technical analysis
29 Aug, 2026
Technical Analysis কী? — একদম শুরু থেকে শেখার গাইড
আপনি যদি কখনো শেয়ারের চার্ট দেখে ভেবে থাকেন—“এই শেয়ারটি এখন বাড়বে নাকি কমবে?”, তাহলে Technical Analysis আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
Technical Analysis বা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস হলো শেয়ারের Price, Volume, Trend এবং চার্টের বিভিন্ন Price Pattern বিশ্লেষণ করে বাজারের সম্ভাব্য গতিপথ বোঝার একটি পদ্ধতি।
সহজ ভাষায় বললে—
শেয়ারের দাম কীভাবে চলছে, কোথায় থামছে, কোথা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ কেমন—এসব তথ্য চার্টের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করাই Technical Analysis।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
Technical Analysis ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারে না।
এটি আপনাকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। তাই Technical Analysis শেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “আগামীকাল দাম কত হবে” নিশ্চিতভাবে জানা নয়; বরং সম্ভাব্য ভালো ও খারাপ পরিস্থিতি আগে থেকে চিনতে শেখা।
Technical Analysis কেন শিখবেন?
ধরুন, আপনি DSE-তে একটি শেয়ার দেখলেন।
শেয়ারের বর্তমান মূল্য ১০০ টাকা।
এখন শুধু ১০০ টাকা দেখলে খুব বেশি কিছু বোঝা যায় না।
কিন্তু যদি আপনি দেখেন—
কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ছে
প্রতিবার কমলে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
আগের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি যাচ্ছে
দাম বাড়ার সময় Volume বাড়ছে
নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ Support আছে
ওপরে একটি গুরুত্বপূর্ণ Resistance আছে
তাহলে একই ১০০ টাকার শেয়ার সম্পর্কে আপনার ধারণা অনেক বেশি পরিষ্কার হবে।
এই তথ্যগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাই Technical Analysis শেখার মূল উদ্দেশ্য।
Technical Analysis-এর মূল ধারণা
Technical Analysis শেখার শুরুতে আপনাকে শত শত Indicator মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই।
বরং প্রথমে নিচের কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে:
Price → Volume → Trend → Support & Resistance → Candlestick → Pattern → Indicator
এই ধারাবাহিকতাটি মনে রাখুন।
কারণ একজন নতুন বিনিয়োগকারী যদি প্রথম দিনেই RSI, MACD, Bollinger Bands, Stochastic এবং আরও দশটি Indicator নিয়ে বসেন, তাহলে চার্ট বোঝার বদলে আরও বেশি বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রথমে দামের ভাষা বুঝতে হবে।
তারপর Indicator।
১. Price — শেয়ারের দাম
Technical Analysis-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো Price বা শেয়ারের দাম।
একটি শেয়ারের দাম প্রতিদিন একই থাকে না।
কখনো ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকলে দাম বাড়তে পারে।
আবার বিক্রেতাদের চাপ বেশি হলে দাম কমতে পারে।
এই দাম কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কোথায় গিয়ে থামছে এবং কোন দিকে এগোচ্ছে—এসবই Technical Analysis-এর মূল বিষয়।
উদাহরণ:
ধরুন একটি শেয়ার:
৯০ → ৯৫ → ১০০ → ১০৫ → ১১০
এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাচ্ছে।
অন্যদিকে:
১১০ → ১০৫ → ১০০ → ৯৫ → ৯০
এখানে দাম নিচের দিকে যাচ্ছে।
কিন্তু শুধু দুই-তিন দিনের দাম দেখে Trend নির্ধারণ করা উচিত নয়। সাধারণত পর্যাপ্ত সময়ের Price Movement দেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়।
২. Price Action — দাম কী বলছে?
Price Action হলো কোনো শেয়ারের অতীত ও বর্তমান মূল্য চলাচল বিশ্লেষণ করে বাজারের আচরণ বোঝার পদ্ধতি। DSEPlex Glossary-তেও Price Action-এর এই ধারণাটিই ব্যবহার করা হয়েছে।
Price Action — DSEPlex Glossary
সহজভাবে বললে—
চার্টে Indicator-এর আগে দাম কী করছে সেটি দেখা হলো Price Action-এর মূল ধারণা।
Price Action বিশ্লেষণের সময় আমরা দেখতে পারি:
দাম কোথা থেকে উঠছে
কোথায় গিয়ে থামছে
আগের উচ্চতা ভাঙছে কি না
আগের নিম্নতা ভাঙছে কি না
ক্রেতা নাকি বিক্রেতা বেশি শক্তিশালী
দাম দ্রুত নাকি ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে Price Action আরও বিস্তারিতভাবে শেখানো হবে।
৩. Trend — শেয়ার কোন দিকে যাচ্ছে?
কোনো শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়।
Trend — DSEPlex Glossary
সাধারণভাবে তিন ধরনের Trend দেখা যায়:
Uptrend
দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাওয়ার প্রবণতা।
উদাহরণ:
১০০ → ১০৫ → ১০৩ → ১১০ → ১০৮ → ১১৫
এখানে প্রতিটি বড় ওঠার পর দাম আগের তুলনায় আরও ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
Technical Analysis-এ Uptrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Higher High এবং Higher Low দেখা যায়।
Downtrend
দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাওয়ার প্রবণতা।
উদাহরণ:
১২০ → ১১৫ → ১১৭ → ১০৮ → ১১১ → ১০২
এখানে দাম নতুন নতুন নিম্ন পর্যায় তৈরি করছে।
Downtrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Lower High এবং Lower Low দেখা যেতে পারে।
Sideways Trend
দাম একটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে ওঠানামা করছে।
উদাহরণ:
১০০ → ১০৫ → ১০২ → ১০৭ → ১০৩ → ১০৬
দাম খুব পরিষ্কারভাবে ওপরে বা নিচে যাচ্ছে না।
এই ধরনের বাজারকে অনেক সময় Sideways বা Range-bound Market বলা হয়।
৪. Volume — আসলে কতটা লেনদেন হচ্ছে?
Volume হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে। DSEPlex Glossary-তে Volume-কে ঠিক এইভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
Volume — DSEPlex Glossary
ধরুন, কোনো শেয়ারের দাম আজ ৫% বেড়েছে।
শুধু দাম দেখে আপনি বলতে পারেন—
“শেয়ারটির দাম বেড়েছে।”
কিন্তু Volume দেখলে আরও একটি প্রশ্ন করা যায়—
এই মূল্যবৃদ্ধির সময় বাজারে অংশগ্রহণ কতটা ছিল?
যদি দাম বাড়ার সঙ্গে Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে বাজারে অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
আবার দাম বাড়লেও Volume খুব দুর্বল হলে সেটিকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তবে মনে রাখবেন:
Volume একা কোনো শেয়ারের ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে না।
Price এবং Volume একসঙ্গে বিশ্লেষণ করাই বেশি কার্যকর।
৫. Support — কোথায় এসে দাম থামতে পারে?
ধরুন একটি শেয়ারের দাম:
১২০ → ১১০ → ১০২ → ১০০ → ১০৫ → ১১২
এরপর আবার:
১১২ → ১০৪ → ১০০ → ১০৬
দেখা যাচ্ছে, শেয়ারটি ১০০ টাকার আশেপাশে এসে বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
এই ধরনের মূল্যাঞ্চলকে Support হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
DSEPlex Glossary অনুযায়ী, Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে অতীতে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
Support — DSEPlex Glossary
সহজভাবে মনে রাখুন:
Support = নিচের দিকে সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহের অঞ্চল।
তবে Support কোনো পাকা দেয়াল নয়।
বিক্রির চাপ অনেক বেশি হলে Support ভেঙে যেতে পারে।
৬. Resistance — কোথায় গিয়ে বিক্রির চাপ আসতে পারে?
এবার উল্টো উদাহরণ দেখি।
একটি শেয়ারের দাম:
১০০ → ১১০ → ১২০ → ১১৫ → ১২২ → ১১৮
যদি দেখা যায় ১২০–১২২ টাকার আশেপাশে বারবার দাম আটকে যাচ্ছে, তাহলে ওই অঞ্চলটি সম্ভাব্য Resistance হতে পারে।
সহজভাবে মনে রাখুন:
Resistance = ওপরের দিকে সম্ভাব্য বিক্রির চাপের অঞ্চল।
Support ও Resistance একসঙ্গে বোঝা Technical Analysis শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। DSEPlex Glossary-তে এ দুটিকে Price Movement, Breakout এবং সম্ভাব্য Reversal বোঝার গুরুত্বপূর্ণ Technical ধারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
Support & Resistance — DSEPlex Glossary
৭. Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া
ধরুন একটি শেয়ারের Resistance ১৫০ টাকা।
শেয়ারটি কয়েকবার ১৫০ টাকার কাছে গিয়ে নিচে নেমেছে।
এরপর একদিন দাম ১৫০ টাকার ওপরে চলে গেল।
এটিকে Breakout হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
DSEPlex Glossary অনুযায়ী, কোনো শেয়ারের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ Support বা Resistance অতিক্রম করে নতুন মূল্যপরিসরে প্রবেশ করলে তাকে Breakout বলা হয়।
Breakout — DSEPlex Glossary
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে।
প্রতিটি Breakout সফল হয় না।
কখনো দাম Resistance-এর ওপরে গেলেও আবার দ্রুত নিচে ফিরে আসে।
এটিকে False Breakout বলা হয়। DSEPlex Glossary-তেও False Breakout-এর জন্য আলাদা শব্দকোষ পেজ রয়েছে।
False Breakout — DSEPlex Glossary
তাই Breakout দেখলেই চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৮. Breakdown — Support ভেঙে নিচে যাওয়া
Breakout-এর বিপরীত দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Breakdown।
যদি কোনো শেয়ারের দাম গুরুত্বপূর্ণ Support-এর নিচে চলে যায়, তাকে Breakdown বলা হয়।
Breakdown — DSEPlex Glossary
উদাহরণ:
Support = ১০০ টাকা
দাম:
১০৫ → ১০২ → ১০০ → ৯৮ → ৯৫
যদি ১০০ টাকার Support গুরুত্বপূর্ণভাবে ভেঙে যায়, তাহলে এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেত হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে এখানেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
দাম সাময়িকভাবে Support-এর নিচে গিয়ে আবার ওপরে ফিরে আসতে পারে।
৯. Candlestick — চার্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা
Technical Analysis শেখার সময় খুব দ্রুত আপনি Candlestick শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হবেন।
Candlestick নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্যকে একটি দৃশ্যমান আকারে দেখায়। DSEPlex Glossary-তেও Candlestick-এর সংজ্ঞা এভাবেই দেওয়া হয়েছে।
Candlestick — DSEPlex Glossary
একটি Candlestick দেখে আমরা জানতে পারি:
কোথায় Open হয়েছে
দিনের সর্বোচ্চ দাম কত ছিল
দিনের সর্বনিম্ন দাম কত ছিল
কোথায় Close হয়েছে
ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কার চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা পুরোপুরি Candlestick শেখার জন্য আলাদা পাঠ করব।
Technical Analysis কি শুধু ট্রেডারদের জন্য?
শুধু স্বল্পমেয়াদি Trader-দের জন্য নয়।
একজন দীর্ঘমেয়াদি Investor-ও Technical Analysis ব্যবহার করতে পারেন।
যেমন:
কোনো কোম্পানির Fundamental Analysis করে আপনি মনে করলেন কোম্পানিটি ভালো।
কিন্তু শেয়ারটির দাম বর্তমানে খুব দ্রুত বেড়ে গেছে।
তখন Technical Analysis ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারেন—
বর্তমান দাম কোথায়
Support কোথায়
Resistance কোথায়
Trend কেমন
দাম অতিরিক্ত দ্রুত বেড়েছে কি না
সম্ভাব্য Entry কোথায় হতে পারে
অর্থাৎ Fundamental Analysis আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, আর Technical Analysis আপনাকে মূল্যের আচরণ ও সম্ভাব্য Entry/Exit অঞ্চল বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
Technical Analysis বনাম Fundamental Analysis
একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝি।
ধরুন আপনি একটি কোম্পানি বিশ্লেষণ করছেন।
Fundamental Analysis-এ আপনি দেখতে পারেন:
EPS
Revenue
Profit
Debt
Dividend
NAV
P/E
যেমন, EPS কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে তা বোঝায়। DSEPlex-এর EPS Glossary-তেও এটিকে Fundamental Analysis-এর গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
EPS — DSEPlex Glossary
অন্যদিকে Technical Analysis-এ আপনি দেখবেন:
Price
Volume
Trend
Support
Resistance
Candlestick
Pattern
Indicator
অর্থাৎ একটি কোম্পানিকে বোঝার জন্য Fundamental এবং Technical—দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
DSE-তে Technical Analysis শেখার সময় কী দেখবেন?
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে Technical Analysis শেখার সময় বাস্তব DSE ডেটার সঙ্গে অনুশীলন করা সবচেয়ে ভালো।
DSEPlex-এর Advanced Chart-এ শেয়ারের Price, Volume, Open, High, Low এবং বিভিন্ন Technical Indicator দেখা যায়।
DSEPlex Advanced Chart
উদাহরণ হিসেবে কোনো শেয়ারের চার্ট খুলে প্রথমে শুধু এই পাঁচটি প্রশ্ন করুন:
১. দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
২. Trend পরিষ্কার কি না?
৩. Support কোথায়?
৪. Resistance কোথায়?
৫. Volume কী বলছে?
এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই আপনার Technical Analysis শেখার প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়ে যাবে।
নতুনরা যে ভুলগুলো করবেন না
ভুল ১ — প্রথম দিনেই ১০টি Indicator ব্যবহার করা
এটি করবেন না।
প্রথমে Price এবং Chart বুঝুন।
ভুল ২ — RSI দেখেই শেয়ার কেনা
RSI একটি Indicator। এটি একা Buy বা Sell-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ভুল ৩ — Support মানেই দাম অবশ্যই বাড়বে
না।
Support ভেঙে যেতে পারে।
ভুল ৪ — Resistance মানেই দাম অবশ্যই কমবে
না।
Resistance ভেঙে দাম আরও ওপরে যেতে পারে।
ভুল ৫ — Breakout দেখেই দৌড়ে কেনা
Breakout-এর পর False Breakout হতে পারে।
Volume এবং Price Behaviour-ও দেখতে হবে।
ভুল ৬ — শুধু একটি দিনের চার্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
এক দিনের পরিবর্তন দিয়ে পুরো Trend বোঝা সবসময় সম্ভব নয়।
বিভিন্ন সময়সীমার চার্ট দেখা প্রয়োজন হতে পারে।
একটি সহজ Technical Analysis Checklist
কোনো শেয়ার প্রথমবার দেখলে এই ক্রমে বিশ্লেষণ করার অভ্যাস করুন:
ধাপ ১
Price দেখুন
বর্তমান দাম কোথায়?
ধাপ ২
Trend দেখুন
Uptrend, Downtrend নাকি Sideways?
ধাপ ৩
Support দেখুন
দামের নিচে গুরুত্বপূর্ণ Support কোথায়?
ধাপ ৪
Resistance দেখুন
দামের ওপরে গুরুত্বপূর্ণ Resistance কোথায়?
ধাপ ৫
Volume দেখুন
মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে Volume কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে?
ধাপ ৬
Candlestick দেখুন
সাম্প্রতিক Candle কী ধরনের Price Behaviour দেখাচ্ছে?
ধাপ ৭
তারপর Indicator ব্যবহার করুন
প্রয়োজন অনুযায়ী RSI, Moving Average, MACD বা অন্য Indicator ব্যবহার করুন।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আজ যদি আপনি শুধু নিচের বিষয়গুলো বুঝতে পারেন, তাহলে এই অধ্যায় সফলভাবে শেষ করেছেন:
Price — দাম কী করছে?
Price Action — দাম কীভাবে আচরণ করছে?
Trend — দাম কোন দিকে যাচ্ছে?
Volume — কতটা লেনদেন হচ্ছে?
Support — নিচে কোথায় ক্রেতার আগ্রহ দেখা যেতে পারে?
Resistance — ওপরে কোথায় বিক্রির চাপ দেখা যেতে পারে?
Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া।
Breakdown — গুরুত্বপূর্ণ Support ভেঙে নিচে যাওয়া।
Candlestick — নির্দিষ্ট সময়ের Price Movement-এর দৃশ্যমান রূপ।
মনে রাখার সহজ সূত্র
Technical Analysis-কে আপাতত এইভাবে মনে রাখুন:
দাম কী করছে?
↓
কোন দিকে যাচ্ছে?
↓
কোথায় Support?
↓
কোথায় Resistance?
↓
Volume কী বলছে?
↓
Candlestick কী দেখাচ্ছে?
↓
তারপর Indicator দিয়ে আরও যাচাই।
পরবর্তী অধ্যায়
অধ্যায় ২: চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু
পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা একদম শূন্য থেকে শিখব—
Chart কী
Chart কেন ব্যবহার করা হয়
Line Chart
Bar Chart
Candlestick Chart
Open, High, Low, Close
Timeframe কী
দৈনিক Chart কী
সাপ্তাহিক Chart কী
মাসিক Chart কী
DSE শেয়ারের Chart কীভাবে পড়বেন
Chart দেখার সময় কোন তথ্য আগে দেখবেন
এরপর আমরা ধাপে ধাপে Candlestick → Trend → Support & Resistance → Volume → Trendline → Chart Pattern → Moving Average → RSI → MACD → Advanced Technical Analysis → Trading Strategy → Risk Management পর্যন্ত যাব।
257
13
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
শেয়ারের গতিপ্রকৃতি বোঝা: Trend, Support ও Resistance স্তর বিশ্লেষণ
শেয়ারের দাম কোন দিকে যাচ্ছে এবং কোথা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে? আপট্রেন্ড, ডাউনট্রেন্ড, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল চিনে সঠিক সময়ে বাই ও সেল করার নিয়ম।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বা ট্রেডিং করার সময় সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো—"শেয়ারের বর্তমান গতি কোন দিকে এবং এটি কোন মূল্যে কিনলে ঝুঁকি কম থাকবে?" এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের তিনটি ভিত্তিস্তর বোঝা অপরিহার্য: Trend, Support এবং Resistance।
১. Trend (ট্রেন্ড বা বাজারপ্রবণতা) কী?
শেয়ারের দাম কখনোই একটি সরলরেখায় সোজা উপরে ওঠে না বা নিচে নামে না; এটি ঢেউয়ের মতো জিকজ্যাক (Zigzag) আকারে ওঠানামা করে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেয়ারের দামের সার্বিক যাত্রার এই সাধারণ দিকটিকে Trend বলা হয়।
বাজারে মূলত তিন ধরনের ট্রেন্ড দেখা যায়:
Uptrend (বুলিশ ট্রেন্ড): যখন শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে আগের চেয়ে উঁচু চূড়া (Higher Highs) এবং আগের চেয়ে উঁচু তলানি (Higher Lows) তৈরি করে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এটি বাজারে ক্রেতাদের আধিপত্য নির্দেশ করে। আপট্রেন্ডে শেয়ার ধরে রাখা বা ডিপে কেনা লাভজনক।
Downtrend (বেয়ারিশ ট্রেন্ড): যখন দাম ধারাবাহিকভাবে আগের চেয়ে নিচু চূড়া (Lower Highs) এবং আগের চেয়ে নিচু তলানি (Lower Lows) তৈরি করে ক্রমাগত নামতে থাকে। এটি বাজারে বিক্রেতাদের একচ্ছত্র চাপ নির্দেশ করে। ডাউনট্রেন্ডে থাকা শেয়ারে নতুন বিনিয়োগ এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
Sideways Trend (কনসলিডেশন): যখন দাম কোনো স্পষ্ট বৃদ্ধি বা পতন না দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে ওঠানামা করে। এটি বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার সাম্যাবস্থা বা অনিশ্চয়তার লক্ষণ।
২. Support (সাপোর্ট লেভেল বা ক্রয়বলয়) কী?
Support হলো প্রাইস চার্টের এমন একটি নির্দিষ্ট মূল্যস্তর, যেখানে শেয়ারের দাম নামতে নামতে পৌঁছালে বিক্রির চাপ কমে যায় এবং ক্রেতাদের আগ্রহ হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। ফলে দাম সেখান থেকে বাধা পেয়ে পুনরায় ওপরের দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর (Bounce) জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সহজভাবে কল্পনা করলে, সাপোর্ট হলো একটি ঘরের "মেঝে" (Floor)-এর মতো। একটি বল নিচে ফেললে যেমন মেঝেতে লেগে ওপরে বাউন্স করে, শেয়ারের দামও সাপোর্ট লেভেলে পৌঁছালে নিচে নামা থামিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: অতীতে শেয়ারটির দাম যখনই এই নির্দিষ্ট স্তরে নেমেছিল, তখনই প্রচুর ক্রেতা এটিকে "সস্তা" মনে করে কিনেছিলেন। ফলে পরবর্তীতে দাম আবার সেই স্তরে নামলে বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুত থাকেন কেনার জন্য।
ট্রেডিং কৌশল: সাপোর্ট স্তরের সামান্য ওপরে স্টপ লস নির্ধারণ করে শেয়ার কেনা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. Resistance (রেজিস্ট্যান্স লেভেল বা বিক্রয়বলয়) কী?
Resistance হলো এমন একটি মূল্যস্তর, যেখানে শেয়ারের দাম উঠতে উঠতে পৌঁছালে ক্রয়ের চাপ ফুরিয়ে যায় এবং ব্যাপক বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। ফলে দাম সেই স্তর ভেদ করতে না পেরে পুনরায় নিচের দিকে নেমে যেতে বাধ্য হয়।
এটি হলো ঘরের "ছাদ" (Ceiling)-এর মতো। বল ছুড়ে মারলে যেমন ছাদে আঘাত লেগে নিচে ফিরে আসে, শেয়ারের দামও রেজিস্ট্যান্স লেভেলে পৌঁছে বাধার মুখে পড়ে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: যেসব বিনিয়োগকারী নিচে কিনেছিলেন তারা এই স্তরে পৌঁছালে মুনাফা তুলে নেওয়ার (Profit Booking) জন্য শেয়ার বিক্রি করেন। পাশাপাশি যারা অতীতে চড়া দামে আটকে ছিলেন, তারাও লস কমাতে শেয়ার ছেড়ে দিতে চান।
ট্রেডিং কৌশল: রেজিস্ট্যান্স লেভেলের কাছাকাছি নতুন করে বাই অর্ডার না দিয়ে বরং মুনাফা তুলে নেওয়া বা বিক্রি করার কথা ভাবা উচিত।
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স ব্যবহারের সোনালী নিয়ম
ভূমিকা বদল (Role Reversal): কোনো শক্তিশালী রেজিস্ট্যান্স স্তর যদি ব্যাপক Volume নিয়ে ভেঙে ওপরে উঠে যায়, তবে পরবর্তীতে শেয়ারের দাম সংশোধন হয়ে নিচে নামার সময় সেই পুরনো রেজিস্ট্যান্সটিই নতুন Support হিসেবে কাজ করে। একইভাবে সাপোর্ট স্তর ভেঙে নিচে নেমে গেলে তা পরবর্তী সময়ে নতুন Resistance-এ রূপ নেয়।
একাধিক স্পর্শে নির্ভরতা: একটি সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স লাইন যত বেশিবার স্পর্শ করে দাম ফিরে এসেছে, সেই স্তরটি বাজারে তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয়।
মনে রাখবেন, সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স কোনো লোহার খাঁচা নয়। বাজারের যেকোনো বড় মৌলিক পরিবর্তন, কোম্পানির নতুন তথ্য বা দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতায় এগুলো ভেঙে যেতে পারে। তাই সবসময় স্টপ লস মেনে এই স্তরগুলো ব্যবহার করাই পেশাদার বিনিয়োগের ভিত্তি।
119
3
পড়ুন →
technical analysis
13 Sep, 2026
Moving Average দিয়ে Trend চেনা — Price ও MA-এর অবস্থান কী বলে?
১. Moving Average দিয়ে Trend চেনা যায় কীভাবে?
আগের অধ্যায়গুলোতে আমরা জেনেছি Moving Average Price-এর গড়কে একটি চলমান Line হিসেবে দেখায়।
এখন সেটিকে Trend Analysis-এ ব্যবহার করব।
ধরুন একটি শেয়ারের Price ধীরে ধীরে বাড়ছে।
কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে ওঠানামা করছে।
Price-এর এই ছোট ছোট পরিবর্তন অনেক সময় চোখে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
Moving Average সেই Noise কিছুটা কমিয়ে আমাদের একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করে:
Price-এর সামগ্রিক প্রবণতা কোন দিকে?
২. প্রথম নিয়ম: Price কোথায় আছে দেখুন
সবচেয়ে সহজ শুরু হলো:
Current Price Moving Average-এর ওপরে নাকি নিচে?
ধরুন:
Price = ১২০ টাকাSMA ৫০ = ১১০ টাকা
অর্থাৎ:
Price > SMA ৫০
Price Moving Average-এর ওপরে।
এটি তুলনামূলক শক্তিশালী Price Position হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
আবার:
Price = ৯৫ টাকাSMA ৫০ = ১০৫ টাকা
অর্থাৎ:
Price < SMA ৫০
এটি তুলনামূলক দুর্বল Price Position নির্দেশ করতে পারে।
কিন্তু এটিই পুরো Analysis নয়।
৩. দ্বিতীয় নিয়ম: Moving Average কোন দিকে যাচ্ছে?
এবার MA-এর দিকে তাকান।
Price MA-এর ওপরে আছে—এটা একটি তথ্য।
কিন্তু MA নিজেই কোন দিকে যাচ্ছে—এটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঊর্ধ্বমুখী MA
──────────↗
───────↗
────↗
Moving Average উপরের দিকে যাচ্ছে।
এটি Uptrend-এর পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ observation হতে পারে।
নিম্নমুখী MA
↘──────────
↘───────
↘────
এটি Downtrend-এর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে।
সমতল MA
────────────────
────────────────
Price যদি একই Range-এ ঘোরাফেরা করে এবং MA প্রায় Flat থাকে, তাহলে Sideways Market-এর সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে।
৪. Price + MA-এর সবচেয়ে সহজ ৩টি পরিস্থিতি
🟢 Bullish Structure
Price > MA
এবং
MA ↗
অর্থাৎ Price MA-এর ওপরে এবং MA ঊর্ধ্বমুখী।
🔴 Bearish Structure
Price < MA
এবং
MA ↘
অর্থাৎ Price MA-এর নিচে এবং MA নিম্নমুখী।
🟡 Sideways Structure
Price ↔
এবং
MA →
Price ও MA দুটোই খুব বেশি Direction দেখাচ্ছে না।
৫. তবে শুধু একটি Moving Average যথেষ্ট নয়
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন:
Price > SMA ২০
এখন কি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে শেয়ারটি Uptrend-এ?
না।
কারণ SMA ২০ Shorter-term Price Movement দেখায়।
হতে পারে:
Price > SMA ২০
কিন্তু:
Price < SMA ২০০
অর্থাৎ Short-term Price শক্তিশালী হলেও Long-term Trend এখনও দুর্বল।
তাই বিভিন্ন Period-এর Moving Average একসঙ্গে দেখলে আরও ভালো Context পাওয়া যায়।
৬. SMA ২০, SMA ৫০ ও SMA ২০০
তিনটি পরিচিত Moving Average:
SMA ২০
Shorter-term Trend পর্যবেক্ষণে।
SMA ৫০
Medium-term Trend পর্যবেক্ষণে।
SMA ২০০
Long-term Trend পর্যবেক্ষণে।
Daily Chart-এ এগুলো যথাক্রমে ২০, ৫০ ও ২০০ Trading Period-এর Average Price দেখায়।
৭. একটি Bullish Structure
ধরুন:
Price = ১৫০
SMA ২০ = ১৪৫
SMA ৫০ = ১৩৫
SMA ২০০ = ১২০
অর্থাৎ:
Price > SMA ২০ > SMA ৫০ > SMA ২০০
এটি একটি সুন্দর bullish alignment।
আর যদি তিনটি Moving Average-ই ঊর্ধ্বমুখী হয়, তাহলে Uptrend Structure আরও শক্তিশালী কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সহজভাবে:
Price
↑
SMA 20
↑
SMA 50
↑
SMA 200
এটিকে অনেক সময় Bullish Alignment হিসেবে দেখা হয়।
৮. একটি Bearish Structure
এবার উল্টো উদাহরণ:
Price = ৯০
SMA ২০ = ৯৫
SMA ৫০ = ১০৫
SMA ২০০ = ১২০
অর্থাৎ:
Price < SMA ২০ < SMA ৫০ < SMA ২০০
এখানে Price এবং Moving Average-এর Structure তুলনামূলক Bearish।
যদি সব MA-ই নিচের দিকে ঢালু হয়, তাহলে Downtrend-এর বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
SMA 200
↓
SMA 50
↓
SMA 20
↓
Price
৯. Sideways Structure কেমন?
ধরুন:
Price = ১০০–১০৫
এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
SMA ২০:
প্রায় ১০২
SMA ৫০:
প্রায় ১০১
SMA ২০০:
প্রায় ১০৩
এবং তিনটি MA-ই প্রায় সমতল।
এখানে:
Price → Range
MA → Flat
তাহলে বাজারে শক্তিশালী Direction না থাকার সম্ভাবনা দেখা যায়।
এটি Consolidation-এর মতো পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
১০. Price MA-এর ওপরে গেলেই Trend Change?
না।
ধরুন একটি শেয়ারের Long-term Trend Down।
SMA ২০০ নিচের দিকে যাচ্ছে।
হঠাৎ Price কয়েকদিন বেড়ে SMA ২০-এর ওপরে চলে গেল।
এটি Short-term Strength হতে পারে।
কিন্তু এর মানে এই নয় যে Long-term Downtrend শেষ হয়ে গেছে।
তাই:
Short-term Trend Change এবং Long-term Trend Change একই বিষয় নয়।
১১. Multi-Timeframe Trend
এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা শিখি।
ধরুন:
Short-term
Price > EMA ৯
Medium-term
Price > SMA ৫০
Long-term
Price < SMA ২০০
তাহলে কী হচ্ছে?
সহজভাবে বলা যায়:
Short-term ও Medium-term Price Strength দেখা যাচ্ছে, কিন্তু Long-term Structure এখনও দুর্বল।
এটি একটি Mixed Trend Structure।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু একটি Moving Average দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
১২. Moving Average-এর Slope কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দুটি শেয়ারের Price একইভাবে SMA ৫০-এর ওপরে থাকতে পারে।
কিন্তু:
শেয়ার A
SMA ৫০:
↗
শেয়ার B
SMA ৫০:
→
দুটোই Price-এর নিচে।
তবুও Trend Structure এক নয়।
শেয়ার A-তে Moving Average ঊর্ধ্বমুখী।
শেয়ার B-তে Moving Average প্রায় Flat।
তাই:
Price-এর অবস্থানের পাশাপাশি MA-এর Slope দেখুন।
১৩. Price ও Moving Average-এর দূরত্ব
এটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন:
Price = ১০৫
SMA ৫০ = ১০০
দূরত্ব = ৫ টাকা।
আবার অন্য একটি শেয়ারে:
Price = ১৫০
SMA ৫০ = ১০০
দূরত্ব = ৫০ টাকা।
দুটো ক্ষেত্রেই Price MA-এর ওপরে।
কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে Price MA থেকে অনেক দূরে।
এটি অতিরিক্ত Extended Price Movement-এর বিষয়টি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
তবে শুধু Distance দেখেই Reversal ধরে নেওয়া যাবে না।
১৪. Price খুব দূরে চলে গেলে কী হতে পারে?
Moving Average Price-এর সঙ্গে চলতে থাকে।
কিন্তু Price যদি খুব দ্রুত একদিকে চলে যায়, তাহলে Price এবং MA-এর মধ্যে বড় Gap তৈরি হতে পারে।
Price
●
●
●
●
↑ বড় Gap
──────────── MA
এখানে Analyst দেখতে পারেন Price স্বাভাবিক Trend-এর তুলনায় কতটা দ্রুত এগিয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে Volatility-ও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
Volatility সম্পর্কে পরবর্তী পর্যায়ে আরও বিস্তারিত শেখা হবে।
১৫. Moving Average Dynamic Support
কখনো কখনো Uptrend-এর সময় Price কোনো Moving Average-এর কাছে এসে Support-এর মতো Reaction দেখাতে পারে।
উদাহরণ:
Price
↗
↗
↘
● ← MA-এর কাছে
↗
↗
──────────── MA
এখানে MA একটি সম্ভাব্য Dynamic Support হিসেবে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ:
Moving Average Support হিসেবে কাজ করবেই—এমন নয়।
Price MA ভেঙেও যেতে পারে।
১৬. Moving Average Dynamic Resistance
Downtrend-এর সময় একইভাবে MA Dynamic Resistance হিসেবে কাজ করতে পারে।
──────────── MA
↘
●
↘
↘
Price নিচে থাকার সময় MA-এর কাছে উঠে আবার নিচে চলে গেলে MA Resistance-এর মতো আচরণ করছে কি না দেখা যায়।
এখানে Resistance-এর ধারণার সঙ্গে Moving Average-এর ধারণা মিলিয়ে দেখা যায়।
১৭. Moving Average + Trendline
আগের অধ্যায়ে আমরা Trendline শিখেছি।
এখন ধরুন:
Trendline Uptrend দেখাচ্ছে
Price SMA ৫০-এর ওপরে
SMA ৫০ ঊর্ধ্বমুখী
তাহলে তিনটি আলাদা Technical Observation একই Direction-এর ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে Trendline ভেঙেছে কিন্তু Price এখনও SMA ২০০-এর ওপরে—তাহলে Short-term ও Long-term তথ্য আলাদা হতে পারে।
এখানেই Technical Analysis-এর আসল মজা:
একটি Signal নয়, পুরো Chart-এর গল্প পড়া।
১৮. Moving Average + Volume
এখন Volume যোগ করি।
ধরুন:
Price SMA ৫০-এর ওপরে Breakout করল।
একই সময়ে Volume বেড়ে গেল।
এটি Price Movement-এর সঙ্গে Volume-এর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়।
এখানে Volume Confirmation-এর ধারণা কাজে আসে।
১৯. Moving Average + Support/Resistance
ধরুন:
SMA ৫০ = ১০০ টাকা
এবং পুরোনো Support-ও:
১০০ টাকা
Price ১০০-এর কাছে এসে Reaction দেখাল।
এখন একই Price Level-এ:
Horizontal Support+Moving Average
দুটো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এ ধরনের জায়গাকে Technical Analysis-এ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
২০. একটি পূর্ণাঙ্গ Bullish Example
ধরুন একটি DSE শেয়ারে:
Price = ১৮০
SMA ২০ = ১৭০
SMA ৫০ = ১৬০
SMA ২০০ = ১৪০
এবং:
SMA ২০ ↗SMA ৫০ ↗SMA ২০০ ↗
এছাড়া Price গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর ওপরে এবং Volume-ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখন আমরা কী বলতে পারি?
আমরা বলতে পারি:
Price এবং Moving Average-এর মধ্যে একটি শক্তিশালী bullish structure দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু আমরা বলব না:
“এই শেয়ারের দাম নিশ্চিতভাবে বাড়বে।”
কারণ Technical Analysis সম্ভাবনা ও structure বিশ্লেষণ করে, নিশ্চয়তা দেয় না।
২১. একটি পূর্ণাঙ্গ Bearish Example
ধরুন:
Price = ৮০
SMA ২০ = ৯০
SMA ৫০ = ১০০
SMA ২০০ = ১২০
এবং তিনটি MA-ই নিচের দিকে।
Price একটি গুরুত্বপূর্ণ Support-এর নিচে গেছে এবং Volume-ও বেড়েছে।
এখানে:
Price < SMA ২০ < SMA ৫০ < SMA ২০০
একটি bearish structure তৈরি করছে।
এটি Downtrend-এর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ Technical Context হতে পারে।
২২. Mixed Structure কী?
সবসময় Chart এত সুন্দর থাকবে না।
ধরুন:
Price > SMA ২০
কিন্তু:
Price < SMA ৫০
এবং:
Price < SMA ২০০
এখানে Short-term Strength দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু Medium ও Long-term Structure এখনও দুর্বল।
এটিকে Mixed Structure হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এখানে নতুনদের উচিত:
“Trend পরিবর্তন হচ্ছে কি, নাকি এটি শুধু একটি Short-term Bounce?”
এই প্রশ্ন করা।
২৩. Price MA Cross করলে কী দেখবেন?
ধরুন Price SMA ৫০-এর নিচে ছিল।
হঠাৎ SMA ৫০-এর ওপরে চলে গেল।
এখন শুধু Cross দেখে সিদ্ধান্ত নয়।
দেখুন:
১. Volume বেড়েছে?
২. Price কি পরের দিনও ওপরে থাকছে?
৩. Resistance ভেঙেছে?
৪. SMA ৫০-এর Slope কী?
৫. SMA ২০০ কোথায়?
৬. সামগ্রিক Trend কী?
এগুলো একসঙ্গে দেখলে Cross-এর গুরুত্ব বোঝা সহজ হয়।
২৪. Price MA-এর নিচে নেমে গেলে
উল্টোভাবে Price SMA ৫০-এর নিচে গেল।
এটি দুর্বলতার Signal হতে পারে।
কিন্তু আবারও প্রশ্ন:
এটি কি Temporary Dip, নাকি Trend Change?
যদি Price আবার দ্রুত SMA ৫০-এর ওপরে ফিরে আসে, তাহলে প্রথম Break-টি খুব শক্তিশালী ছিল না হতে পারে।
এখানে Price Action ও Volume পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
২৫. Moving Average দিয়ে Trend চেনার একটি সহজ Framework
যেকোনো Chart-এ এই Framework ব্যবহার করুন:
১. Price কোথায়?
↓
২. MA-এর ওপরে/নিচে?
↓
৩. MA কোন দিকে?
↓
৪. Short + Medium + Long MA কী বলছে?
↓
৫. Support/Resistance কোথায়?
↓
৬. Volume কী করছে?
↓
৭. পরবর্তী Price Action কী বলছে?
এই ৭ ধাপের অভ্যাস আপনার Chart Reading অনেক উন্নত করবে।
২৬. Bullish, Bearish নাকি Sideways?
🟢 Bullish
সাধারণত:
Price MA-এর ওপরে
MA ঊর্ধ্বমুখী
Short MA > Long MA
Higher High/Higher Low দেখা যেতে পারে
Volume Price Movement-কে support করতে পারে
🔴 Bearish
সাধারণত:
Price MA-এর নিচে
MA নিম্নমুখী
Short MA < Long MA
Lower High/Lower Low দেখা যেতে পারে
Selling Volume বাড়তে পারে
🟡 Sideways
সাধারণত:
Price Range-এর মধ্যে
MA Flat
MA-গুলো কাছাকাছি
বারবার Cross
Direction পরিষ্কার নয়
এগুলো সম্ভাব্য structure, কঠোর নিয়ম নয়।
২৭. Moving Average দিয়ে Trend চেনার সবচেয়ে বড় ভুল
একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল হলো:
Price MA-এর ওপরে = Bullish
এতটুকু দিয়ে Analysis শেষ করা যাবে না।
বরং দেখুন:
Price + MA Position + MA Slope + Multiple MA + Support/Resistance + Volume
এই পুরো Context।
❌ ২৮. নতুনদের ৮টি সাধারণ ভুল
১. শুধু Price ও MA-এর অবস্থান দেখা
২. MA-এর Slope উপেক্ষা করা
৩. Short-term MA দেখে Long-term Trend ধরে নেওয়া
৪. Sideways Market-এ Crossover-কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
৫. Volume না দেখা
৬. Support/Resistance না দেখা
৭. Price MA থেকে অনেক দূরে চলে গেলে সেটিকে না বোঝা
৮. Moving Average-কে ভবিষ্যৎ Price Predictor মনে করা
🧠 ২৯. এক মিনিটে পুরো অধ্যায়
মনে রাখুন:
Price কোথায় = প্রথম প্রশ্ন।
MA কোন দিকে = দ্বিতীয় প্রশ্ন।
একাধিক MA কীভাবে সাজানো = Trend Structure।
Price + MA + Volume = আরও ভালো Context।
Price MA-এর ওপরে মানেই নিশ্চিত Bullish নয়।
Price MA-এর নিচে মানেই নিশ্চিত Bearish নয়।
Flat MA + বারবার Cross = Sideways Market-এর সম্ভাবনা।
Moving Average হলো Trend বোঝার Tool, ভবিষ্যৎবাণীর মেশিন নয়।
📊 ৩০. Quick Reference Table
Structure
সাধারণ পর্যবেক্ষণ
Price > MA + MA ↗
Bullish Strength
Price < MA + MA ↘
Bearish Strength
Price ↔ + MA →
Sideways
Price > SMA ২০ কিন্তু < SMA ২০০
Short-term strength, long-term weakness
Price > SMA ২০ > SMA ৫০ > SMA ২০০
Bullish Alignment
Price < SMA ২০ < SMA ৫০ < SMA ২০০
Bearish Alignment
MA-তে Price Reaction
Dynamic Support/Resistance হতে পারে
Price MA থেকে অনেক দূরে
Extended Movement পর্যবেক্ষণ করুন
MA বারবার Cross
Sideways/Whipsaw-এর সম্ভাবনা
✍️ ৩১. Practical Exercise
DSEPLEX-এর কোনো একটি Stock Chart খুলুন।
চার্টে রাখুন:
SMA ২০SMA ৫০SMA ২০০
এবার নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে ফেলুন।
প্রশ্ন ১
Current Price তিনটি MA-এর কোথায়?
প্রশ্ন ২
SMA ২০ কোন দিকে?
প্রশ্ন ৩
SMA ৫০ কোন দিকে?
প্রশ্ন ৪
SMA ২০০ কোন দিকে?
প্রশ্ন ৫
তিনটি MA কি Bullish Alignment তৈরি করেছে?
প্রশ্ন ৬
নাকি Bearish Alignment?
প্রশ্ন ৭
নাকি MA-গুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি?
প্রশ্ন ৮
Price কি কোনো MA-তে বারবার Support/Resistance-এর মতো Reaction দিয়েছে?
প্রশ্ন ৯
সেই জায়গায় Volume কী করেছে?
প্রশ্ন ১০
আপনার মতে Chart-এর বর্তমান Structure—Bullish, Bearish, নাকি Sideways?এবং কেন?
শেষ প্রশ্নটির উত্তর একটি Signal দেখে নয়, পুরো Chart দেখে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
81
1
পড়ুন →