সক্রিয় হয়ে দামকে আবার ওপরে নিয়ে এল।ফলে নিচের দিকে একটি লম্বা Wick তৈরি হলো।এটি Hammer-এর মতো দেখতে হতে পারে।সহজ উদাহরণOpen = ১০০High = ১০২Low = ৮৮Close = ১০১দাম ৮৮ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল।কিন্তু শেষে আবার ১০১ টাকায় উঠে এসেছে।এখানে নিচের দিকের বড় Wick দেখাচ্ছে যে নিম্ন দামে বিক্রির চাপ থাকলেও পরে দাম সেখান থেকে ফিরে এসেছে।Hammer কি Buy Signal?না, একা নয়।Hammer-এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হতে পারে যখন এটি:Downtrend-এর পরেগুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছেবড় পতনের পরVolume-এর সহায়ক পরিবর্তনের সঙ্গেদেখা যায়।কিন্তু Hammer দেখেই সঙ্গে সঙ্গে Buy করা ঠিক নয়।পরের ক্যান্ডেল বা Price Action দিয়ে Confirmation নেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।৭. Inverted Hammerনাম থেকেই কিছুটা বোঝা যায়।Inverted Hammer দেখতে অনেকটা উল্টো Hammer-এর মতো।এতে সাধারণত:Body ছোটওপরের Wick তুলনামূলকভাবে লম্বানিচের Wick ছোটদামের মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরোটা ধরে রাখা যায়নি।Downtrend-এর পরে এমন ক্যান্ডেল দেখা গেলে সম্ভাব্য Bullish Reversal-এর জন্য এটি পর্যবেক্ষণের কারণ হতে পারে।তবে এখানেও Confirmation গুরুত্বপূর্ণ।৮. Shooting Star — ওপরে গিয়ে বিক্রির চাপShooting Star দেখতে অনেকটা Inverted Hammer-এর মতো।কিন্তু এর অবস্থান এবং আগের Trend খুব গুরুত্বপূর্ণ।সাধারণত এটি Uptrend-এর পরে বা কোনো Resistance-এর কাছে দেখা গেলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।উদাহরণ:Open = ১০০High = ১২০Low = ৯৯Close = ১০২অর্থাৎ দাম দিনের মধ্যে অনেক ওপরে উঠেছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০২ টাকার কাছাকাছি ফিরে এসেছে।এতে বোঝা যেতে পারে যে ওপরে গিয়ে বিক্রির চাপ এসেছে।তাই Resistance-এর কাছে এমন ক্যান্ডেল তৈরি হলে সতর্ক হয়ে Price Action পর্যবেক্ষণ করা যায়।৯. Hanging ManHanging Man দেখতে অনেকটা Hammer-এর মতো।কিন্তু এর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।সাধারণত Uptrend-এর পরে এমন ক্যান্ডেল দেখা গেলে এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেত হতে পারে।উদাহরণ:একটি শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে।তারপর একদিন:দিনের মধ্যে অনেক নিচে নেমেছেপরে আবার ওপরে উঠে এসেছেফলে নিচে লম্বা Wick তৈরি হয়েছেএটি Hanging Man-এর মতো হতে পারে।কিন্তু শুধু এটি দেখেই বলা যাবে না যে শেয়ার এখনই পড়ে যাবে।পরবর্তী ক্যান্ডেল এবং Price Behaviour দেখতে হবে।Hammer বনাম Hanging Manদুটির আকৃতি কাছাকাছি হতে পারে।মূল পার্থক্য হলো অবস্থান।বিষয়HammerHanging Manসাধারণ অবস্থানDowntrend-এর পরেUptrend-এর পরেআকৃতিছোট Body + লম্বা নিচের Wickছোট Body + লম্বা নিচের Wickসম্ভাব্য অর্থBullish Reversal-এর সম্ভাবনাBearish দুর্বলতার সম্ভাবনাConfirmationপ্রয়োজনপ্রয়োজনএখান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:ক্যান্ডেলের আকৃতি একা যথেষ্ট নয়। ক্যান্ডেল কোথায় তৈরি হয়েছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।Inverted Hammer বনাম Shooting Starএখানেও আকৃতি কাছাকাছি হতে পারে।বিষয়Inverted HammerShooting Starসাধারণ অবস্থানDowntrend-এর পরেUptrend-এর পরেওপরের Wickলম্বালম্বাসম্ভাব্য অর্থBullish Reversal-এর সম্ভাবনাBearish Reversal-এর সম্ভাবনাConfirmationপ্রয়োজনপ্রয়োজনঅর্থাৎ একই ধরনের আকৃতি ভিন্ন Trend-এ ভিন্ন অর্থ দিতে পারে।এটাই Candlestick Analysis-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।Long Wick Candleকখনো ক্যান্ডেলের ওপর বা নিচে অস্বাভাবিক লম্বা Wick দেখা যায়।লম্বা নিচের Wickদাম নিচে গিয়েছিল, কিন্তু পরে সেখান থেকে অনেকটা ফিরে এসেছে।এটি নিচের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।লম্বা ওপরের Wickদাম ওপরে গিয়েছিল, কিন্তু পরে সেই উচ্চতা ধরে রাখতে পারেনি।এটি ওপরের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।Price Action-এর ক্ষেত্রে এই ধরনের Wick গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।Price Action — DSEPlex গ্লসারিক্যান্ডেলের আকার বনাম ক্যান্ডেলের অবস্থানএটি পুরো অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।ধরুন একটি ছোট Body এবং লম্বা নিচের Wick-এর ক্যান্ডেল তৈরি হয়েছে।এখন দুটি পরিস্থিতি:পরিস্থিতি ১একটি শক্তিশালী Support-এর কাছে তৈরি হয়েছে।এখানে সম্ভাব্য ক্রেতা-প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।পরিস্থিতি ২চার্টের মাঝখানে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ Support বা Resistance ছাড়া তৈরি হয়েছে।এখানে এর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।অর্থাৎ:ক্যান্ডেল কী — তার পাশাপাশি ক্যান্ডেল কোথায় — সেটিও জানতে হবে।Candlestick + Supportএখন আগের অধ্যায়ের ধারণার সঙ্গে ক্যান্ডেলকে যুক্ত করি।ধরুন কোনো শেয়ারের Support ১০০ টাকা।দাম:১২০ → ১১০ → ১০৫ → ১০০ → ৯৮ → ১০৩১০০ টাকার আশেপাশে একটি Hammer তৈরি হলো।এখন আমরা বলতে পারি:Support-এর কাছে Hammer তৈরি হয়েছে।এটি সম্ভাব্য Bullish Price Reaction-এর জন্য পর্যবেক্ষণ করার একটি কারণ হতে পারে।কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে Confirmation দেখতে হবে।Support — DSEPlex গ্লসারিCandlestick + Resistanceধরুন Resistance ১৫০ টাকা।দাম:১৩০ → ১৪০ → ১৪৮ → ১৫২ → ১৪৯১৫০ টাকার আশেপাশে একটি Shooting Star তৈরি হলো।এখন আমরা লক্ষ্য করতে পারি:Resistance-এর কাছে ওপরের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যান হয়েছে কি না।এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার একটি সংকেত হতে পারে।কিন্তু এখানেও Confirmation প্রয়োজন।Resistance — DSEPlex গ্লসারিCandlestick + Volumeক্যান্ডেলকে আরও ভালোভাবে বুঝতে Volume-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।ধরুন একটি শেয়ারে বড় Bullish Candle তৈরি হলো।এখন যদি একই সময়ে Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে বাজারে অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।আবার একই ধরনের ক্যান্ডেল খুব কম Volume-এ তৈরি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।তাই মনে রাখুন:ক্যান্ডেল বলে কী হয়েছে, Volume সাহায্য করে কতটা অংশগ্রহণের সঙ্গে হয়েছে তা বুঝতে।Volume — DSEPlex গ্লসারিCandlestick + Trendএকটি ক্যান্ডেলের অর্থ বোঝার জন্য Trend অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।যেমন:Downtrend + HammerএবংUptrend + Hanging Man—দুটির আকৃতি কাছাকাছি হলেও সম্ভাব্য অর্থ ভিন্ন।তাই ক্যান্ডেল দেখার আগে চার্টে Trend চিহ্নিত করার অভ্যাস করুন।Trend — DSEPlex গ্লসারিবাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কীভাবে অনুশীলন করবেন?DSEPlex-এর কোনো শেয়ারের দৈনিক চার্ট খুলুন।DSEPlex চার্টতারপর কয়েকটি বিষয় খুঁজুন:১. বড় Bullish Candle২. বড় Bearish Candle৩. Doji৪. লম্বা নিচের Wick৫. লম্বা ওপরের Wick৬. Support-এর কাছে তৈরি হওয়া Candle৭. Resistance-এর কাছে তৈরি হওয়া Candleপ্রথম দিনেই Hammer বা Shooting Star খুঁজে Buy/Sell সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।শুধু চোখকে ক্যান্ডেল চিনতে অভ্যস্ত করুন।একটি বাস্তব অনুশীলনধরুন একটি শেয়ারের চার্টে আপনি দেখলেন:আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম কমছে।তারপর Support-এর কাছে একটি Candle তৈরি হলো:Open = ১০০High = ১০৩Low = ৮৮Close = ১০২এখন চিন্তা করুন:দাম অনেক নিচে গিয়েছিলকিন্তু শেষ পর্যন্ত ওপরে ফিরে এসেছেনিচে বড় Wick তৈরি হয়েছেClose, Open-এর ওপরেCandle Support-এর কাছেএটি সম্ভাব্য Bullish Reaction-এর একটি আকর্ষণীয় পরিস্থিতি হতে পারে।কিন্তু এখনও প্রশ্ন আছে:পরের দিন কী হলো?যদি পরের দিনও দাম শক্তিশালীভাবে ওপরে যায় এবং আগের Candle-এর High অতিক্রম করে, তাহলে Confirmation-এর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে।অর্থাৎ:Pattern → Location → Confirmationএই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ভাবতে হবে।নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুলভুল ১: ক্যান্ডেলের নাম মুখস্থ করেই ট্রেড করাHammer দেখলাম = Buy।Shooting Star দেখলাম = Sell।এভাবে ট্রেড করা উচিত নয়।ভুল ২: ক্যান্ডেলের অবস্থান না দেখাএকই আকৃতির ক্যান্ডেল ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন অর্থ দিতে পারে।ভুল ৩: Confirmation বাদ দেওয়াবিশেষ করে Reversal Pattern-এর ক্ষেত্রে পরবর্তী Price Action দেখা গুরুত্বপূর্ণ।ভুল ৪: Volume উপেক্ষা করাক্যান্ডেলের সঙ্গে Volume বিশ্লেষণ করলে বাজারের অংশগ্রহণ সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়।ভুল ৫: এক দিনের Candle দেখে পুরো Trend পরিবর্তন ধরে নেওয়াএকটি Candle গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু পুরো Trend পরিবর্তন প্রমাণ করতে আরও তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।ক্যান্ডেলস্টিক মনে রাখার সহজ পদ্ধতিপ্রথমে সব Pattern মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন না।এইভাবে ভাগ করে শিখুন:শক্তিশালী মূল্যচাপBullish MarubozuBearish Marubozuঅনিশ্চয়তাDojiSpinning Topনিচের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানHammerHanging Manওপরের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানInverted HammerShooting Starতারপর প্রতিটির অবস্থান ও Trend শিখুন।দ্রুত রিভিশনক্যান্ডেলসহজ ধারণাBullish CandleClose > OpenBearish CandleClose < OpenDojiOpen ও Close প্রায় একইSpinning Topছোট Body, দুই দিকে WickBullish Marubozuশক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী মূল্যচাপBearish Marubozuশক্তিশালী নিম্নমুখী মূল্যচাপHammerDowntrend-এর পরে নিচের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনাInverted HammerDowntrend-এর পরে সম্ভাব্য Bullish ReactionHanging ManUptrend-এর পরে সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেতShooting StarUptrend-এর পরে ওপরের দিকে মূল্য প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনাএই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাক্যান্ডেলস্টিকের নাম জানা মানেই Candlestick Analysis জানা নয়।একজন ভালো Technical Analyst শুধু বলেন না—“এটি Hammer।”তিনি আরও প্রশ্ন করেন—কোথায় তৈরি হয়েছে?আগে Trend কী ছিল?Support বা Resistance-এর কাছে কি?Volume কেমন?পরবর্তী Candle কী করছে?এই পাঁচটি প্রশ্ন করতে পারলেই আপনার Candlestick Analysis সত্যিকার অর্থে শুরু হবে।মনে রাখার সূত্রএকটি ক্যান্ডেল দেখুন:আকৃতি↓Body↓Wick↓Open বনাম Close↓Trend↓Support / Resistance↓Volume↓Confirmationএই ধারাবাহিকতায় ক্যান্ডেল বিশ্লেষণ করার অভ্যাস করুন।পরবর্তী অধ্যায়অধ্যায় ৫: ট্রেন্ড কী? — Uptrend, Downtrend ও Sideways Marketপরবর্তী অধ্যায়ে আমরা শিখব:Trend কীUptrend কীDowntrend কীSideways Market কীHigher HighHigher LowLower HighLower Lowকীভাবে চার্টে Trend চিহ্নিত করবেনTrend কেন Technical Analysis-এর ভিত্তিTrend পরিবর্তনের প্রাথমিক সংকেতSupport ও Resistance-এর সঙ্গে Trend-এর সম্পর্কDSE শেয়ারের চার্টে Trend খোঁজার পদ্ধতিনতুনদের Trend বিশ্লেষণের সাধারণ ভুলএরপর আমরা Trendline এবং তারপর Support & Resistance-কে আরও গভীরভাবে শিখব।
140
3
পড়ুন →
technical analysis
29 Aug, 2026
সাপোর্ট কী? — শক্তিশালী Support কীভাবে চিহ্নিত করবেন
Support কী?আগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছি Trendline কীভাবে ব্যবহার করে কোনো শেয়ারের মূল্যপ্রবণতা বোঝা যায়।এখন আমরা Technical Analysis-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা শিখব—Support।সহজ ভাষায় বললে—কোনো শেয়ারের দাম নিচের দিকে আসার পর এমন একটি মূল্যাঞ্চল যেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ বা ক্রয়চাপ বাড়তে দেখা যেতে পারে এবং দাম সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে, সেটিকে Support বলা হয়।ডিএসইপ্লেক্সের গ্লসারিতেও Support-কে এমন একটি মূল্যস্তর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেখানে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।সাপোর্ট — ডিএসইপ্লেক্স গ্লসারিতবে একটি বিষয় শুরুতেই মনে রাখুন:Support কোনো পাকা দেয়াল নয়।Support-এর কাছে দাম এলেই যে অবশ্যই সেখান থেকে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।Support কেন তৈরি হয়?এটি বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেখি।ধরুন কোনো শেয়ারের দাম ১৫০ টাকা থেকে কমতে শুরু করল।দাম:১৫০ → ১৪০ → ১৩০ → ১২০ → ১১০১১০ টাকায় এসে অনেক বিনিয়োগকারী মনে করলেন—“এই দামে শেয়ারটি তুলনামূলক আকর্ষণীয়।”তারা কিনতে শুরু করলেন।ফলে দাম:১১০ → ১১৮ → ১২৫এভাবে ওপরে উঠতে পারে।পরবর্তীতে আবার দাম ১১০ টাকার কাছাকাছি এলে একই ধরনের ক্রেতা সক্রিয় হতে পারে।এভাবে একই অঞ্চলে বারবার Price Reaction হলে ওই অঞ্চলটি Support Zone হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।Support Level বনাম Support Zoneনতুনদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।অনেকে মনে করেন:“Support মানে ঠিক ১০০ টাকা।”বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা নির্দিষ্ট নয়।ধরুন কোনো শেয়ার বারবার:৯৮ → ১০০ → ১০২টাকার আশেপাশে এসে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।এখানে শুধু ১০০ টাকা নয়, বরং ৯৮–১০২ টাকার অঞ্চলকে Support Zone হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে।অর্থাৎ:Support = অনেক সময় একটি অঞ্চল, শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়।একটি সহজ উদাহরণধরুন একটি শেয়ারের মূল্য:১২০ → ১১০ → ১০২ → ১০০ → ১০৬আবার:১১২ → ১০৪ → ১০০ → ১০৮আবার:১১৫ → ১০২ → ৯৯ → ১০৭এখানে ৯৯–১০২ টাকার আশেপাশে বারবার Price Reaction দেখা যাচ্ছে।তাই আমরা বলতে পারি:৯৯–১০২ টাকা = সম্ভাব্য Support Zoneএটি শুধু ১০০ টাকা বলে চিহ্নিত করার চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত।Support কীভাবে চিহ্নিত করবেন?একটি চার্টে Support খুঁজতে প্রথমে অতীতের গুরুত্বপূর্ণ Swing Low খুঁজুন।আগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছি:Swing Low হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিম্নবিন্দু যেখান থেকে Price আবার ওপরে উঠেছে।যদি দেখা যায় কোনো মূল্যাঞ্চলে:একবার দাম থেমেছেপরে আবার সেখানে এসেছেআবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেতাহলে সেই অঞ্চলটি Support হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।একটি চার্টের উদাহরণধরুন:১০০ → ১২০ → ১০৫ → ১৩০ → ১০৬ → ১৪০এখানে ১০৫–১০৬ টাকার আশেপাশে Price দুবার এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।তাহলে ১০৫–১০৬ অঞ্চলটি সম্ভাব্য Support।এখন যদি ভবিষ্যতে Price আবার এই অঞ্চলে আসে, তখন আমরা দেখব:দাম কি আবার এখান থেকে প্রতিক্রিয়া দেখায়?একটি Support কতবার Test হয়েছে?ধরুন কোনো Support Zone-এ Price:প্রথমবার এসে ঘুরে দাঁড়াল।তারপর কিছুদিন পর—দ্বিতীয়বার এসে ঘুরে দাঁড়াল।তারপর—তৃতীয়বার এসে আবার ক্রেতা সক্রিয় হলো।তাহলে ওই Support Zone বাজারে বেশ পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে।শুধু Test-এর সংখ্যা বেশি হলেই Support সবসময় শক্তিশালী হবে—এমন নয়।বারবার Test হওয়ার কারণে কখনো কখনো Support-এর ওপর চাপও জমতে পারে।তাই Price Behaviour এবং Volume-ও দেখতে হবে।Strong Support কী?Strong Support বলতে এমন একটি Support Zone বোঝানো হয় যেটি বিভিন্ন সময় Price-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেখানে ক্রেতাদের শক্তিশালী আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।একটি Support তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যদি:সেখানে একাধিকবার Price ঘুরে দাঁড়ায়বড় Price Reversal দেখা যায়Volume উল্লেখযোগ্য থাকেবড় Timeframe-এও অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়Trendline Support-এর সঙ্গে মিলে যায়আগের গুরুত্বপূর্ণ Swing Low সেখানে থাকেতবে “Strong Support” কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক সংজ্ঞা নয়।এটি পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্লেষণ করতে হয়।Weak Support কী?যদি কোনো মূল্যাঞ্চলে মাত্র একবার সামান্য Price Reaction দেখা যায় এবং অন্য কোনো শক্তিশালী প্রমাণ না থাকে, তাহলে সেটিকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল Support হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।উদাহরণ:দাম একবার ১০০ টাকায় এসে ১০২ টাকা হলো।শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে ১০০ টাকা খুব শক্তিশালী Support ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।কারণ আরও Price Reaction প্রয়োজন হতে পারে।Support-এর কাছে Candlestick কেন গুরুত্বপূর্ণ?Support খুঁজে পেলেই কাজ শেষ নয়।Price Support Zone-এ পৌঁছানোর পর কী ধরনের Candlestick তৈরি করছে, সেটিও দেখতে হবে।ধরুন:Support Zone = ১০০–১০২দাম সেখানে এসে একটি দীর্ঘ নিচের Wick-সহ Bullish Candle তৈরি করল।এতে নিচের দিকে Price Rejection হয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।আবার Support ভাঙার সময় যদি একটি বড় Bearish Candle তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন।ক্যান্ডেলস্টিক — ডিএসইপ্লেক্স গ্লসারিSupport + VolumeSupport বিশ্লেষণের সময় Volume অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।ধরুন একটি শেয়ার Support-এর কাছে এসেছে।সেখানে:দাম কমছে + Volume বাড়ছেএবং পরে:দাম ঘুরে দাঁড়াচ্ছে + Volume বাড়ছেএই Price-Volume Behaviour আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।আবার Support-এর নিচে যাওয়ার সময় যদি Volume উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, তাহলে Support Break-এর বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে।ভলিউম — ডিএসইপ্লেক্স গ্লসারিSupport + Trendlineআগের অধ্যায়ে আমরা Trendline শিখেছি।Uptrend-এ গুরুত্বপূর্ণ Higher Low-গুলো যুক্ত করে একটি Trendline তৈরি করা যায়।যদি সেই Trendline-এর কাছাকাছি একটি Horizontal Support-ও থাকে, তাহলে একই Price Zone-এ দুটি Technical ধারণা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।উদাহরণ:Horizontal Support = ১০০–১০২Uptrend Line = প্রায় ১০১এখানে ১০০–১০২ অঞ্চলটি আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।এ ধরনের একাধিক Technical Factor একই জায়গায় মিললে পরবর্তীতে আমরা Confluence ধারণাটি শিখব।[ট্রেন্ডলাইন — ডিএসইপ্লেক্সের এই গ্লসারি পেজটি আপনার সাইটে থাকলে এখানে সরাসরি যুক্ত করা যাবে]Dynamic Support কী?আগের অধ্যায়ে আমরা Trendline-এর মাধ্যমে Dynamic Support-এর ধারণা পেয়েছি।Horizontal Support সাধারণত একটি নির্দিষ্ট Price Zone-এ থাকে।কিন্তু Trendline সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।তাই Trendline-কে অনেক সময় Dynamic Support হিসেবে দেখা হয়।উদাহরণ:আজ Trendline Support = ১০০ টাকাকিছুদিন পরে = ১০৫ টাকাআরও পরে = ১১০ টাকাঅর্থাৎ Support-এর অবস্থান সময়ের সঙ্গে ওপরে উঠছে।Moving Average কি Support হিসেবে কাজ করতে পারে?হ্যাঁ, কিছু পরিস্থিতিতে Moving Average Dynamic Support হিসেবে কাজ করতে পারে।উদাহরণ:কোনো শেয়ার Uptrend-এ আছে।Price একটি নির্দিষ্ট Moving Average-এর কাছে এসে বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।তাহলে সেই Moving Average-কে Dynamic Support হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।তবে এখনই Moving Average নিয়ে বিস্তারিত যাওয়ার প্রয়োজন নেই।আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে Moving Average আলাদাভাবে শিখব।Support Break কী?এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।ধরুন কোনো শেয়ারের Support Zone:১০০–১০২ টাকাদাম:১০৫ → ১০২ → ১০০ → ৯৮ → ৯৫এখানে Price Support Zone-এর নিচে চলে গেছে।এটিকে Support Break বা Support ভাঙা হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেত।তবে শুধু দিনের মধ্যে ৯৮ টাকায় যাওয়া দেখেই Support Break নিশ্চিত করা ঠিক নয়।Close কোথায় হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।Support Break-এর সময় কী দেখবেন?Support ভাঙার পর এই বিষয়গুলো দেখুন:১. Close কোথায়?Support-এর নিচে শক্তিশালী Close হয়েছে কি?২. Volume কেমন?Break-এর সময় Volume বেড়েছে কি?৩. Candle কেমন?বড় Bearish Candle হয়েছে কি?৪. পরের দিন কী হয়েছে?Price আবার Support-এর ওপরে উঠে এসেছে কি?৫. Retest হয়েছে কি?ভাঙা Support-এর কাছে ফিরে গিয়ে Price আবার নিচে নেমেছে কি?এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে Support Break সম্পর্কে ধারণা অনেক বেশি পরিষ্কার হবে।Support ভাঙার পর কী হতে পারে?একটি গুরুত্বপূর্ণ Support ভেঙে গেলে কয়েকটি পরিস্থিতি হতে পারে।পরিস্থিতি ১ — Price আরও নিচে যায়Support সত্যিকার অর্থে ভেঙে গিয়ে Downside Movement শুরু হতে পারে।পরিস্থিতি ২ — False BreakPrice সাময়িকভাবে Support-এর নিচে গিয়ে আবার ওপরে উঠে আসতে পারে।পরিস্থিতি ৩ — RetestPrice Support ভেঙে নিচে যাওয়ার পর আবার পুরোনো Support-এর কাছে ফিরে আসতে পারে।তারপর যদি সেই পুরোনো Support আর Support হিসেবে কাজ না করে, বরং Resistance-এর মতো আচরণ করে, তাহলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ Price Behaviour হতে পারে।এই ধারণাটিকে আমরা পরবর্তী Breakout ও Retest অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে শিখব।Support কি পরে Resistance হতে পারে?হ্যাঁ।এটি Technical Analysis-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।ধরুন:Support = ১০০ টাকাPrice Support ভেঙে ৯০ টাকায় গেল।তারপর আবার ১০০ টাকার কাছে ফিরে এলো।কিন্তু এবার ১০০ টাকায় গিয়ে Price আবার নিচে নেমে গেল।অর্থাৎ পুরোনো Support এখন Resistance হিসেবে কাজ করছে কি না তা বিশ্লেষণ করা যায়।এটিকে অনেক সময় Role Reversal বলা হয়।সহজভাবে:আগের Support ভেঙে গেলে সেটি ভবিষ্যতে Resistance হিসেবে কাজ করতে পারে।Support এবং Resistance-এর সম্পর্কSupport এবং Resistance একে অপরের বিপরীত ধারণা হলেও দুটির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।সহজভাবে:Support = নিচের দিকের গুরুত্বপূর্ণ Price ZoneResistance = ওপরের দিকের গুরুত্বপূর্ণ Price Zoneএকটি Support Break হলে সেটি পরবর্তীতে Resistance হতে পারে।আবার একটি Resistance Break হলে সেটি পরবর্তীতে Support হতে পারে।এই ধারণাটি পরবর্তী অধ্যায়ে Resistance শেখার সময় আরও পরিষ্কার হবে।সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স — ডিএসইপ্লেক্স গ্লসারিএকটি বাস্তব DSE উদাহরণধরুন আপনি DSEPlex-এর কোনো শেয়ারের দৈনিক Chart খুললেন।DSEPlex চার্টআপনি লক্ষ্য করলেন:দাম ১২০ → ১১০ → ১০২ → ১০০তারপর:১০০ → ১০৮কিছুদিন পর:১১২ → ১০২ → ১০০ → ১০৯এখন আপনি দেখতে পাচ্ছেন ১০০ টাকার আশেপাশে একাধিকবার Price Reaction হয়েছে।তাই:প্রাথমিক Support Zone = ৯৯–১০২ টাকাএরপর Price আবার ওই অঞ্চলে এলে আপনি দেখবেন:Candle কী করছেVolume কী করছেClose কোথায়Support-এর নিচে যাচ্ছে কি নাপরের দিন কী হচ্ছেএইভাবেই Support বিশ্লেষণ করতে হয়।Support চিহ্নিত করার একটি সহজ পদ্ধতিDSEPlex-এর কোনো শেয়ারের Chart খুলুন।DSEPlex চার্টতারপর:ধাপ ১Daily Chart নির্বাচন করুন।ধাপ ২গত কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের Price Movement দেখুন।ধাপ ৩যেখানে Price বারবার নিচে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন।ধাপ ৪একই অঞ্চলে একাধিক Low থাকলে সেটিকে একটি Zone হিসেবে দেখুন।ধাপ ৫Support Zone-এর কাছে Volume দেখুন।ধাপ ৬Support-এর কাছে Candlestick কী ধরনের তা দেখুন।ধাপ ৭Price Support-এর নিচে Close করলে সেটিকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করুন।Support Zone আঁকার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মনতুনরা অনেক সময় শুধু একটি Low-এর দামে একটি সরু লাইন আঁকেন।ধরুন Low:১০০.০০পরেরবার:১০১.২০তারপর:৯৯.৫০এখন যদি আপনি শুধু ১০০.০০-তে একটি লাইন আঁকেন, তাহলে বাস্তব Price Behaviour পুরোপুরি ধরা নাও পড়তে পারে।বরং:৯৯.৫০–১০১.২০এর মতো একটি Support Zone বিবেচনা করা অনেক সময় বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।Support কতটা শক্তিশালী — কীভাবে বিচার করবেন?একটি Support-এর গুরুত্ব বিচার করার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:১. কতবার Price Reaction হয়েছে?একাধিকবার হয়েছে কি?২. Reaction কতটা শক্তিশালী?Support থেকে Price সামান্য উঠেছে, নাকি বড়ভাবে উঠেছে?৩. Volume কেমন ছিল?Reaction-এর সময় Volume উল্লেখযোগ্য ছিল কি?৪. কোন Timeframe-এ Support?সাপ্তাহিক Support সাধারণত কয়েক মিনিটের Chart-এর Support-এর চেয়ে বড় ছবিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।৫. Trendline-এর সঙ্গে মিলছে কি?Horizontal Support এবং Trendline Support একই অঞ্চলে কি না।৬. আগের গুরুত্বপূর্ণ Low আছে কি?পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ Swing Low-এর সঙ্গে মিল আছে কি?Support-এর কাছে কী ধরনের Candle খুঁজবেন?Support Zone-এ পৌঁছানোর পর বিশেষভাবে লক্ষ্য করতে পারেন:HammerBullish EngulfingLong Lower WickDojiশক্তিশালী Bullish Candleতবে এগুলোর কোনোটিই একা Buy Signal নয়।আমরা পরবর্তী পর্যায়ে এগুলোকে Confirmation-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখব।Support-এর কাছে Volume কীভাবে দেখবেন?একটি উদাহরণ:দাম Support-এর দিকে নামছে।তারপর Support-এর কাছে:Volume বৃদ্ধি + Price Stabilizationদেখা গেল।এরপর:Bullish Candle + Price Recoveryহলো।এই পুরো পরিস্থিতি একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা যায়।কিন্তু শুধু Volume বেড়েছে বলে Support ধরে নিয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।Support কি সবসময় কাজ করে?না।বাজারে কোনো Support ১০০% নির্ভরযোগ্য নয়।কারণ:নতুন খবর আসতে পারেকোম্পানির ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারেবাজারের সামগ্রিক অবস্থা বদলাতে পারেবিক্রির চাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারেবিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারেতাই Support হলো একটি সম্ভাব্য Price Reaction Zone।এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখবেন না।নতুনদের ৮টি সাধারণ ভুলভুল ১একটি Low দেখেই Support ধরে নেওয়া।ভুল ২Support-কে একটি নির্দিষ্ট টাকা হিসেবে দেখা।ভুল ৩Support-এর কাছে এলেই Buy করা।ভুল ৪Support Break-এর পরও পুরোনো Support-কে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা।ভুল ৫Volume না দেখা।ভুল ৬Candlestick না দেখা।ভুল ৭শুধু ছোট Timeframe-এর Support দেখা।ভুল ৮একটি Support কাজ না করলে Technical Analysis-কে ভুল মনে করা।মনে রাখবেন:Support সম্ভাবনা তৈরি করে, নিশ্চয়তা নয়।একটি সহজ Support Checklistকোনো শেয়ারের Support খুঁজলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:১. আগে কি এই অঞ্চলে Price ঘুরে দাঁড়িয়েছে?২. একাধিকবার কি এমন হয়েছে?৩. এটি Level নাকি Zone?৪. Swing Low-এর সঙ্গে মিল আছে কি?৫. Trendline-এর সঙ্গে মিল আছে কি?৬. Volume কেমন?৭. Support-এর কাছে Candle কেমন?৮. Support-এর নিচে Close হয়েছে কি?৯. Break-এর পর Price আবার Support-এর কাছে ফিরেছে কি?১০. বড় Timeframe-এও এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ কি?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার হবে, Support Analysis তত ভালো হবে।ছোট্ট অনুশীলনDSEPlex-এর একটি শেয়ারের Daily Chart খুলুন।DSEPlex চার্টগত কয়েক মাসের Price Movement দেখুন।তারপর তিনটি সম্ভাব্য Support Zone খুঁজুন।প্রতিটির পাশে লিখুন:Support Zone: ?কতবার Test হয়েছে: ?সর্বশেষ Reaction: ?Volume: ?Candlestick: ?বর্তমান Price থেকে দূরত্ব: ?এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:“Price আবার এই Support Zone-এ এলে আমি কী কী Confirmation দেখব?”এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অভ্যাস আপনাকে শুধু Support আঁকা থেকে বাস্তব বিশ্লেষণের দিকে নিয়ে যাবে।এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাSupport মানে এমন কোনো জায়গা নয় যেখানে দাম অবশ্যই থামবে।বরং:Support হলো এমন একটি সম্ভাব্য Price Zone যেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে এবং Price সেখান থেকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।একটি ভালো Support Analysis করতে হলে শুধু একটি দামের দিকে তাকাবেন না।দেখবেন:Price↓Swing Low↓Support Zone↓Candlestick↓Volume↓Trend↓Confirmationএই পুরো কাঠামো একসঙ্গে দেখতে হবে।এক লাইনে মনে রাখুনSupport = নিচের দিকে সম্ভাব্য ক্রেতা-সমর্থনের মূল্যাঞ্চল।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:Support ভাঙতে পারে, তাই Support কখনোই নিশ্চিত নিরাপত্তা নয়।পরবর্তী অধ্যায়অধ্যায় ৮: Resistance কী? — শক্তিশালী Resistance কীভাবে চিহ্নিত করবেনপরবর্তী অধ্যায়ে আমরা Support-এর বিপরীত ধারণা Resistance বিস্তারিতভাবে শিখব।শিখব:Resistance কীResistance Level বনাম Resistance Zoneকেন Resistance তৈরি হয়Swing High দিয়ে Resistance চেনাStrong বনাম Weak Resistanceএকাধিকবার Resistance TestDynamic ResistanceTrendline ResistanceResistance BreakBreakout কীভাবে চিনবেনResistance ভাঙার পর কী হতে পারেপুরোনো Resistance কীভাবে Support হতে পারেCandlestick দিয়ে Resistance বিশ্লেষণVolume দিয়ে Resistance Break যাচাইDSE শেয়ারে বাস্তব উদাহরণনতুনদের সাধারণ ভুলএরপর Support + Resistance + Trend + Candlestick একসঙ্গে ব্যবহার করে চার্ট বিশ্লেষণ শুরু করব।
89
3
পড়ুন →
market basics
02 Sep, 2026
শেয়ার বাজার শেখার গাইড: একদম শুরু থেকে বিনিয়োগ বোঝার সহজ পথ
শেয়ার বাজারের নাম শুনলেই অনেকের মনে হয় এটি খুব কঠিন একটি বিষয়। চার্ট, DSEX, EPS, P/E Ratio, Dividend, Volume, Support, Resistance—এত ধরনের শব্দ দেখে একজন নতুন বিনিয়োগকারী সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে শেয়ার বাজার শেখার জন্য শুরুতেই অনেক কিছু জানার প্রয়োজন নেই। কিছু মৌলিক বিষয় ধারাবাহিকভাবে বুঝতে পারলেই ধীরে ধীরে বাজার, কোম্পানি এবং শেয়ারের আচরণ বোঝা সম্ভব।
এই গাইডটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের একদম নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য। এখানে আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে শেয়ার বাজার বোঝার চেষ্টা করব।
গুরুত্বপূর্ণ: এই গাইডটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কেনা বা বিক্রির পরামর্শ হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে নিজে যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ব্রোকার বা বিনিয়োগ পরামর্শকের সহায়তা নিন।
অধ্যায় ১: শেয়ার বাজার আসলে কী?
সহজ ভাষায়, শেয়ার বাজার হলো এমন একটি বাজার যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানার অংশ বা শেয়ার কেনাবেচা করা হয়।
ধরুন, একটি কোম্পানির মোট ১০ লাখ শেয়ার আছে। আপনি যদি সেই কোম্পানির ১,০০০টি শেয়ার কিনেন, তাহলে কোম্পানিটির খুব ছোট একটি অংশের মালিক আপনি হয়ে গেলেন।
এই কারণেই Share শুধু একটি কাগজ বা ট্রেডিংয়ের সংখ্যা নয়—এটি একটি ব্যবসার মালিকানার অংশ।
বাংলাদেশে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টক এক্সচেঞ্জ হলো:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)
DSE কী?
DSE বা Dhaka Stock Exchange হলো বাংলাদেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ, যেখানে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়।
DSEX কী?
DSEX হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজার সূচক। বাজারের অনেক শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার সামগ্রিক একটি ধারণা এই সূচক থেকে পাওয়া যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—DSEX বাড়লেই আপনার কেনা প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন নয়।
বাজারের সামগ্রিক অবস্থা এবং নির্দিষ্ট কোম্পানির অবস্থা আলাদা বিষয়।
অধ্যায় ২: শেয়ার কেনার আগে কী কী লাগবে?
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে শুধু টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন হয় একটি BO Account।
BO Account কী?
BO Account বা Beneficiary Owner Account হলো এমন একটি হিসাব যেখানে আপনার কেনা শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে:
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকে → BO Account-এ আপনার শেয়ার থাকে।
একজন নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য BO Account, Broker, Trading Account এবং টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি বিষয় হলো—শেয়ার বাজারে প্রবেশ করার আগে আপনার নিজের Investment Horizon এবং Risk Tolerance বোঝা দরকার।
Investment Horizon
আপনি কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, সেটিই Investment Horizon।
উদাহরণ:
কয়েক দিন → স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং
কয়েক মাস → মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগ
কয়েক বছর → দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
Risk Tolerance
বিনিয়োগের সময় আপনি কতটা মূল্য ওঠানামা বা সম্ভাব্য ক্ষতি গ্রহণ করতে পারবেন, সেটিই Risk Tolerance।
শুধু অন্য কেউ লাভ করেছে দেখে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার বাইরে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
অধ্যায় ৩: একটি শেয়ারের দাম কীভাবে ওঠানামা করে?
এটি শেয়ার বাজার বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
একটি শেয়ারের দাম মূলত বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর পরিবর্তিত হয়।
ধরুন:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ৫০ টাকা।
কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন শেয়ারটির দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, তাহলে তারা ৫০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে শেয়ার কিনতে আগ্রহী হতে পারেন।
অন্যদিকে, যদি অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রি করতে চান এবং ক্রেতা কম থাকে, তাহলে দাম কমার চাপ তৈরি হতে পারে।
এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
Bid Price
কোনো শেয়ার কেনার জন্য ক্রেতা যে দাম দিতে প্রস্তুত, সেটি Bid Price।
Ask Price
কোনো শেয়ার বিক্রি করার জন্য বিক্রেতা যে দাম গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটি Ask Price।
Bid-Ask Spread
সর্বোচ্চ Bid Price এবং সর্বনিম্ন Ask Price-এর পার্থক্যকে Bid-Ask Spread বলা হয়।
নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে এগুলো বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন কোনো শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে যাবেন, তখন এই শব্দগুলো নিয়মিত দেখতে পাবেন।
অধ্যায় ৪: Market Order ও Limit Order বুঝুন
শেয়ার কেনার সময় শুধু "কিনব" বললেই হয় না। আপনি কীভাবে অর্ডার দেবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি সাধারণ ধারণা হলো:
Market Order
বর্তমান বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম মূল্যে দ্রুত শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার অর্ডারকে Market Order বলা হয়।
Limit Order
আপনি একটি নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে শেয়ার কেনা বা বিক্রি করতে চাইলে Limit Order ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা।
আপনি ঠিক করলেন, ৯৫ টাকা হলে কিনবেন।
তাহলে ৯৫ টাকা Limit Price দিয়ে অর্ডার দিতে পারেন। বাজারে সেই দামে বিক্রেতা পাওয়া গেলে অর্ডারটি সম্পন্ন হতে পারে।
মনে রাখবেন: Limit Order দিলেই যে অর্ডার অবশ্যই সম্পন্ন হবে, তা নয়।
অধ্যায় ৫: LTP, Open, High, Low এবং Closing Price
একটি শেয়ারের দৈনিক বাজার তথ্য দেখতে গেলে কিছু সাধারণ শব্দ নিয়মিত চোখে পড়বে।
LTP
LTP বা Last Traded Price হলো সর্বশেষ সম্পন্ন লেনদেন যে মূল্যে হয়েছে।
Opening Price
ট্রেডিং দিনের শুরুতে সম্পন্ন হওয়া প্রথম লেনদেনের মূল্যকে Opening Price বলা হয়।
Day High
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day High।
Day Low
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বনিম্ন যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day Low।
Closing Price
ট্রেডিং দিনের শেষে ব্যবহৃত সমাপনী মূল্যকে Closing Price বলা হয়।
এই তথ্যগুলো একটি শেয়ারের দৈনিক আচরণ বোঝার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে।
অধ্যায় ৬: Volume কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু শেয়ারের দাম দেখলে অনেক সময় পুরো ছবি পাওয়া যায় না।
এর সঙ্গে Volume দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
Volume বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে তা বোঝায়।
ধরুন, একটি শেয়ারের দাম ১০০ টাকা থেকে ১০৫ টাকা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এই মূল্যবৃদ্ধির সময় কত শেয়ার লেনদেন হয়েছে?
যদি Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে সেই মূল্য পরিবর্তনের পেছনে বাজারে তুলনামূলক বেশি অংশগ্রহণ ছিল কি না, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করা যায়।
তবে Volume বেশি হলেই শেয়ার ভালো বা দাম আরও বাড়বেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
Volume-কে সবসময় Price Movement, কোম্পানির তথ্য এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
অধ্যায় ৭: Trend, Support এবং Resistance
শেয়ার বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:
"দাম এখন কোন দিকে যাচ্ছে?"
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Trend দেখা হয়।
Trend
একটি নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের দাম সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়।
সাধারণভাবে Trend তিন ধরনের হতে পারে:
Uptrend — দাম ধীরে ধীরে উচ্চতর পর্যায়ে যাচ্ছে
Downtrend — দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাচ্ছে
Sideways — দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে
Support
Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে কোনো শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
Resistance
Resistance হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে বিক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার বারবার ৫০ টাকার কাছাকাছি এসে নিচে নেমে যায় এবং ৪০ টাকার কাছাকাছি এসে আবার ক্রেতা পায়।
তাহলে ৪০ টাকা একটি সম্ভাব্য Support এবং ৫০ টাকা একটি সম্ভাব্য Resistance হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে Support বা Resistance কোনো গ্যারান্টি নয়। বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এগুলো ভেঙেও যেতে পারে।
অধ্যায় ৮: Breakout, Breakdown এবং Pullback
Support ও Resistance বোঝার পর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সামনে আসে।
Breakout
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Resistance স্তর অতিক্রম করে শেয়ার নতুন মূল্যপরিসরে গেলে তাকে Breakout বলা হয়।
Breakdown
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Support স্তরের নিচে শেয়ার নেমে গেলে তাকে Breakdown বলা হয়।
Pullback
একটি Trend চলার সময় বিপরীত দিকে শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা ফিরে এলে তাকে Pullback বলা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠল। এরপর কিছু সময়ের জন্য ৫৭ টাকায় নেমে আবার বাড়তে শুরু করল।
এই ধরনের সাময়িক ফিরে আসাকে Pullback হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
আবার Breakout-এর পর দাম দ্রুত আগের জায়গায় ফিরে এলে সেটি False Breakout হতে পারে।
তাই শুধু "Breakout হয়েছে" দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। Price, Volume এবং সামগ্রিক Trend একসঙ্গে দেখা দরকার।
অধ্যায় ৯: কোম্পানি ভালো কিনা কীভাবে বুঝবেন?
এখানে আমরা Technical Analysis থেকে কিছুটা Fundamental Analysis-এর দিকে যাব।
শুধু শেয়ারের চার্ট দেখে একটি কোম্পানিকে ভালো বা খারাপ বলা যায় না।
একটি কোম্পানি বুঝতে হলে অন্তত কয়েকটি বিষয় দেখতে পারেন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
ROE
ROA
P/E Ratio
Book Value
Business Growth
Revenue
কোম্পানি তার ব্যবসা থেকে কত টাকার বিক্রি বা আয় করছে, সেটি Revenue।
Net Profit
সব প্রয়োজনীয় খরচ, ব্যয় ও কর বিবেচনার পর কোম্পানির যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই Net Profit।
EPS
EPS বা Earnings Per Share বোঝায় কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে।
উদাহরণ:
একটি কোম্পানির EPS যদি ৫ টাকা হয়, তাহলে প্রতি শেয়ারের হিসাবে কোম্পানির আয় ৫ টাকা—এমন একটি হিসাব পাওয়া যায়।
তবে শুধু EPS বেশি হলেই শেয়ার সস্তা বা ভালো—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
অধ্যায় ১০: P/E Ratio কী এবং কেন দেখা হয়?
P/E Ratio শেয়ার বাজারের অন্যতম পরিচিত একটি valuation metric।
সহজভাবে:
P/E = শেয়ারের বাজারমূল্য ÷ EPS
ধরুন:
শেয়ারের বাজারমূল্য = ১০০ টাকাEPS = ১০ টাকা
তাহলে P/E = ১০।
অর্থাৎ বাজারে শেয়ারটি তার প্রতি শেয়ারের আয়ের প্রায় ১০ গুণ মূল্যে লেনদেন করছে।
কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি নির্দিষ্ট P/E নিজে থেকে ভালো বা খারাপ নয়।
একটি কোম্পানির P/E অন্য কোম্পানির সঙ্গে, একই sector-এর সঙ্গে এবং কোম্পানির earnings growth-এর সঙ্গে তুলনা করে দেখা বেশি কার্যকর।
এজন্য P/E-এর পাশাপাশি Revenue Growth, EPS Growth, Debt, Profit Margin এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও দেখা উচিত।
অধ্যায় ১১: Dividend কী?
কোম্পানি তার মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করলে তাকে Dividend বা লভ্যাংশ বলা হয়।
Dividend সাধারণত দুইভাবে দেখা যেতে পারে:
Cash Dividend
Stock Dividend
Cash Dividend
যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের নগদ অর্থ হিসেবে Dividend দেওয়া হলে সেটি Cash Dividend।
Stock Dividend
নগদের পরিবর্তে অতিরিক্ত শেয়ার দেওয়া হলে সেটিকে Stock Dividend বলা হয়।
তবে Dividend ঘোষণা দেখেই কোনো শেয়ার কিনে ফেলা উচিত নয়।
একজন বিনিয়োগকারীর উচিত Dividend-এর পাশাপাশি কোম্পানির:
Profit
Cash Flow
Dividend History
Payout Ratio
Business Growth
ইত্যাদিও দেখা।
অধ্যায় ১২: Record Date এবং Ex-Dividend Date
Dividend-এর সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ প্রায়ই দেখা যায়।
Record Date
কোনো নির্দিষ্ট corporate benefit পাওয়ার জন্য কোন শেয়ারহোল্ডাররা যোগ্য, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত নির্ধারিত তারিখ হলো Record Date।
Ex-Dividend Date
কোন তারিখ থেকে শেয়ার কিনলে নির্দিষ্ট Dividend পাওয়ার যোগ্যতা প্রযোজ্য নাও হতে পারে, সেই তারিখকে Ex-Dividend Date বলা হয়।
এই বিষয়গুলো না বুঝে শুধু "Dividend দিচ্ছে" দেখে শেয়ার কেনা নতুন বিনিয়োগকারীদের একটি সাধারণ ভুল।
অধ্যায় ১৩: Portfolio কী?
একজন বিনিয়োগকারীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগের সমষ্টিকে Portfolio বলা হয়।
ধরুন আপনার কাছে:
Bank sector-এর ২টি শেয়ার
Pharmaceutical sector-এর ২টি শেয়ার
Textile sector-এর ১টি শেয়ার
আছে।
সবগুলো মিলিয়ে আপনার একটি Portfolio তৈরি হয়েছে।
Diversification
একটি মাত্র কোম্পানিতে সব টাকা না রেখে বিভিন্ন কোম্পানি বা খাতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়াকে Diversification বলা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বা sector-এর খারাপ পারফরম্যান্সের প্রভাব কিছুটা কমানো।
তবে অতিরিক্ত diversification করলেই ঝুঁকি শূন্য হয়ে যায় না।
অধ্যায় ১৪: Risk Management — লাভের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ
শেয়ার বাজারে নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শুধু লাভের কথা চিন্তা করা।
কিন্তু একজন ভালো বিনিয়োগকারী আগে চিন্তা করেন:
"আমি ভুল হলে কত টাকা হারাতে পারি?"
এখানেই Risk Management গুরুত্বপূর্ণ।
Position Size
একটি নির্দিষ্ট শেয়ার বা ট্রেডে আপনি কত টাকা বা কত শেয়ার বিনিয়োগ করছেন, সেটিই Position Size।
একটি শেয়ারে পুরো মূলধন ব্যবহার করার পরিবর্তে নিজের ঝুঁকি অনুযায়ী Position Size নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
Stop Loss
সম্ভাব্য ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য নির্ধারিত মূল্য বা বিক্রির ব্যবস্থা হলো Stop Loss।
Risk-Reward Ratio
কোনো ট্রেডে সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, সেটি Risk-Reward Ratio দিয়ে বোঝানো হয়।
উদাহরণ:
আপনি যদি একটি ট্রেডে সম্ভাব্য ২ টাকা ক্ষতির বিপরীতে ৬ টাকা লাভের সুযোগ খুঁজে থাকেন, তাহলে সম্ভাব্য Risk-Reward Ratio প্রায় 1:3।
তবে বাস্তবে বাজারে কোনো ফলাফল নিশ্চিত নয়।
অধ্যায় ১৫: Candlestick কী?
চার্টে শেয়ারের Price Movement বোঝার জন্য Candlestick বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
একটি Candlestick সাধারণত চারটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখায়:
Open
High
Low
Close
এই চারটি তথ্য দেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়।
নতুন বিনিয়োগকারীরা পরে ধীরে ধীরে Hammer, Doji, Engulfing Pattern, Shooting Star ইত্যাদি Candlestick Pattern শিখতে পারেন।
তবে শুধু একটি Candlestick Pattern দেখেই Buy বা Sell সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
অধ্যায় ১৬: Technical Indicator শেখা কখন শুরু করবেন?
নতুনদের একটি সাধারণ ভুল হলো শুরুতেই অনেক Indicator শেখার চেষ্টা করা।
RSI, MACD, Moving Average, Bollinger Bands, Stochastic—সব একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই।
প্রথমে এগুলো বুঝুন:
Price
Volume
Trend
Support
Resistance
এরপর ধীরে ধীরে Indicator যোগ করুন।
Moving Average
নির্দিষ্ট সময়ের শেয়ারের গড় মূল্য ব্যবহার করে Trend বোঝার একটি পদ্ধতি হলো Moving Average।
RSI
RSI বা Relative Strength Index শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্য পরিবর্তনের গতি ও শক্তি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
MACD
MACD শেয়ারের Trend ও Momentum বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
Indicator হলো বিশ্লেষণের সহায়ক উপকরণ—ভবিষ্যৎ দামের নিশ্চয়তা দেওয়ার যন্ত্র নয়।
অধ্যায় ১৭: DSE-তে একটি শেয়ার বিশ্লেষণের সহজ Checklist
একজন Beginner হিসেবে কোনো শেয়ার দেখার সময় নিচের checklist অনুসরণ করতে পারেন।
ধাপ ১ — কোম্পানিটি কী করে?
প্রথমে বুঝুন কোম্পানির মূল ব্যবসা কী।
ধাপ ২ — Revenue ও Profit দেখুন
কোম্পানির ব্যবসা বাড়ছে নাকি কমছে?
ধাপ ৩ — EPS দেখুন
EPS ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, কমছে নাকি অস্থির?
ধাপ ৪ — Debt দেখুন
কোম্পানির ঋণের পরিমাণ কত?
ধাপ ৫ — Cash Flow দেখুন
কোম্পানি বাস্তবে ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ তৈরি করতে পারছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
ধাপ ৬ — Dividend History দেখুন
কোম্পানি নিয়মিত Dividend দেয় কি না এবং সেই Dividend ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না দেখুন।
ধাপ ৭ — Valuation দেখুন
P/E, P/B Ratio ইত্যাদি একই sector-এর অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করুন।
ধাপ ৮ — Chart দেখুন
Trend, Support, Resistance ও Volume বিশ্লেষণ করুন।
ধাপ ৯ — Risk নির্ধারণ করুন
ভুল হলে আপনি কতটা ক্ষতি সহ্য করতে পারবেন?
ধাপ ১০ — তারপর সিদ্ধান্ত নিন
সবশেষে তথ্যগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
অধ্যায় ১৮: Beginner হিসেবে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
১. গুজব শুনে শেয়ার কেনা
"এই শেয়ার কাল বাড়বে"—এ ধরনের কথার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
২. অন্যের Portfolio কপি করা
অন্য একজন বিনিয়োগকারীর Risk Tolerance, Investment Horizon এবং Financial Situation আপনার মতো নাও হতে পারে।
৩. শুধু দাম কম দেখে শেয়ার কেনা
১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়েছে মানেই শেয়ারটি সস্তা—এমন নয়।
কোম্পানির Fundamental অবস্থা খারাপ হলে দাম আরও কমতে পারে।
৪. শুধু Dividend দেখে বিনিয়োগ করা
Dividend গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি কোম্পানি বিশ্লেষণের একমাত্র বিষয় নয়।
৫. সব টাকা একটি শেয়ারে দেওয়া
এতে একটি কোম্পানির খারাপ পারফরম্যান্স পুরো Portfolio-কে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. Stop Loss বা Risk Management না বোঝা
বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি আগে বোঝা জরুরি।
৭. প্রতিদিন Buy/Sell করা
প্রতিদিন ট্রেড করাই সফল বিনিয়োগের প্রমাণ নয়।
অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত হলো কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা।
অধ্যায় ১৯: Beginner থেকে Confident Investor হওয়ার Roadmap
শেয়ার বাজার শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধাপে ধাপে এগোনো।
Level 1 — Market Basics
প্রথমে শিখুন:
Share
DSE
DSEX
BO Account
Bid
Ask
LTP
Volume
Market Order
Limit Order
Level 2 — Company Basics
এরপর শিখুন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
Book Value
Level 3 — Valuation
তারপর শিখুন:
P/E Ratio
P/B Ratio
P/S Ratio
Dividend Yield
ROE
ROA
Level 4 — Technical Analysis
এরপর:
Trend
Support
Resistance
Breakout
Breakdown
Volume
Moving Average
RSI
MACD
Candlestick
Level 5 — Risk Management
সবশেষে গুরুত্ব দিন:
Position Size
Stop Loss
Risk-Reward Ratio
Diversification
Portfolio Management
এইভাবে এগোলে একসঙ্গে শত শত বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন হবে না।
অধ্যায় ২০: DsePlex Glossary কীভাবে ব্যবহার করবেন?
শেয়ার বাজার শেখার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নতুন নতুন শব্দ।
একদিন আপনি "EPS" দেখবেন, পরের দিন "P/E", তারপর "Free Float", "Market Capitalization", "Bid-Ask Spread", "Circuit Breaker"—এভাবে অনেক শব্দ সামনে আসবে।
প্রতিটি শব্দ মুখস্থ করার দরকার নেই।
বরং যখন কোনো শব্দ বুঝতে সমস্যা হবে, তখন DsePlex-এর শেয়ার বাজার শব্দকোষ (Glossary A-Z) ব্যবহার করুন।
Glossary-তে A থেকে Z পর্যন্ত শেয়ার বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখানে যেমন পাওয়া যাবে:
BO Account
Bid Price
Ask Price
Market Capitalization
DSE
DSEX
EPS
P/E Ratio
Dividend
Portfolio
Support
Resistance
RSI
Volume
Stop Loss
Trend
এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ Term
শেষ কথা: শেয়ার বাজার শেখা একটি Journey
শেয়ার বাজারে সফল হওয়ার জন্য একদিনে সবকিছু শেখার প্রয়োজন নেই।
বরং প্রথমে Market Basics বুঝুন। এরপর কোম্পানি কীভাবে কাজ করে তা শিখুন। তারপর Financial Statement, Valuation, Technical Analysis এবং Risk Management-এর দিকে এগিয়ে যান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে শিখুন, পরে টাকা বিনিয়োগ করুন।
কারণ শেয়ার বাজারে লাভ করার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনাও আছে।
একজন Beginner-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমে "কত টাকা লাভ করব" নয়, বরং:
"আমি কীভাবে বাজারটাকে ভালোভাবে বুঝতে পারি?"
যত বেশি আপনি Price, Volume, Company Fundamentals, Valuation এবং Risk Management বুঝবেন, তত বেশি সচেতনভাবে নিজের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
শেয়ার বাজার কোনো দ্রুত ধনী হওয়ার মেশিন নয়। এটি শেখা, বিশ্লেষণ, ধৈর্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
আজ যদি একদম শুরু করেন, তাহলে প্রথম কাজ হোক—Market Basics শেখা এবং যে শব্দগুলো বুঝছেন না সেগুলো DsePlex Glossary থেকে খুঁজে শেখা।
221
12
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
Candlestick কী? চার্ট রিডিং, উপাদান ও প্রাথমিক ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন নির্দেশিকা
জাপানিজ ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট কীভাবে পড়তে হয়? রিয়েল বডি, শ্যাডো, বুলিশ ও বেয়ারিশ ক্যান্ডেলের মেকানিজম এবং গুরুত্বপূর্ণ চার্ট প্যাটার্ন চেনার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম।
শেয়ার বাজারের আধুনিক টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত চার্ট হলো জাপানিজ ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট (Japanese Candlestick Chart)। শত বছর আগে জাপানে চালের ব্যবসায়ী হোমা মুনেহিসা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতার মনস্তাত্ত্বিক আবেগ পরিমাপ করতে এই পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন। সাধারণ লাইন চার্ট যেখানে শুধু একটি সমাপনী মূল্য দেখায়, সেখানে একটি ক্যান্ডেলস্টিক একটি নির্দিষ্ট সময়ের সার্বিক বাজারের শক্তির লড়াই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।
১. ক্যান্ডেলস্টিক (Candlestick) কী?
Candlestick হলো চার্টে নির্দিষ্ট সময়সীমার (যেমন ১ দিন, ১ ঘণ্টা বা ১৫ মিনিট) শেয়ারের মূল্য পরিবর্তনের একটি চিত্রভিত্তিক রূপ। মোমবাতির মতো দেখতে হওয়ায় একে ক্যান্ডেলস্টিক বলা হয়।
প্রতিটি ক্যান্ডেলস্টিক মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি হয় (যাকে সংক্ষেপে OHLC বলা হয়):
Open (ওপেন): নির্ধারিত সময়ের শুরুতে যে মূল্যে লেনদেন শুরু হয়েছিল (Opening Price)।
High (হাই): ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটির দাম সর্বোচ্চ যে স্তরে উঠেছিল (Day High)।
Low (লো): ওই সময়ের মধ্যে দাম সর্বনিম্ন যত নিচে নেমেছিল (Day Low)।
Close (ক্লোজ): সময়সীমার শেষে যে মূল্যে লেনদেন সমাপ্ত হয়েছিল (Closing Price)।
২. ক্যান্ডেলস্টিকের মূল গঠন (Anatomy)
একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্ডেলস্টিকে দুটি মূল অংশ থাকে:
রিয়েল বডি (Real Body): ওপেন এবং ক্লোজ মূল্যের মধ্যকার মোটা বা আয়তাকার অংশটিকে রিয়েল বডি বলে। এটি নির্দেশ করে ওই সেশনে ক্রেতা নাকি বিক্রেতা মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল।
শ্যাডো বা উইক (Shadow / Wick): বডির ওপর ও নিচে থাকা পাতলা দাগ বা সুতাকে শ্যাডো বলে।
Upper Shadow (উপরের সুতা): বডি থেকে সর্বোচ্চ মূল্য (High) পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এটি নির্দেশ করে দিনের কোনো এক সময় দাম উঁচুতে উঠেছিল, কিন্তু সেখান থেকে বিক্রেতারা দাম কিছুটা নামিয়ে এনেছেন।
Lower Shadow (নিচের সুতা): বডি থেকে সর্বনিম্ন মূল্য (Low) পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এটি নির্দেশ করে দাম নিচে নেমে গেলেও নিচের স্তর থেকে ক্রেতারা শেয়ারটি কিনে দাম ওপরে তুলেছেন।
৩. বুলিশ বনাম বেয়ারিশ ক্যান্ডেল
বৈশিষ্ট্য
বুলিশ ক্যান্ডেল (Bullish Candle)
বেয়ারিশ ক্যান্ডেল (Bearish Candle)
সাধারণ রঙ
সাধারণত সবুজ (Green) বা সাদা
সাধারণত লাল (Red) বা কালো
দামের অবস্থান
ক্লোজিং প্রাইস ওপেনিং প্রাইসের চেয়ে বেশি ($\text{Close} > \text{Open}$)
ক্লোজিং প্রাইস ওপেনিং প্রাইসের চেয়ে কম ($\text{Close} < \text{Open}$)
বাজারের মনস্তত্ত্ব
ক্রেতাদের একচ্ছত্র প্রাধান্য; দাম বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বিক্রেতাদের বিক্রির চাপ বেশি; দরপতন ঘটেছে।
৪. নতুনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন
একটি একক ক্যান্ডেল বা একাধিক ক্যান্ডেল মিলে যখন একটি নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে, তখন তাকে ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন বলে। এর মাধ্যমে বাজারের সম্ভাব্য দিক পরিবর্তনের পূর্বসংকেত পাওয়া যায়।
Hammer (হাতুড়ি প্যাটার্ন):
ধারাবাহিক ডাউনট্রেন্ডের একদম তলানিতে যখন ছোট বডি এবং নিচের দিকে লম্বা শ্যাডোযুক্ত (বডির অন্তত দ্বিগুণ লম্বা) কোনো ক্যান্ডেল তৈরি হয়, তাকে হ্যামার বলে।
অর্থ: বিক্রেতারা দাম অনেক নিচে নামিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু তীব্র ক্রয়চাপের কারণে ক্রেতারা দাম টেনে আবার ওপেনের কাছাকাছি তুলে এনেছে। এটি চার্টের শক্তিশালী Support লেভেলে তৈরি হলে মার্কেট রিভার্স করে আপট্রেন্ড শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়।
Doji (দোজি):
যখন কোনো ক্যান্ডেলের ওপেনিং এবং ক্লোজিং মূল্য প্রায় একই বিন্দুতে এসে শেষ হয়, ফলে কোনো বডি তৈরি না হয়ে একটি যোগচিহ্নের ($+$) মতো রূপ ধারণ করে।
অর্থ: বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতা সমান শক্তিতে অবস্থান করছে এবং বাজার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তহীনতায় (Indecision) ভুগছে। একটি দীর্ঘ ট্রেন্ডের মাথায় দোজি দেখা গেলে ট্রেন্ড দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়।
Bullish Engulfing (বুলিশ এনগালফিং):
ডাউনট্রেন্ডের সময় প্রথমে একটি ছোট লাল ক্যান্ডেল তৈরি হয় এবং ঠিক পরের দিন একটি বড় সবুজ ক্যান্ডেল তৈরি হয়ে আগের পুরো লাল ক্যান্ডেলটিকে পুরোপুরি ঢেকে বা গ্রাস করে ফেলে।
অর্থ: বাজারে বিক্রেতাদের প্রভাব পুরোপুরি শেষ এবং ক্রেতারা আগ্রাসীভাবে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে।
Shooting Star (শুটিং স্টার):
শক্তিশালী আপট্রেন্ডের শীর্ষে যখন ছোট বডি এবং উপরের দিকে অনেক লম্বা শ্যাডোযুক্ত ক্যান্ডেল দেখা যায়।
অর্থ: ক্রেতারা দাম অনেক ওপরে তুললেও দিনের শেষে Resistance স্তরের বিক্রেতারা দামকে নিচে নামিয়ে এনেছে। এটি সম্ভাব্য দরপতনের শক্তিশালী পূর্বাভাস।
ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহারের সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা:
কখনো একটিমাত্র ক্যান্ডেল দেখে শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ক্যান্ডেল প্যাটার্নের সাথে ট্রেডিং Volume বেশি আছে কি না এবং তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোনে তৈরি হয়েছে কি না, তা মিলিয়ে নেওয়াই সফল টেকনিক্যাল ট্রেডিংয়ের মূল চাবিকাঠি।
174
2
পড়ুন →
Glossary
শব্দকোষ: Doji (ডোজি ক্যান্ডেল)
যে Candlestick-এ Open এবং Close Price খুব কাছাকাছি থাকে, তাকে Doji বলা হয়।
পড়ুন →
Glossary
শব্দকোষ: Doji Star (ডোজি স্টার)
নির্দিষ্ট Trend-এর পরে Doji Candlestick তৈরি হয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা বা সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলে তাকে Doji Star বলা হয়।
পড়ুন →