DSEPlex Academy

অনুসন্ধানের ফলাফল

আপনি খুঁজছেন: "Technical Analysis Basics"

মোট 2 টি ফলাফল পাওয়া গেছে

Technical Analysis কী? — একদম শুরু থেকে শেখার গাইড
technical analysis 29 Aug, 2026

Technical Analysis কী? — একদম শুরু থেকে শেখার গাইড

  আপনি যদি কখনো শেয়ারের চার্ট দেখে ভেবে থাকেন—“এই শেয়ারটি এখন বাড়বে নাকি কমবে?”, তাহলে Technical Analysis আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। Technical Analysis বা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস হলো শেয়ারের Price, Volume, Trend এবং চার্টের বিভিন্ন Price Pattern বিশ্লেষণ করে বাজারের সম্ভাব্য গতিপথ বোঝার একটি পদ্ধতি। সহজ ভাষায় বললে— শেয়ারের দাম কীভাবে চলছে, কোথায় থামছে, কোথা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ কেমন—এসব তথ্য চার্টের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করাই Technical Analysis। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। Technical Analysis ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারে না। এটি আপনাকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। তাই Technical Analysis শেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “আগামীকাল দাম কত হবে” নিশ্চিতভাবে জানা নয়; বরং সম্ভাব্য ভালো ও খারাপ পরিস্থিতি আগে থেকে চিনতে শেখা। Technical Analysis কেন শিখবেন? ধরুন, আপনি DSE-তে একটি শেয়ার দেখলেন। শেয়ারের বর্তমান মূল্য ১০০ টাকা। এখন শুধু ১০০ টাকা দেখলে খুব বেশি কিছু বোঝা যায় না। কিন্তু যদি আপনি দেখেন— কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ছে প্রতিবার কমলে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আগের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি যাচ্ছে দাম বাড়ার সময় Volume বাড়ছে নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ Support আছে ওপরে একটি গুরুত্বপূর্ণ Resistance আছে তাহলে একই ১০০ টাকার শেয়ার সম্পর্কে আপনার ধারণা অনেক বেশি পরিষ্কার হবে। এই তথ্যগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাই Technical Analysis শেখার মূল উদ্দেশ্য। Technical Analysis-এর মূল ধারণা Technical Analysis শেখার শুরুতে আপনাকে শত শত Indicator মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রথমে নিচের কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে: Price → Volume → Trend → Support & Resistance → Candlestick → Pattern → Indicator এই ধারাবাহিকতাটি মনে রাখুন। কারণ একজন নতুন বিনিয়োগকারী যদি প্রথম দিনেই RSI, MACD, Bollinger Bands, Stochastic এবং আরও দশটি Indicator নিয়ে বসেন, তাহলে চার্ট বোঝার বদলে আরও বেশি বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রথমে দামের ভাষা বুঝতে হবে। তারপর Indicator। ১. Price — শেয়ারের দাম Technical Analysis-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো Price বা শেয়ারের দাম। একটি শেয়ারের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। কখনো ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকলে দাম বাড়তে পারে। আবার বিক্রেতাদের চাপ বেশি হলে দাম কমতে পারে। এই দাম কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কোথায় গিয়ে থামছে এবং কোন দিকে এগোচ্ছে—এসবই Technical Analysis-এর মূল বিষয়। উদাহরণ: ধরুন একটি শেয়ার: ৯০ → ৯৫ → ১০০ → ১০৫ → ১১০ এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাচ্ছে। অন্যদিকে: ১১০ → ১০৫ → ১০০ → ৯৫ → ৯০ এখানে দাম নিচের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু শুধু দুই-তিন দিনের দাম দেখে Trend নির্ধারণ করা উচিত নয়। সাধারণত পর্যাপ্ত সময়ের Price Movement দেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। ২. Price Action — দাম কী বলছে? Price Action হলো কোনো শেয়ারের অতীত ও বর্তমান মূল্য চলাচল বিশ্লেষণ করে বাজারের আচরণ বোঝার পদ্ধতি। DSEPlex Glossary-তেও Price Action-এর এই ধারণাটিই ব্যবহার করা হয়েছে। Price Action — DSEPlex Glossary সহজভাবে বললে— চার্টে Indicator-এর আগে দাম কী করছে সেটি দেখা হলো Price Action-এর মূল ধারণা। Price Action বিশ্লেষণের সময় আমরা দেখতে পারি: দাম কোথা থেকে উঠছে কোথায় গিয়ে থামছে আগের উচ্চতা ভাঙছে কি না আগের নিম্নতা ভাঙছে কি না ক্রেতা নাকি বিক্রেতা বেশি শক্তিশালী দাম দ্রুত নাকি ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে Price Action আরও বিস্তারিতভাবে শেখানো হবে। ৩. Trend — শেয়ার কোন দিকে যাচ্ছে? কোনো শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়। Trend — DSEPlex Glossary সাধারণভাবে তিন ধরনের Trend দেখা যায়: Uptrend দাম ধীরে ধীরে ওপরে যাওয়ার প্রবণতা। উদাহরণ: ১০০ → ১০৫ → ১০৩ → ১১০ → ১০৮ → ১১৫ এখানে প্রতিটি বড় ওঠার পর দাম আগের তুলনায় আরও ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। Technical Analysis-এ Uptrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Higher High এবং Higher Low দেখা যায়। Downtrend দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাওয়ার প্রবণতা। উদাহরণ: ১২০ → ১১৫ → ১১৭ → ১০৮ → ১১১ → ১০২ এখানে দাম নতুন নতুন নিম্ন পর্যায় তৈরি করছে। Downtrend-এর ক্ষেত্রে সাধারণত Lower High এবং Lower Low দেখা যেতে পারে। Sideways Trend দাম একটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে ওঠানামা করছে। উদাহরণ: ১০০ → ১০৫ → ১০২ → ১০৭ → ১০৩ → ১০৬ দাম খুব পরিষ্কারভাবে ওপরে বা নিচে যাচ্ছে না। এই ধরনের বাজারকে অনেক সময় Sideways বা Range-bound Market বলা হয়। ৪. Volume — আসলে কতটা লেনদেন হচ্ছে? Volume হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে। DSEPlex Glossary-তে Volume-কে ঠিক এইভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। Volume — DSEPlex Glossary ধরুন, কোনো শেয়ারের দাম আজ ৫% বেড়েছে। শুধু দাম দেখে আপনি বলতে পারেন— “শেয়ারটির দাম বেড়েছে।” কিন্তু Volume দেখলে আরও একটি প্রশ্ন করা যায়— এই মূল্যবৃদ্ধির সময় বাজারে অংশগ্রহণ কতটা ছিল? যদি দাম বাড়ার সঙ্গে Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে বাজারে অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। আবার দাম বাড়লেও Volume খুব দুর্বল হলে সেটিকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তবে মনে রাখবেন: Volume একা কোনো শেয়ারের ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে না। Price এবং Volume একসঙ্গে বিশ্লেষণ করাই বেশি কার্যকর। ৫. Support — কোথায় এসে দাম থামতে পারে? ধরুন একটি শেয়ারের দাম: ১২০ → ১১০ → ১০২ → ১০০ → ১০৫ → ১১২ এরপর আবার: ১১২ → ১০৪ → ১০০ → ১০৬ দেখা যাচ্ছে, শেয়ারটি ১০০ টাকার আশেপাশে এসে বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই ধরনের মূল্যাঞ্চলকে Support হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। DSEPlex Glossary অনুযায়ী, Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে অতীতে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। Support — DSEPlex Glossary সহজভাবে মনে রাখুন: Support = নিচের দিকে সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহের অঞ্চল। তবে Support কোনো পাকা দেয়াল নয়। বিক্রির চাপ অনেক বেশি হলে Support ভেঙে যেতে পারে। ৬. Resistance — কোথায় গিয়ে বিক্রির চাপ আসতে পারে? এবার উল্টো উদাহরণ দেখি। একটি শেয়ারের দাম: ১০০ → ১১০ → ১২০ → ১১৫ → ১২২ → ১১৮ যদি দেখা যায় ১২০–১২২ টাকার আশেপাশে বারবার দাম আটকে যাচ্ছে, তাহলে ওই অঞ্চলটি সম্ভাব্য Resistance হতে পারে। সহজভাবে মনে রাখুন: Resistance = ওপরের দিকে সম্ভাব্য বিক্রির চাপের অঞ্চল। Support ও Resistance একসঙ্গে বোঝা Technical Analysis শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। DSEPlex Glossary-তে এ দুটিকে Price Movement, Breakout এবং সম্ভাব্য Reversal বোঝার গুরুত্বপূর্ণ Technical ধারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। Support & Resistance — DSEPlex Glossary ৭. Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া ধরুন একটি শেয়ারের Resistance ১৫০ টাকা। শেয়ারটি কয়েকবার ১৫০ টাকার কাছে গিয়ে নিচে নেমেছে। এরপর একদিন দাম ১৫০ টাকার ওপরে চলে গেল। এটিকে Breakout হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। DSEPlex Glossary অনুযায়ী, কোনো শেয়ারের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ Support বা Resistance অতিক্রম করে নতুন মূল্যপরিসরে প্রবেশ করলে তাকে Breakout বলা হয়। Breakout — DSEPlex Glossary কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। প্রতিটি Breakout সফল হয় না। কখনো দাম Resistance-এর ওপরে গেলেও আবার দ্রুত নিচে ফিরে আসে। এটিকে False Breakout বলা হয়। DSEPlex Glossary-তেও False Breakout-এর জন্য আলাদা শব্দকোষ পেজ রয়েছে। False Breakout — DSEPlex Glossary তাই Breakout দেখলেই চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ৮. Breakdown — Support ভেঙে নিচে যাওয়া Breakout-এর বিপরীত দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Breakdown। যদি কোনো শেয়ারের দাম গুরুত্বপূর্ণ Support-এর নিচে চলে যায়, তাকে Breakdown বলা হয়। Breakdown — DSEPlex Glossary উদাহরণ: Support = ১০০ টাকা দাম: ১০৫ → ১০২ → ১০০ → ৯৮ → ৯৫ যদি ১০০ টাকার Support গুরুত্বপূর্ণভাবে ভেঙে যায়, তাহলে এটি সম্ভাব্য দুর্বলতার সংকেত হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। তবে এখানেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। দাম সাময়িকভাবে Support-এর নিচে গিয়ে আবার ওপরে ফিরে আসতে পারে। ৯. Candlestick — চার্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা Technical Analysis শেখার সময় খুব দ্রুত আপনি Candlestick শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হবেন। Candlestick নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্যকে একটি দৃশ্যমান আকারে দেখায়। DSEPlex Glossary-তেও Candlestick-এর সংজ্ঞা এভাবেই দেওয়া হয়েছে। Candlestick — DSEPlex Glossary একটি Candlestick দেখে আমরা জানতে পারি: কোথায় Open হয়েছে দিনের সর্বোচ্চ দাম কত ছিল দিনের সর্বনিম্ন দাম কত ছিল কোথায় Close হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কার চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা পুরোপুরি Candlestick শেখার জন্য আলাদা পাঠ করব। Technical Analysis কি শুধু ট্রেডারদের জন্য? শুধু স্বল্পমেয়াদি Trader-দের জন্য নয়। একজন দীর্ঘমেয়াদি Investor-ও Technical Analysis ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: কোনো কোম্পানির Fundamental Analysis করে আপনি মনে করলেন কোম্পানিটি ভালো। কিন্তু শেয়ারটির দাম বর্তমানে খুব দ্রুত বেড়ে গেছে। তখন Technical Analysis ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারেন— বর্তমান দাম কোথায় Support কোথায় Resistance কোথায় Trend কেমন দাম অতিরিক্ত দ্রুত বেড়েছে কি না সম্ভাব্য Entry কোথায় হতে পারে অর্থাৎ Fundamental Analysis আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, আর Technical Analysis আপনাকে মূল্যের আচরণ ও সম্ভাব্য Entry/Exit অঞ্চল বুঝতে সাহায্য করতে পারে। Technical Analysis বনাম Fundamental Analysis একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝি। ধরুন আপনি একটি কোম্পানি বিশ্লেষণ করছেন। Fundamental Analysis-এ আপনি দেখতে পারেন: EPS Revenue Profit Debt Dividend NAV P/E যেমন, EPS কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে তা বোঝায়। DSEPlex-এর EPS Glossary-তেও এটিকে Fundamental Analysis-এর গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। EPS — DSEPlex Glossary অন্যদিকে Technical Analysis-এ আপনি দেখবেন: Price Volume Trend Support Resistance Candlestick Pattern Indicator অর্থাৎ একটি কোম্পানিকে বোঝার জন্য Fundamental এবং Technical—দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। DSE-তে Technical Analysis শেখার সময় কী দেখবেন? বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে Technical Analysis শেখার সময় বাস্তব DSE ডেটার সঙ্গে অনুশীলন করা সবচেয়ে ভালো। DSEPlex-এর Advanced Chart-এ শেয়ারের Price, Volume, Open, High, Low এবং বিভিন্ন Technical Indicator দেখা যায়। DSEPlex Advanced Chart উদাহরণ হিসেবে কোনো শেয়ারের চার্ট খুলে প্রথমে শুধু এই পাঁচটি প্রশ্ন করুন: ১. দাম কোন দিকে যাচ্ছে? ২. Trend পরিষ্কার কি না? ৩. Support কোথায়? ৪. Resistance কোথায়? ৫. Volume কী বলছে? এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই আপনার Technical Analysis শেখার প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়ে যাবে। নতুনরা যে ভুলগুলো করবেন না ভুল ১ — প্রথম দিনেই ১০টি Indicator ব্যবহার করা এটি করবেন না। প্রথমে Price এবং Chart বুঝুন। ভুল ২ — RSI দেখেই শেয়ার কেনা RSI একটি Indicator। এটি একা Buy বা Sell-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ভুল ৩ — Support মানেই দাম অবশ্যই বাড়বে না। Support ভেঙে যেতে পারে। ভুল ৪ — Resistance মানেই দাম অবশ্যই কমবে না। Resistance ভেঙে দাম আরও ওপরে যেতে পারে। ভুল ৫ — Breakout দেখেই দৌড়ে কেনা Breakout-এর পর False Breakout হতে পারে। Volume এবং Price Behaviour-ও দেখতে হবে। ভুল ৬ — শুধু একটি দিনের চার্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক দিনের পরিবর্তন দিয়ে পুরো Trend বোঝা সবসময় সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়সীমার চার্ট দেখা প্রয়োজন হতে পারে। একটি সহজ Technical Analysis Checklist কোনো শেয়ার প্রথমবার দেখলে এই ক্রমে বিশ্লেষণ করার অভ্যাস করুন: ধাপ ১ Price দেখুন বর্তমান দাম কোথায়? ধাপ ২ Trend দেখুন Uptrend, Downtrend নাকি Sideways? ধাপ ৩ Support দেখুন দামের নিচে গুরুত্বপূর্ণ Support কোথায়? ধাপ ৪ Resistance দেখুন দামের ওপরে গুরুত্বপূর্ণ Resistance কোথায়? ধাপ ৫ Volume দেখুন মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে Volume কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে? ধাপ ৬ Candlestick দেখুন সাম্প্রতিক Candle কী ধরনের Price Behaviour দেখাচ্ছে? ধাপ ৭ তারপর Indicator ব্যবহার করুন প্রয়োজন অনুযায়ী RSI, Moving Average, MACD বা অন্য Indicator ব্যবহার করুন। এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজ যদি আপনি শুধু নিচের বিষয়গুলো বুঝতে পারেন, তাহলে এই অধ্যায় সফলভাবে শেষ করেছেন: Price — দাম কী করছে? Price Action — দাম কীভাবে আচরণ করছে? Trend — দাম কোন দিকে যাচ্ছে? Volume — কতটা লেনদেন হচ্ছে? Support — নিচে কোথায় ক্রেতার আগ্রহ দেখা যেতে পারে? Resistance — ওপরে কোথায় বিক্রির চাপ দেখা যেতে পারে? Breakout — গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে বের হওয়া। Breakdown — গুরুত্বপূর্ণ Support ভেঙে নিচে যাওয়া। Candlestick — নির্দিষ্ট সময়ের Price Movement-এর দৃশ্যমান রূপ। মনে রাখার সহজ সূত্র Technical Analysis-কে আপাতত এইভাবে মনে রাখুন: দাম কী করছে? ↓ কোন দিকে যাচ্ছে? ↓ কোথায় Support? ↓ কোথায় Resistance? ↓ Volume কী বলছে? ↓ Candlestick কী দেখাচ্ছে? ↓ তারপর Indicator দিয়ে আরও যাচাই। পরবর্তী অধ্যায় অধ্যায় ২: চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা একদম শূন্য থেকে শিখব— Chart কী Chart কেন ব্যবহার করা হয় Line Chart Bar Chart Candlestick Chart Open, High, Low, Close Timeframe কী দৈনিক Chart কী সাপ্তাহিক Chart কী মাসিক Chart কী DSE শেয়ারের Chart কীভাবে পড়বেন Chart দেখার সময় কোন তথ্য আগে দেখবেন এরপর আমরা ধাপে ধাপে Candlestick → Trend → Support & Resistance → Volume → Trendline → Chart Pattern → Moving Average → RSI → MACD → Advanced Technical Analysis → Trading Strategy → Risk Management পর্যন্ত যাব।
257 13
পড়ুন →
চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু
technical analysis 29 Aug, 2026

চার্ট কী? — শেয়ারের চার্ট পড়ার একদম শুরু

চার্ট কী? আপনি যখন কোনো শেয়ারের দাম গত কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা একসঙ্গে দেখতে চান, তখন সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো চার্ট। সহজ ভাষায়— সময়ের সঙ্গে শেয়ারের দাম কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিকে চোখে বোঝার মতোভাবে দেখানোর পদ্ধতিই হলো Price Chart। ধরুন, কোনো শেয়ারের দাম গত ১০ দিনে ছিল: ৫০ → ৫২ → ৫১ → ৫৫ → ৫৮ → ৫৬ → ৬০ → ৬৩ → ৬১ → ৬৫ আপনি চাইলে এই দশটি দাম আলাদাভাবে লিখে দেখতে পারেন। কিন্তু চার্টে দেখলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোঝা যাবে যে শেয়ারটির দাম সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণেই Technical Analysis-এ Chart এত গুরুত্বপূর্ণ। চার্ট কেন ব্যবহার করা হয়? শুধু একটি শেয়ারের বর্তমান দাম জানলে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। ধরুন একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা। এই ১০০ টাকা দেখে আপনি জানেন না— গতকাল দাম কত ছিল গত সপ্তাহে দাম কত ছিল এক মাস আগে দাম কত ছিল দাম বাড়ছে নাকি কমছে কোথা থেকে দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে কোথায় গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে নাকি কমছে কিন্তু চার্টে এসব তথ্য একসঙ্গে দেখা যায়। তাই চার্ট হলো Technical Analysis-এর মূল ভিত্তিগুলোর একটি। একটি চার্টকে কীভাবে ভাববেন? একটি চার্টকে আপনি শেয়ারের ইতিহাসের ছবি হিসেবে ভাবতে পারেন। যেমন একজন ডাক্তার রোগীর আগের রিপোর্ট দেখে পরিবর্তন বোঝেন, তেমনি একজন Technical Analyst শেয়ারের আগের Price Movement দেখে বাজারের আচরণ বোঝার চেষ্টা করেন। তবে এখানে একটি পার্থক্য আছে। চার্ট আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে না। চার্ট আমাদের অতীত ও বর্তমানের আচরণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। চার্টের দুইটি প্রধান অংশ একটি সাধারণ শেয়ার চার্টে মূলত দুই ধরনের তথ্য থাকে: ১. Price শেয়ারের দাম কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। ২. Time কোন সময়ে সেই মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ চার্টের: অনুভূমিক দিক = সময় উল্লম্ব দিক = দাম এই দুটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে ফেললে চার্ট পড়ার প্রথম ধাপ শেষ। চার্টে সময় কীভাবে দেখানো হয়? চার্টের নিচের দিকে সাধারণত সময় বা তারিখ থাকে। যেমন: ১০ আগস্ট → ১১ আগস্ট → ১২ আগস্ট → ১৩ আগস্ট → ১৬ আগস্ট → ১৭ আগস্ট এখানে প্রতিটি দিনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে প্রতিটি ক্যালেন্ডার দিনে বাজার লেনদেন থাকে না। তাই চার্টে আপনি সব তারিখ ধারাবাহিকভাবে নাও দেখতে পারেন। DSEPlex-এর শেয়ার চার্টেও তারিখের সঙ্গে Close, Volume, Change, Open, High এবং Low তথ্য দেখানো হয়। চার্টে দাম কীভাবে দেখানো হয়? চার্টে সাধারণত কয়েক ধরনের Price Chart দেখা যায়। প্রধানগুলো হলো: ১. লাইন চার্ট ২. বার চার্ট ৩. ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট Technical Analysis শেখার জন্য আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে Candlestick Chart। তবে তার আগে অন্যগুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকা দরকার। ১. লাইন চার্ট লাইন চার্ট হলো সবচেয়ে সহজ ধরনের চার্ট। এখানে সাধারণত প্রতিটি সময়ের একটি নির্দিষ্ট দামকে বিন্দু হিসেবে দেখিয়ে সেই বিন্দুগুলো একটি রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়। উদাহরণ: ৫০ → ৫২ → ৫৫ → ৫৩ → ৫৮ → ৬০ লাইন চার্ট দেখলে খুব সহজেই বোঝা যায়— দাম সামগ্রিকভাবে ওপরে যাচ্ছে নাকি নিচে যাচ্ছে। নতুনদের জন্য সুবিধা লাইন চার্ট খুব সহজ। আপনি যদি Technical Analysis একদম নতুন করে শুরু করেন, তাহলে প্রথমে লাইন চার্ট দেখে শুধু এই প্রশ্নটি করুন: দাম কোন দিকে যাচ্ছে? তবে সমস্যা হলো, লাইন চার্ট সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দামের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। একটি দিনের মধ্যে দাম কত ওপরে উঠেছিল বা কত নিচে নেমেছিল—এসব বিস্তারিত তথ্য সহজে দেখা যায় না। এই কারণে Technical Analysis-এর গভীরে যাওয়ার জন্য আমরা Candlestick Chart ব্যবহার করব। ২. বার চার্ট বার চার্ট একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্য দেখাতে পারে: Open High Low Close এই চারটি তথ্যকে সংক্ষেপে OHLC বলা হয়। বার চার্ট Candlestick-এর মতোই Price Movement-এর বিস্তারিত তথ্য দেয়, তবে এর উপস্থাপনার ধরন আলাদা। নতুনদের জন্য শুরুতে এটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তাই আমরা এটিকে আপাতত ধারণা হিসেবে রাখব এবং মূল গুরুত্ব দেব Candlestick Chart-এ। ৩. ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট এখন আসি Technical Analysis-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে। Candlestick Chart। একটি Candlestick নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের: Open High Low Close এই চারটি মূল্যকে একটি দৃশ্যমান আকারে দেখায়। DSEPlex Glossary-তেও Candlestick-কে নির্দিষ্ট সময়ের Open, High, Low এবং Close মূল্য প্রদর্শনের চার্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ক্যান্ডেলস্টিক — DSEPlex গ্লসারি পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা Candlestick নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত শিখব। একটি ক্যান্ডেল কীভাবে তৈরি হয়? ধরুন একটি শেয়ারের এক দিনের তথ্য হলো: Open = ১০০ টাকা High = ১০৮ টাকা Low = ৯৭ টাকা Close = ১০৬ টাকা অর্থাৎ দিনের শুরুতে শেয়ারটি ১০০ টাকায় ছিল। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সর্বনিম্ন ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছে। শেষ পর্যন্ত ১০৬ টাকায় বন্ধ হয়েছে। এই চারটি তথ্য একটি Candlestick-এর মাধ্যমে খুব সহজে দেখা যায়। Open কী? Open হলো নির্দিষ্ট সময়ের শুরুতে শেয়ারের যে দাম থেকে ওই সময়ের লেনদেন শুরু হয়। ধরা যাক, দৈনিক চার্টে আজকের Open হলো ১০০ টাকা। অর্থাৎ দিনের শুরুতে শেয়ারের দাম ছিল ১০০ টাকা। DSEPlex-এর চার্টেও প্রতিটি ট্রেডিং দিনের জন্য Open মূল্য আলাদাভাবে দেখানো হয়। সহজভাবে মনে রাখুন: Open = শুরুতে দাম কত ছিল। High কী? High হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া দাম। উদাহরণ: Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকা অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। সহজভাবে: High = ওই সময়ের সর্বোচ্চ দাম। Low কী? Low হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়া দাম। উদাহরণ: Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকাLow = ৯৭ টাকা অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বনিম্ন ৯৭ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। সহজভাবে: Low = ওই সময়ের সর্বনিম্ন দাম। Close কী? Close হলো নির্দিষ্ট সময়ের শেষ লেনদেনের মূল্য বা দিনের সমাপ্তির মূল্য। উদাহরণ: Open = ১০০ টাকাHigh = ১০৮ টাকাLow = ৯৭ টাকাClose = ১০৬ টাকা এখানে Close হলো ১০৬ টাকা। সহজভাবে: Close = সময় শেষে দাম কোথায় ছিল। DSEPlex-এর চার্টে প্রতিটি দিনের Close মূল্যও আলাদাভাবে দেখা যায়। OHLC কী? এখন চারটি শব্দ একসঙ্গে মনে রাখুন: O = Open H = High L = Low C = Close এগুলোকে একসঙ্গে বলা হয়: OHLC একটি শেয়ারের নির্দিষ্ট সময়ের Price Movement বোঝার জন্য OHLC অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ: তথ্য মূল্য Open ১০০ টাকা High ১০৮ টাকা Low ৯৭ টাকা Close ১০৬ টাকা এখন শুধু এই চারটি সংখ্যা দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন— শেয়ারটি ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছিল, দিনের মধ্যে ১০৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, ৯৭ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল এবং শেষে ১০৬ টাকায় ছিল। Close কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? Technical Analysis-এ Close Price অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিনের মধ্যে দাম অনেকবার ওপরে-নিচে যেতে পারে। কিন্তু দিন শেষে কোথায় এসে অবস্থান করছে, সেটিও বাজারের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। উদাহরণ: পরিস্থিতি ১ Open = ১০০High = ১০৮Low = ৯৯Close = ১০৭ এখানে দিনের শেষে দাম Open-এর তুলনায় অনেক ওপরে। পরিস্থিতি ২ Open = ১০০High = ১০৮Low = ৯৯Close = ১০০ এখানে দিনের মধ্যে দাম অনেক ওপরে উঠলেও শেষে আবার Open-এর কাছাকাছি ফিরে এসেছে। দুটি দিনের High একই হলেও Price Behaviour এক নয়। এই পার্থক্যগুলোই পরে Candlestick Analysis-এ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ক্যান্ডেলের Body কী? একটি Candlestick-এর মাঝের মোটা অংশকে সাধারণভাবে Body বলা হয়। Body মূলত Open এবং Close-এর মধ্যকার পার্থক্যকে দেখায়। যদি Close, Open-এর ওপরে থাকে, তাহলে সাধারণত সেটিকে Bullish Candle হিসেবে দেখা হয়। আর Close, Open-এর নিচে থাকলে Bearish Candle হিসেবে দেখা হয়। DSEPlex-এর Candlestick Glossary-তে ক্যান্ডেলের Body এবং Wick-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যচলাচল বোঝানোর ধারণা রয়েছে। ক্যান্ডেলস্টিক Wick বা Shadow কী? Candlestick-এর Body-এর ওপর বা নিচে যে সরু রেখা থাকে, তাকে সাধারণভাবে Wick বা Shadow বলা হয়। এটি দেখায় যে নির্দিষ্ট সময়ে দাম কত ওপরে বা কত নিচে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে শেষ হয়নি। উদাহরণ: Open = ১০০High = ১১০Low = ৯৮Close = ১০৫ এখানে: Body → ১০০ থেকে ১০৫ ওপরের Wick → ১০৫ থেকে ১১০ নিচের Wick → ৯৮ থেকে ১০০ এই Wick পরবর্তীতে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি ক্যান্ডেল দেখে কী বুঝবেন? একটি ক্যান্ডেল দেখে শুরুতে শুধু চারটি প্রশ্ন করুন: ১. কোথায় Open হয়েছে? দিন বা সময়ের শুরু কোথায় ছিল? ২. কোথায় Close হয়েছে? শেষ কোথায় হয়েছে? ৩. সর্বোচ্চ কোথায় গিয়েছে? High কত? ৪. সর্বনিম্ন কোথায় গিয়েছে? Low কত? এই চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই আপনি একটি Candlestick পড়ার প্রথম ধাপ শিখে ফেলেছেন। Timeframe কী? এখন একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Timeframe হলো একটি Candlestick বা Price Data কত সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে। উদাহরণ: ১ মিনিটের চার্ট প্রতিটি Candlestick = ১ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন। ৫ মিনিটের চার্ট প্রতিটি Candlestick = ৫ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন। ১৫ মিনিটের চার্ট প্রতিটি Candlestick = ১৫ মিনিটের মূল্য পরিবর্তন। ১ ঘণ্টার চার্ট প্রতিটি Candlestick = ১ ঘণ্টার মূল্য পরিবর্তন। দৈনিক চার্ট প্রতিটি Candlestick = একটি ট্রেডিং দিনের মূল্য পরিবর্তন। সাপ্তাহিক চার্ট প্রতিটি Candlestick = একটি সপ্তাহের মূল্য পরিবর্তন। মাসিক চার্ট প্রতিটি Candlestick = একটি মাসের মূল্য পরিবর্তন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন: Timeframe পরিবর্তন করলে একই শেয়ারের চার্টের চেহারাও পরিবর্তিত হতে পারে। দৈনিক চার্ট কী? দৈনিক বা Daily Chart-এ সাধারণত প্রতিটি Candlestick একটি ট্রেডিং দিনের তথ্য প্রকাশ করে। একটি দৈনিক Candlestick-এ থাকতে পারে: Open → দিনের শুরু High → দিনের সর্বোচ্চ Low → দিনের সর্বনিম্ন Close → দিনের শেষ মূল্য নতুনদের জন্য Technical Analysis শেখার সময় Daily Chart খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে দৈনিক বাজারের Price Movement তুলনামূলকভাবে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। সাপ্তাহিক চার্ট কেন দেখবেন? ধরুন Daily Chart দেখে কোনো শেয়ারকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে। কিন্তু Weekly Chart খুলে দেখা গেল গত কয়েক মাস ধরে শেয়ারটি একটি বড় Downtrend-এর মধ্যে রয়েছে। তাহলে শুধু Daily Chart দেখে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। এ কারণেই পরবর্তীতে আমরা Multiple Timeframe Analysis শিখব। তবে এখনই জটিল করার দরকার নেই। এই অধ্যায়ে শুধু মনে রাখুন: ছোট Timeframe = ছোট সময়ের Price Movement বড় Timeframe = বড় সময়ের Price Movement বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কোন চার্ট দিয়ে শুরু করবেন? একজন সম্পূর্ণ নতুন বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী হলে শুরুতে আমি এই ক্রমটি অনুসরণ করতে বলব: দৈনিক চার্ট → সাপ্তাহিক চার্ট → তারপর ছোট Timeframe প্রথমে Daily Chart-এ দেখুন: Trend কী দাম কোথায় Support কোথায় Resistance কোথায় সাম্প্রতিক Candlestick কেমন Volume কেমন তারপর Weekly Chart খুলে দেখুন: বড় ছবিটা কী বলছে? DSEPlex-এর চার্টে শেয়ারের Price এবং Volume-এর ঐতিহাসিক তথ্য দেখা যায়, এবং বিভিন্ন Technical Indicator-ও ব্যবহার করা যায়। DSEPlex চার্ট চার্টে Volume কোথায়? অনেক চার্টে Price-এর নিচে Volume-এর আলাদা অংশ থাকে। সাধারণত Volume Bar দিয়ে দেখানো হয় নির্দিষ্ট সময়ে কত লেনদেন হয়েছে। উদাহরণ: একটি দিনে Volume = ৫০,০০০ পরের দিনে Volume = ৮০,০০০ তারপর = ১,৫০,০০০ এখানে তৃতীয় দিনে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শুধু Volume বেড়েছে বলেই সেটিকে ভালো বা খারাপ বলা যাবে না। দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। উদাহরণ: দাম বাড়ছে + Volume বাড়ছে এটি এক ধরনের পরিস্থিতি। অন্যদিকে: দাম কমছে + Volume বাড়ছে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতি। এই বিষয়টি আমরা পরবর্তী Volume অধ্যায়ে বিস্তারিত শিখব। চার্ট দেখার সময় প্রথমে কী দেখবেন? আপনি যখন DSEPlex-এ কোনো শেয়ারের Chart খুলবেন, তখন প্রথমেই Indicator-এর তালিকা খুলবেন না। প্রথমে খালি Chart দেখুন। তারপর এই ক্রমে প্রশ্ন করুন: ধাপ ১ — দাম বর্তমান দাম কোথায়? ধাপ ২ — সময় আমি কোন Timeframe দেখছি? ধাপ ৩ — Trend দাম ওপরে যাচ্ছে, নিচে যাচ্ছে নাকি একই সীমায় চলছে? ধাপ ৪ — গুরুত্বপূর্ণ মূল্যাঞ্চল আগে কোথায় দাম থেমেছে বা ঘুরে দাঁড়িয়েছে? ধাপ ৫ — Volume দামের পরিবর্তনের সময় Volume কী করছে? ধাপ ৬ — Candlestick সাম্প্রতিক Candle কী ধরনের আচরণ দেখাচ্ছে? ধাপ ৭ — তারপর Indicator প্রয়োজন হলে Indicator ব্যবহার করুন। একটি বাস্তব DSE উদাহরণ ধরুন আপনি DSEPlex-এ কোনো DSE শেয়ারের Chart খুললেন। চার্টের তথ্য এমন হতে পারে: Close: ১৩০.২০ টাকাOpen: ১৩২.৭০ টাকাHigh: ১৩৩.৮০ টাকাLow: ১২৯.৮০ টাকাVolume: ৪৮,৯০৭ এ ধরনের তথ্য DSEPlex-এর বাস্তব শেয়ার চার্টে দেখা যায়। এখন একজন নতুন ব্যবহারকারী কীভাবে পড়বেন? প্রথমে দেখবেন: Open = ১৩২.৭০ অর্থাৎ শুরুতে দাম ছিল ১৩২.৭০ টাকা। High = ১৩৩.৮০ দিনে সর্বোচ্চ ১৩৩.৮০ টাকা পর্যন্ত গেছে। Low = ১২৯.৮০ দিনে সর্বনিম্ন ১২৯.৮০ টাকা পর্যন্ত গেছে। Close = ১৩০.২০ শেষে দাম ১৩০.২০ টাকায় ছিল। অর্থাৎ Open-এর তুলনায় Close কম। তাই ওই দিনের Price Movement-এ দুর্বলতা ছিল কি না, সেটি পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যেতে পারে। কিন্তু একটি দিনের তথ্য দেখেই শেয়ারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্ট পড়ার সময় নতুনদের ৭টি ভুল ১. শুধু বর্তমান দাম দেখা ১০০ টাকা দাম দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। দাম কোথা থেকে এসেছে সেটিও দেখতে হবে। ২. Timeframe না দেখে Chart বিশ্লেষণ করা ৫ মিনিটের Chart এবং দৈনিক Chart একই বিষয় দেখায় না। ৩. শুধু একটি Candle দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি Candle গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু পুরো বাজারের গল্প একটি Candle দিয়ে সবসময় বোঝা যায় না। ৪. High দেখে ভাবা যে দাম আবার সেখানে যাবে আগের High ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। ৫. Low-কে নিশ্চিত Support মনে করা একটি Low ভবিষ্যতে Support হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ৬. Volume বাদ দেওয়া Price-এর পাশাপাশি Volume-ও দেখতে হবে। ৭. প্রথম দিনেই অনেক Indicator বসানো চার্টকে তথ্যের জঞ্জালে পরিণত করবেন না। প্রথমে Price ও Candlestick বুঝুন। ছোট্ট অনুশীলন এখন আপনি DSEPlex-এর যেকোনো একটি শেয়ারের Chart খুলুন। DSEPlex চার্ট তারপর নিজেকে এই ১০টি প্রশ্ন করুন: ১. আমি কোন শেয়ারের Chart দেখছি? ২. কোন Timeframe দেখছি? ৩. বর্তমান দাম কত? ৪. Open কত? ৫. High কত? ৬. Low কত? ৭. Close কত? ৮. আজকের Candle কী বলছে? ৯. Volume কেমন? ১০. গত কয়েক দিনের তুলনায় দাম কোন দিকে যাচ্ছে? এই ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আপনি ইতিমধ্যে Chart পড়ার ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছেন। এই অধ্যায়ে যা শিখলাম আজ আমরা শিখলাম— Chart কী কেন Chart ব্যবহার করা হয় Price কীভাবে Chart-এ দেখা যায় Line Chart Bar Chart Candlestick Chart Open High Low Close OHLC Body Wick Timeframe Daily Chart Weekly Chart Volume Chart বিশ্লেষণের প্রাথমিক ধাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: চার্ট দেখার সময় প্রথমে Indicator নয়, Price দেখুন। কারণ Technical Analysis-এর শুরু হয় Price থেকে। সহজে মনে রাখুন একটি চার্ট দেখলে প্রথমে মনে করুন: সময় → দাম → OHLC → Candlestick → Volume → Trend এরপর আসবে: Support → Resistance → Pattern → Indicator এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে Technical Analysis শেখা অনেক সহজ হবে। পরবর্তী অধ্যায় অধ্যায় ৩: ক্যান্ডেলস্টিক কী? — একটি ক্যান্ডেল কীভাবে বাজারের গল্প বলে পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা শুধু Candlestick নিয়ে বিস্তারিত শিখব: Candlestick কী একটি Candle-এর চারটি মূল তথ্য Open High Low Close Body Wick Bullish Candle Bearish Candle বড় Body বনাম ছোট Body লম্বা Wick কী বোঝাতে পারে Doji শক্তিশালী Bullish Candle শক্তিশালী Bearish Candle DSE শেয়ারের বাস্তব উদাহরণ নতুনদের সাধারণ ভুল কোন Candle দেখে কীভাবে Price Behaviour বোঝা শুরু করবেন এরপর ধীরে ধীরে আমরা Candlestick Pattern → Trend → Support & Resistance → Volume → Chart Pattern → Moving Average → RSI → MACD-এর দিকে যাব।
150 11
পড়ুন →
Latest Price
Workspace
AI Desk
Profile