market basics
02 Sep, 2026
শেয়ার বাজার শেখার গাইড: একদম শুরু থেকে বিনিয়োগ বোঝার সহজ পথ
শেয়ার বাজারের নাম শুনলেই অনেকের মনে হয় এটি খুব কঠিন একটি বিষয়। চার্ট, DSEX, EPS, P/E Ratio, Dividend, Volume, Support, Resistance—এত ধরনের শব্দ দেখে একজন নতুন বিনিয়োগকারী সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে শেয়ার বাজার শেখার জন্য শুরুতেই অনেক কিছু জানার প্রয়োজন নেই। কিছু মৌলিক বিষয় ধারাবাহিকভাবে বুঝতে পারলেই ধীরে ধীরে বাজার, কোম্পানি এবং শেয়ারের আচরণ বোঝা সম্ভব।
এই গাইডটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের একদম নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য। এখানে আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে শেয়ার বাজার বোঝার চেষ্টা করব।
গুরুত্বপূর্ণ: এই গাইডটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কেনা বা বিক্রির পরামর্শ হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে নিজে যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ব্রোকার বা বিনিয়োগ পরামর্শকের সহায়তা নিন।
অধ্যায় ১: শেয়ার বাজার আসলে কী?
সহজ ভাষায়, শেয়ার বাজার হলো এমন একটি বাজার যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানার অংশ বা শেয়ার কেনাবেচা করা হয়।
ধরুন, একটি কোম্পানির মোট ১০ লাখ শেয়ার আছে। আপনি যদি সেই কোম্পানির ১,০০০টি শেয়ার কিনেন, তাহলে কোম্পানিটির খুব ছোট একটি অংশের মালিক আপনি হয়ে গেলেন।
এই কারণেই Share শুধু একটি কাগজ বা ট্রেডিংয়ের সংখ্যা নয়—এটি একটি ব্যবসার মালিকানার অংশ।
বাংলাদেশে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টক এক্সচেঞ্জ হলো:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)
DSE কী?
DSE বা Dhaka Stock Exchange হলো বাংলাদেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ, যেখানে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়।
DSEX কী?
DSEX হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজার সূচক। বাজারের অনেক শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার সামগ্রিক একটি ধারণা এই সূচক থেকে পাওয়া যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—DSEX বাড়লেই আপনার কেনা প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন নয়।
বাজারের সামগ্রিক অবস্থা এবং নির্দিষ্ট কোম্পানির অবস্থা আলাদা বিষয়।
অধ্যায় ২: শেয়ার কেনার আগে কী কী লাগবে?
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে শুধু টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন হয় একটি BO Account।
BO Account কী?
BO Account বা Beneficiary Owner Account হলো এমন একটি হিসাব যেখানে আপনার কেনা শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে:
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকে → BO Account-এ আপনার শেয়ার থাকে।
একজন নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য BO Account, Broker, Trading Account এবং টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি বিষয় হলো—শেয়ার বাজারে প্রবেশ করার আগে আপনার নিজের Investment Horizon এবং Risk Tolerance বোঝা দরকার।
Investment Horizon
আপনি কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, সেটিই Investment Horizon।
উদাহরণ:
কয়েক দিন → স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং
কয়েক মাস → মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগ
কয়েক বছর → দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
Risk Tolerance
বিনিয়োগের সময় আপনি কতটা মূল্য ওঠানামা বা সম্ভাব্য ক্ষতি গ্রহণ করতে পারবেন, সেটিই Risk Tolerance।
শুধু অন্য কেউ লাভ করেছে দেখে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার বাইরে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
অধ্যায় ৩: একটি শেয়ারের দাম কীভাবে ওঠানামা করে?
এটি শেয়ার বাজার বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
একটি শেয়ারের দাম মূলত বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর পরিবর্তিত হয়।
ধরুন:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ৫০ টাকা।
কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন শেয়ারটির দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, তাহলে তারা ৫০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে শেয়ার কিনতে আগ্রহী হতে পারেন।
অন্যদিকে, যদি অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রি করতে চান এবং ক্রেতা কম থাকে, তাহলে দাম কমার চাপ তৈরি হতে পারে।
এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
Bid Price
কোনো শেয়ার কেনার জন্য ক্রেতা যে দাম দিতে প্রস্তুত, সেটি Bid Price।
Ask Price
কোনো শেয়ার বিক্রি করার জন্য বিক্রেতা যে দাম গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটি Ask Price।
Bid-Ask Spread
সর্বোচ্চ Bid Price এবং সর্বনিম্ন Ask Price-এর পার্থক্যকে Bid-Ask Spread বলা হয়।
নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে এগুলো বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন কোনো শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে যাবেন, তখন এই শব্দগুলো নিয়মিত দেখতে পাবেন।
অধ্যায় ৪: Market Order ও Limit Order বুঝুন
শেয়ার কেনার সময় শুধু "কিনব" বললেই হয় না। আপনি কীভাবে অর্ডার দেবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি সাধারণ ধারণা হলো:
Market Order
বর্তমান বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম মূল্যে দ্রুত শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার অর্ডারকে Market Order বলা হয়।
Limit Order
আপনি একটি নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে শেয়ার কেনা বা বিক্রি করতে চাইলে Limit Order ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা।
আপনি ঠিক করলেন, ৯৫ টাকা হলে কিনবেন।
তাহলে ৯৫ টাকা Limit Price দিয়ে অর্ডার দিতে পারেন। বাজারে সেই দামে বিক্রেতা পাওয়া গেলে অর্ডারটি সম্পন্ন হতে পারে।
মনে রাখবেন: Limit Order দিলেই যে অর্ডার অবশ্যই সম্পন্ন হবে, তা নয়।
অধ্যায় ৫: LTP, Open, High, Low এবং Closing Price
একটি শেয়ারের দৈনিক বাজার তথ্য দেখতে গেলে কিছু সাধারণ শব্দ নিয়মিত চোখে পড়বে।
LTP
LTP বা Last Traded Price হলো সর্বশেষ সম্পন্ন লেনদেন যে মূল্যে হয়েছে।
Opening Price
ট্রেডিং দিনের শুরুতে সম্পন্ন হওয়া প্রথম লেনদেনের মূল্যকে Opening Price বলা হয়।
Day High
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day High।
Day Low
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারটির সর্বনিম্ন যে দামে লেনদেন হয়েছে সেটিই Day Low।
Closing Price
ট্রেডিং দিনের শেষে ব্যবহৃত সমাপনী মূল্যকে Closing Price বলা হয়।
এই তথ্যগুলো একটি শেয়ারের দৈনিক আচরণ বোঝার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে।
অধ্যায় ৬: Volume কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু শেয়ারের দাম দেখলে অনেক সময় পুরো ছবি পাওয়া যায় না।
এর সঙ্গে Volume দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
Volume বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি শেয়ারের মোট কত ইউনিট লেনদেন হয়েছে তা বোঝায়।
ধরুন, একটি শেয়ারের দাম ১০০ টাকা থেকে ১০৫ টাকা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এই মূল্যবৃদ্ধির সময় কত শেয়ার লেনদেন হয়েছে?
যদি Volume-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে সেই মূল্য পরিবর্তনের পেছনে বাজারে তুলনামূলক বেশি অংশগ্রহণ ছিল কি না, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করা যায়।
তবে Volume বেশি হলেই শেয়ার ভালো বা দাম আরও বাড়বেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
Volume-কে সবসময় Price Movement, কোম্পানির তথ্য এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
অধ্যায় ৭: Trend, Support এবং Resistance
শেয়ার বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:
"দাম এখন কোন দিকে যাচ্ছে?"
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Trend দেখা হয়।
Trend
একটি নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের দাম সাধারণত কোন দিকে এগোচ্ছে, সেই সামগ্রিক প্রবণতাকে Trend বলা হয়।
সাধারণভাবে Trend তিন ধরনের হতে পারে:
Uptrend — দাম ধীরে ধীরে উচ্চতর পর্যায়ে যাচ্ছে
Downtrend — দাম ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাচ্ছে
Sideways — দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে
Support
Support হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে কোনো শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
Resistance
Resistance হলো এমন একটি মূল্যস্তর যেখানে বিক্রয়চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার বারবার ৫০ টাকার কাছাকাছি এসে নিচে নেমে যায় এবং ৪০ টাকার কাছাকাছি এসে আবার ক্রেতা পায়।
তাহলে ৪০ টাকা একটি সম্ভাব্য Support এবং ৫০ টাকা একটি সম্ভাব্য Resistance হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে Support বা Resistance কোনো গ্যারান্টি নয়। বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এগুলো ভেঙেও যেতে পারে।
অধ্যায় ৮: Breakout, Breakdown এবং Pullback
Support ও Resistance বোঝার পর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সামনে আসে।
Breakout
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Resistance স্তর অতিক্রম করে শেয়ার নতুন মূল্যপরিসরে গেলে তাকে Breakout বলা হয়।
Breakdown
কোনো গুরুত্বপূর্ণ Support স্তরের নিচে শেয়ার নেমে গেলে তাকে Breakdown বলা হয়।
Pullback
একটি Trend চলার সময় বিপরীত দিকে শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা ফিরে এলে তাকে Pullback বলা হয়।
উদাহরণ:
একটি শেয়ার ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠল। এরপর কিছু সময়ের জন্য ৫৭ টাকায় নেমে আবার বাড়তে শুরু করল।
এই ধরনের সাময়িক ফিরে আসাকে Pullback হিসেবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
আবার Breakout-এর পর দাম দ্রুত আগের জায়গায় ফিরে এলে সেটি False Breakout হতে পারে।
তাই শুধু "Breakout হয়েছে" দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। Price, Volume এবং সামগ্রিক Trend একসঙ্গে দেখা দরকার।
অধ্যায় ৯: কোম্পানি ভালো কিনা কীভাবে বুঝবেন?
এখানে আমরা Technical Analysis থেকে কিছুটা Fundamental Analysis-এর দিকে যাব।
শুধু শেয়ারের চার্ট দেখে একটি কোম্পানিকে ভালো বা খারাপ বলা যায় না।
একটি কোম্পানি বুঝতে হলে অন্তত কয়েকটি বিষয় দেখতে পারেন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
ROE
ROA
P/E Ratio
Book Value
Business Growth
Revenue
কোম্পানি তার ব্যবসা থেকে কত টাকার বিক্রি বা আয় করছে, সেটি Revenue।
Net Profit
সব প্রয়োজনীয় খরচ, ব্যয় ও কর বিবেচনার পর কোম্পানির যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই Net Profit।
EPS
EPS বা Earnings Per Share বোঝায় কোম্পানি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা আয় করেছে।
উদাহরণ:
একটি কোম্পানির EPS যদি ৫ টাকা হয়, তাহলে প্রতি শেয়ারের হিসাবে কোম্পানির আয় ৫ টাকা—এমন একটি হিসাব পাওয়া যায়।
তবে শুধু EPS বেশি হলেই শেয়ার সস্তা বা ভালো—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
অধ্যায় ১০: P/E Ratio কী এবং কেন দেখা হয়?
P/E Ratio শেয়ার বাজারের অন্যতম পরিচিত একটি valuation metric।
সহজভাবে:
P/E = শেয়ারের বাজারমূল্য ÷ EPS
ধরুন:
শেয়ারের বাজারমূল্য = ১০০ টাকাEPS = ১০ টাকা
তাহলে P/E = ১০।
অর্থাৎ বাজারে শেয়ারটি তার প্রতি শেয়ারের আয়ের প্রায় ১০ গুণ মূল্যে লেনদেন করছে।
কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি নির্দিষ্ট P/E নিজে থেকে ভালো বা খারাপ নয়।
একটি কোম্পানির P/E অন্য কোম্পানির সঙ্গে, একই sector-এর সঙ্গে এবং কোম্পানির earnings growth-এর সঙ্গে তুলনা করে দেখা বেশি কার্যকর।
এজন্য P/E-এর পাশাপাশি Revenue Growth, EPS Growth, Debt, Profit Margin এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও দেখা উচিত।
অধ্যায় ১১: Dividend কী?
কোম্পানি তার মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করলে তাকে Dividend বা লভ্যাংশ বলা হয়।
Dividend সাধারণত দুইভাবে দেখা যেতে পারে:
Cash Dividend
Stock Dividend
Cash Dividend
যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের নগদ অর্থ হিসেবে Dividend দেওয়া হলে সেটি Cash Dividend।
Stock Dividend
নগদের পরিবর্তে অতিরিক্ত শেয়ার দেওয়া হলে সেটিকে Stock Dividend বলা হয়।
তবে Dividend ঘোষণা দেখেই কোনো শেয়ার কিনে ফেলা উচিত নয়।
একজন বিনিয়োগকারীর উচিত Dividend-এর পাশাপাশি কোম্পানির:
Profit
Cash Flow
Dividend History
Payout Ratio
Business Growth
ইত্যাদিও দেখা।
অধ্যায় ১২: Record Date এবং Ex-Dividend Date
Dividend-এর সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ প্রায়ই দেখা যায়।
Record Date
কোনো নির্দিষ্ট corporate benefit পাওয়ার জন্য কোন শেয়ারহোল্ডাররা যোগ্য, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত নির্ধারিত তারিখ হলো Record Date।
Ex-Dividend Date
কোন তারিখ থেকে শেয়ার কিনলে নির্দিষ্ট Dividend পাওয়ার যোগ্যতা প্রযোজ্য নাও হতে পারে, সেই তারিখকে Ex-Dividend Date বলা হয়।
এই বিষয়গুলো না বুঝে শুধু "Dividend দিচ্ছে" দেখে শেয়ার কেনা নতুন বিনিয়োগকারীদের একটি সাধারণ ভুল।
অধ্যায় ১৩: Portfolio কী?
একজন বিনিয়োগকারীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগের সমষ্টিকে Portfolio বলা হয়।
ধরুন আপনার কাছে:
Bank sector-এর ২টি শেয়ার
Pharmaceutical sector-এর ২টি শেয়ার
Textile sector-এর ১টি শেয়ার
আছে।
সবগুলো মিলিয়ে আপনার একটি Portfolio তৈরি হয়েছে।
Diversification
একটি মাত্র কোম্পানিতে সব টাকা না রেখে বিভিন্ন কোম্পানি বা খাতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়াকে Diversification বলা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বা sector-এর খারাপ পারফরম্যান্সের প্রভাব কিছুটা কমানো।
তবে অতিরিক্ত diversification করলেই ঝুঁকি শূন্য হয়ে যায় না।
অধ্যায় ১৪: Risk Management — লাভের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ
শেয়ার বাজারে নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শুধু লাভের কথা চিন্তা করা।
কিন্তু একজন ভালো বিনিয়োগকারী আগে চিন্তা করেন:
"আমি ভুল হলে কত টাকা হারাতে পারি?"
এখানেই Risk Management গুরুত্বপূর্ণ।
Position Size
একটি নির্দিষ্ট শেয়ার বা ট্রেডে আপনি কত টাকা বা কত শেয়ার বিনিয়োগ করছেন, সেটিই Position Size।
একটি শেয়ারে পুরো মূলধন ব্যবহার করার পরিবর্তে নিজের ঝুঁকি অনুযায়ী Position Size নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
Stop Loss
সম্ভাব্য ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য নির্ধারিত মূল্য বা বিক্রির ব্যবস্থা হলো Stop Loss।
Risk-Reward Ratio
কোনো ট্রেডে সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, সেটি Risk-Reward Ratio দিয়ে বোঝানো হয়।
উদাহরণ:
আপনি যদি একটি ট্রেডে সম্ভাব্য ২ টাকা ক্ষতির বিপরীতে ৬ টাকা লাভের সুযোগ খুঁজে থাকেন, তাহলে সম্ভাব্য Risk-Reward Ratio প্রায় 1:3।
তবে বাস্তবে বাজারে কোনো ফলাফল নিশ্চিত নয়।
অধ্যায় ১৫: Candlestick কী?
চার্টে শেয়ারের Price Movement বোঝার জন্য Candlestick বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
একটি Candlestick সাধারণত চারটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখায়:
Open
High
Low
Close
এই চারটি তথ্য দেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়।
নতুন বিনিয়োগকারীরা পরে ধীরে ধীরে Hammer, Doji, Engulfing Pattern, Shooting Star ইত্যাদি Candlestick Pattern শিখতে পারেন।
তবে শুধু একটি Candlestick Pattern দেখেই Buy বা Sell সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
অধ্যায় ১৬: Technical Indicator শেখা কখন শুরু করবেন?
নতুনদের একটি সাধারণ ভুল হলো শুরুতেই অনেক Indicator শেখার চেষ্টা করা।
RSI, MACD, Moving Average, Bollinger Bands, Stochastic—সব একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই।
প্রথমে এগুলো বুঝুন:
Price
Volume
Trend
Support
Resistance
এরপর ধীরে ধীরে Indicator যোগ করুন।
Moving Average
নির্দিষ্ট সময়ের শেয়ারের গড় মূল্য ব্যবহার করে Trend বোঝার একটি পদ্ধতি হলো Moving Average।
RSI
RSI বা Relative Strength Index শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্য পরিবর্তনের গতি ও শক্তি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
MACD
MACD শেয়ারের Trend ও Momentum বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি Technical Indicator।
Indicator হলো বিশ্লেষণের সহায়ক উপকরণ—ভবিষ্যৎ দামের নিশ্চয়তা দেওয়ার যন্ত্র নয়।
অধ্যায় ১৭: DSE-তে একটি শেয়ার বিশ্লেষণের সহজ Checklist
একজন Beginner হিসেবে কোনো শেয়ার দেখার সময় নিচের checklist অনুসরণ করতে পারেন।
ধাপ ১ — কোম্পানিটি কী করে?
প্রথমে বুঝুন কোম্পানির মূল ব্যবসা কী।
ধাপ ২ — Revenue ও Profit দেখুন
কোম্পানির ব্যবসা বাড়ছে নাকি কমছে?
ধাপ ৩ — EPS দেখুন
EPS ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, কমছে নাকি অস্থির?
ধাপ ৪ — Debt দেখুন
কোম্পানির ঋণের পরিমাণ কত?
ধাপ ৫ — Cash Flow দেখুন
কোম্পানি বাস্তবে ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ তৈরি করতে পারছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
ধাপ ৬ — Dividend History দেখুন
কোম্পানি নিয়মিত Dividend দেয় কি না এবং সেই Dividend ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না দেখুন।
ধাপ ৭ — Valuation দেখুন
P/E, P/B Ratio ইত্যাদি একই sector-এর অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করুন।
ধাপ ৮ — Chart দেখুন
Trend, Support, Resistance ও Volume বিশ্লেষণ করুন।
ধাপ ৯ — Risk নির্ধারণ করুন
ভুল হলে আপনি কতটা ক্ষতি সহ্য করতে পারবেন?
ধাপ ১০ — তারপর সিদ্ধান্ত নিন
সবশেষে তথ্যগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
অধ্যায় ১৮: Beginner হিসেবে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
১. গুজব শুনে শেয়ার কেনা
"এই শেয়ার কাল বাড়বে"—এ ধরনের কথার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
২. অন্যের Portfolio কপি করা
অন্য একজন বিনিয়োগকারীর Risk Tolerance, Investment Horizon এবং Financial Situation আপনার মতো নাও হতে পারে।
৩. শুধু দাম কম দেখে শেয়ার কেনা
১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়েছে মানেই শেয়ারটি সস্তা—এমন নয়।
কোম্পানির Fundamental অবস্থা খারাপ হলে দাম আরও কমতে পারে।
৪. শুধু Dividend দেখে বিনিয়োগ করা
Dividend গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি কোম্পানি বিশ্লেষণের একমাত্র বিষয় নয়।
৫. সব টাকা একটি শেয়ারে দেওয়া
এতে একটি কোম্পানির খারাপ পারফরম্যান্স পুরো Portfolio-কে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. Stop Loss বা Risk Management না বোঝা
বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি আগে বোঝা জরুরি।
৭. প্রতিদিন Buy/Sell করা
প্রতিদিন ট্রেড করাই সফল বিনিয়োগের প্রমাণ নয়।
অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত হলো কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা।
অধ্যায় ১৯: Beginner থেকে Confident Investor হওয়ার Roadmap
শেয়ার বাজার শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধাপে ধাপে এগোনো।
Level 1 — Market Basics
প্রথমে শিখুন:
Share
DSE
DSEX
BO Account
Bid
Ask
LTP
Volume
Market Order
Limit Order
Level 2 — Company Basics
এরপর শিখুন:
Revenue
Profit
EPS
Debt
Cash Flow
Dividend
Book Value
Level 3 — Valuation
তারপর শিখুন:
P/E Ratio
P/B Ratio
P/S Ratio
Dividend Yield
ROE
ROA
Level 4 — Technical Analysis
এরপর:
Trend
Support
Resistance
Breakout
Breakdown
Volume
Moving Average
RSI
MACD
Candlestick
Level 5 — Risk Management
সবশেষে গুরুত্ব দিন:
Position Size
Stop Loss
Risk-Reward Ratio
Diversification
Portfolio Management
এইভাবে এগোলে একসঙ্গে শত শত বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন হবে না।
অধ্যায় ২০: DsePlex Glossary কীভাবে ব্যবহার করবেন?
শেয়ার বাজার শেখার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নতুন নতুন শব্দ।
একদিন আপনি "EPS" দেখবেন, পরের দিন "P/E", তারপর "Free Float", "Market Capitalization", "Bid-Ask Spread", "Circuit Breaker"—এভাবে অনেক শব্দ সামনে আসবে।
প্রতিটি শব্দ মুখস্থ করার দরকার নেই।
বরং যখন কোনো শব্দ বুঝতে সমস্যা হবে, তখন DsePlex-এর শেয়ার বাজার শব্দকোষ (Glossary A-Z) ব্যবহার করুন।
Glossary-তে A থেকে Z পর্যন্ত শেয়ার বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখানে যেমন পাওয়া যাবে:
BO Account
Bid Price
Ask Price
Market Capitalization
DSE
DSEX
EPS
P/E Ratio
Dividend
Portfolio
Support
Resistance
RSI
Volume
Stop Loss
Trend
এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ Term
শেষ কথা: শেয়ার বাজার শেখা একটি Journey
শেয়ার বাজারে সফল হওয়ার জন্য একদিনে সবকিছু শেখার প্রয়োজন নেই।
বরং প্রথমে Market Basics বুঝুন। এরপর কোম্পানি কীভাবে কাজ করে তা শিখুন। তারপর Financial Statement, Valuation, Technical Analysis এবং Risk Management-এর দিকে এগিয়ে যান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে শিখুন, পরে টাকা বিনিয়োগ করুন।
কারণ শেয়ার বাজারে লাভ করার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনাও আছে।
একজন Beginner-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমে "কত টাকা লাভ করব" নয়, বরং:
"আমি কীভাবে বাজারটাকে ভালোভাবে বুঝতে পারি?"
যত বেশি আপনি Price, Volume, Company Fundamentals, Valuation এবং Risk Management বুঝবেন, তত বেশি সচেতনভাবে নিজের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
শেয়ার বাজার কোনো দ্রুত ধনী হওয়ার মেশিন নয়। এটি শেখা, বিশ্লেষণ, ধৈর্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
আজ যদি একদম শুরু করেন, তাহলে প্রথম কাজ হোক—Market Basics শেখা এবং যে শব্দগুলো বুঝছেন না সেগুলো DsePlex Glossary থেকে খুঁজে শেখা।
221
12
পড়ুন →
market basics
06 Sep, 2026
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর নির্দেশিকা: Moving Average, RSI ও MACD ব্যবহারের নিয়ম
চার্ট বিশ্লেষণে কখন এবং কীভাবে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ব্যবহার করবেন? মুভিং এভারেজ, আরএসআই এবং ম্যাকডি দিয়ে শেয়ারের ট্রেন্ড ও গতি যাচাইয়ের সম্পূর্ণ গাইডলাইন।
শেয়ার বাজারে নতুনদের একটি সাধারণ প্রবণতা হলো—চার্ট ওপেন করেই চার-পাঁচটি জটিল ইন্ডিকেটর একসাথে যুক্ত করে ফেলা। চার্টজুড়ে নানা রঙের দাগ, অসিলেটর ও সিগন্যাল দেখে তারা মনে করেন কোনো গোপন সংকেত পাওয়া যাবে। বাস্তবে অতিরিক্ত ইন্ডিকেটর ব্যবহার সিদ্ধান্তকে সহজ করার বদলে উল্টো বিভ্রান্তি (Analysis Paralysis) তৈরি করে।
মনে রাখা জরুরি: ইন্ডিকেটর কখনোই মূল্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। ইন্ডিকেটর তৈরি হয় অতীতের প্রাইস এবং ভলিউমের গাণিতিক হিসাব থেকে। তাই প্রাইস অ্যাকশন, Support, Resistance এবং Volume বোঝার পরই কেবল সহায়ক হিসেবে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা উচিত।
১. Moving Average (মুভিং এভারেজ বা গড় মূল্য রেখা)
Moving Average হলো নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের শেয়ারের সমাপনী মূল্যের গড় বের করে চার্টে আঁকা একটি গতিশীল রেখা। এটি প্রতিদিনের এলোমেলো ওঠানামা (Market Noise) মসৃণ করে বাজারের মূল ট্রেন্ড স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করে।
Simple Moving Average (SMA): নির্ধারিত দিনের দামের সরল গড় হিসাব।
Exponential Moving Average (EMA): সাম্প্রতিক দিনগুলোর দামকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল গড় হিসাব।
বহুল ব্যবহৃত সময়সীমা ও ব্যবহার:
20 EMA: অতি স্বল্পমেয়াদি ট্রেন্ড ও গতি বোঝার জন্য।
50 SMA: মধ্যমেয়াদি ট্রেন্ড বোঝার ভিত্তি।
200 SMA: দীর্ঘমেয়াদি প্রধান ট্রেন্ডের মাপকাঠি।
ট্রেডিং কৌশল:
ডাইনামিক সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্স: আপট্রেন্ডে থাকা শেয়ার প্রায়ই ৫০ বা ২০ EMA-তে নেমে এসে পুনরায় বাউন্স করে। তখন এই লাইনগুলো চলন্ত সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে।
গোল্ডেন ক্রস (Golden Cross): যখন স্বল্পমেয়াদি ৫০ মুভিং এভারেজ দীর্ঘমেয়াদি ২০০ মুভিং এভারেজকে নিচ থেকে ভেদ করে ওপরের দিকে উঠে যায়, তখন তাকে শক্তিশালী বুলিশ সিগন্যাল ধরা হয়।
ডেথ ক্রস (Death Cross): ৫০ মুভিং এভারেজ যখন ২০০ মুভিং এভারেজকে ওপর থেকে কেটে নিচের দিকে নেমে যায়, তখন তা দীর্ঘমেয়াদি পতনের সতর্কবার্তা দেয়।
২. RSI (Relative Strength Index বা আপেক্ষিক শক্তি সূচক)
RSI হলো শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির শক্তি এবং দরপতনের গতির তুলনা করে ০ থেকে ১০০ স্কেলে তৈরি একটি মোমেন্টাম অসিলেটর (Momentum Oscillator)।
সাধারণত ১৪ দিনের (14-period RSI) হিসাব ডিফল্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আরএসআই-এর মূল স্তরসমূহ:
Overbought (৭০-এর ওপরে): শেয়ারের দর খুব অল্প সময়ে অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। যেকোনো সময় মুনাফা তোলার কারণে সাময়িক সংশোধন বা Pullback আসতে পারে।
Oversold (৩০-এর নিচে): শেয়ারটির ব্যাপক দরপতন ঘটেছে এবং বাজারে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে। এই স্তরে এসে শেয়ারটিতে নতুন করে বিক্রির চাপ কমে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবহার: RSI Divergence (ডাইভারজেন্স)
Bullish Divergence: চার্টে শেয়ারের দাম নতুন নিচু স্তর (Lower Low) বানাচ্ছে, কিন্তু আরএসআই নির্দেশকে মান আগের চেয়ে উঁচুতে (Higher Low) উঠছে। এর অর্থ বিক্রেতাদের শক্তি ফুরিয়ে আসছে এবং দ্রুতই ঊর্ধ্বমুখী রিভার্সাল হতে পারে।
Bearish Divergence: শেয়ারের দাম নতুন উচ্চতায় (Higher High) উঠছে, কিন্তু আরএসআই নির্দেশক আগের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছে না (Lower High)। এটি নির্দেশ করে মূল্যবৃদ্ধি পেলেও তার ভেতরের মোমেন্টাম দুর্বল হয়ে গেছে।
৩. MACD (Moving Average Convergence Divergence)
MACD হলো দুটি ভিন্ন মুভিং এভারেজের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বহুমুখী ট্রেন্ড-ফলোয়িং মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর।
MACD চার্টে মূলত তিনটি অংশ দেখা যায়:
MACD Line: সাধারণত ১২ দিনের EMA এবং ২৬ দিনের EMA-এর মধ্যকার ব্যবধান।
Signal Line: MACD লাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ৯ দিনের EMA।
Histogram: MACD লাইন এবং সিগন্যাল লাইনের মধ্যকার দূরত্বের গ্রাফিক্যাল স্তম্ভ।
ট্রেডিং সিগন্যাল:
বুলিশ ক্রসওভার: যখন MACD লাইন সিগন্যাল লাইনকে নিচ থেকে ওপরের দিকে ক্রস করে, তখন তা নতুন ক্রয়চাপের ইঙ্গিত দেয়।
বেয়ারিশ ক্রসওভার: যখন MACD লাইন সিগন্যাল লাইনকে ওপর থেকে নিচের দিকে কেটে ফেলে, তখন তা সম্ভাব্য দরপতনের সংকেত বহন করে।
জিরো লাইন ক্রস: হিস্টোগ্রাম যখন ঋণাত্মক স্তর থেকে জিরো লাইনের ওপরে ধনাত্মক স্তরে চলে আসে, তখন শেয়ারটিতে মোমেন্টাম শক্তিশালীরূপ ধারণ করে।
টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ব্যবহারের বাস্তব চেকলিস্ট
ইন্ডিকেটর
মূল কাজ
অতিরিক্ত ব্যবহারে সাধারণ ভুল
Moving Average
সার্বিক Trend ও গতিশীল সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্স শনাক্ত করা
সাইডওয়েজ (Sideways) বাজারে মিথ্যা সিগন্যালে ঘন ঘন ট্রেড করা
RSI
মোমেন্টাম পরিমাপ ও ডাইভারজেন্স খোঁজা
শক্তিশালী আপট্রেন্ডে আরএসআই ৭০ পার হলেই আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে ফেলা
MACD
ট্রেন্ডের দিকবদল ও মোমেন্টাম ক্রসওভার যাচাই
ল্যাগিং (Lagging) সিগন্যাল হওয়ায় দাম পরিবর্তনের বেশ কিছুটা পরে সংকেত পাওয়া
কোনো ইন্ডিকেটরই শতভাগ নির্ভুল নয়। সফল বিনিয়োগকারীরা ইন্ডিকেটরকে কখনোই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন না; বরং ক্যান্ডেলস্টিক চার্টের প্রাইস অ্যাকশন ও ট্রেডিং ভলিউমের সাথে মিলিয়ে সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা (Confirmation) বাড়াতে এটি ব্যবহার করেন।
102
2
পড়ুন →
technical analysis
13 Sep, 2026
RSI কী? — Overbought ও Oversold একদম সহজভাবে
১. RSI কী?
RSI-এর পূর্ণরূপ:
Relative Strength Index
RSI হলো একটি জনপ্রিয় Momentum Indicator।
সহজ ভাষায়—
একটি শেয়ারের সাম্প্রতিক Price Movement কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল, সেটি বোঝার জন্য RSI ব্যবহার করা হয়।
RSI সাধারণত:
০ থেকে ১০০
এর মধ্যে একটি মান দেখায়।
উদাহরণ:
RSI = ৭২
অথবা:
RSI = ৪৮
অথবা:
RSI = ২৬
এই সংখ্যাগুলো Price-এর Momentum সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।
২. Momentum কী?
RSI বোঝার আগে Momentum-এর ধারণাটি সহজভাবে বুঝি।
Momentum বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে—
Price কোন দিকে এবং কতটা শক্তির সঙ্গে এগোচ্ছে তার গতি/শক্তির ধারণা।
ধরুন দুটি শেয়ারই ১০% বেড়েছে।
শেয়ার A
ধীরে ধীরে ২০ দিনে ১০% বেড়েছে।
শেয়ার B
মাত্র ৪ দিনে ১০% বেড়েছে।
দুটির Price Increase একই হলেও Price Movement-এর গতি এক নয়।
RSI এই ধরনের Momentum বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
৩. RSI-এর Scale
RSI সাধারণত:
০ → ১০০
এর মধ্যে থাকে।
সহজভাবে:
0 30 50 70 100
|---------|-----------|-----------|----------|
Oversold Neutral Overbought
এখানে সবচেয়ে পরিচিত দুটি Level:
৩০
Oversold Zone হিসেবে পরিচিত।
৭০
Overbought Zone হিসেবে পরিচিত।
আর:
৫০
Momentum-এর মাঝামাঝি Reference হিসেবে খুব কাজে লাগে।
৪. RSI ৭০-এর ওপরে গেলে কী বোঝায়?
ধরুন:
RSI = ৭৫
অর্থাৎ RSI ৭০-এর ওপরে।
এটি সাধারণভাবে Overbought Zone হিসেবে বিবেচিত হয়।
Overbought বলতে বোঝায় Price-এর সাম্প্রতিক upward momentum তুলনামূলকভাবে অনেক শক্তিশালী হয়েছে এবং Price কিছুটা অতিরিক্ত দ্রুত বেড়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করার একটি পরিস্থিতি।
কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ:
RSI ৭০-এর ওপরে = সঙ্গে সঙ্গে Sell নয়।
৫. RSI ৩০-এর নিচে গেলে কী বোঝায়?
ধরুন:
RSI = ২৫
এটি সাধারণভাবে Oversold Zone হিসেবে পরিচিত।
Oversold বলতে বোঝায় Price-এর সাম্প্রতিক downward momentum তুলনামূলকভাবে অনেক শক্তিশালী হয়েছে এবং Price অতিরিক্ত দ্রুত কমেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করার একটি পরিস্থিতি।
কিন্তু:
RSI ৩০-এর নিচে = সঙ্গে সঙ্গে Buy নয়।
এটি নতুনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
৬. Overbought মানে কী?
Overbought শব্দটি দেখে নতুনরা অনেক সময় ভাবেন:
“শেয়ার অনেক বেড়েছে, এখন অবশ্যই কমবে।”
এটি সঠিক নয়।
Overbought মূলত বলে:
সাম্প্রতিক Price Movement-এর upward momentum শক্তিশালী হয়েছে।
Strong Uptrend-এ RSI দীর্ঘ সময়:
৭০-এর ওপরে
থাকতে পারে।
এবং সেই সময় Price আরও বাড়তেও পারে।
৭. Oversold মানে কী?
Oversold দেখেও অনেকে ভাবেন:
“দাম অনেক কমেছে, এখন অবশ্যই বাড়বে।”
এটিও ভুল।
Oversold বলতে বোঝায়:
সাম্প্রতিক downward momentum অনেক শক্তিশালী হয়েছে।
Strong Downtrend-এ RSI দীর্ঘ সময়:
৩০-এর নিচে
থাকতে পারে।
এবং Price আরও কমতেও পারে।
৮. RSI ৫০ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
RSI-এর মাঝামাঝি Level হলো:
৫০
এটি Momentum-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ Reference Level।
সাধারণভাবে:
RSI > ৫০
Bullish Momentum তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
RSI < ৫০
Bearish Momentum তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী কি না, তা দেখা যায়।
তবে এটিও নিশ্চিত Signal নয়।
৯. RSI ৫০-এর ওপরে
ধরুন RSI:
৪২ → ৪৮ → ৫৩ → ৫৮
অর্থাৎ RSI ৫০-এর ওপরে উঠেছে।
এতে সাম্প্রতিক Price Momentum শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বিশেষ করে যদি Price-ও:
Higher High + Higher Low
তৈরি করে, তাহলে Momentum ও Price Structure-এর মধ্যে সামঞ্জস্য দেখা যেতে পারে।
১০. RSI ৫০-এর নিচে
ধরুন:
৬০ → ৫৫ → ৪৮ → ৪২
এখানে RSI ৫০-এর নিচে নেমে গেছে।
এটি Bearish Momentum বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে Price-ও যদি দুর্বল হয় এবং Support ভাঙে, তাহলে Context আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়।
১১. RSI কীভাবে হিসাব করা হয়?
RSI-এর Formula একটু Mathematical।
সাধারণভাবে RSI:
RSI = 100 − [100 ÷ (1 + RS)]
এখানে:
RS = Average Gain ÷ Average Loss
সাধারণ RSI-তে প্রায়ই ১৪ Period ব্যবহার করা হয়।
তবে নতুনদের জন্য Formula মুখস্থ করার চেয়ে RSI কীভাবে Interpret করতে হয়, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১২. RSI ১৪ কী?
আপনি Chart-এ দেখবেন:
RSI 14
এর অর্থ RSI হিসাব করার জন্য সাধারণভাবে ১৪টি Price Period ব্যবহার করা হচ্ছে।
Daily Chart হলে:
১৪ Trading Day
Weekly Chart হলে:
১৪ Week
অর্থাৎ RSI-এর Period Chart-এর Timeframe-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৩. RSI Chart দেখতে কেমন?
Price Chart-এর নিচে RSI-এর আলাদা একটি panel থাকে।
সহজভাবে:
PRICE
│ ●
│ ●
│ ●
│
└──────────────
RSI
100 ─────────────
70 ───────────── ← Overbought
50 ───────────── ← Midline
30 ───────────── ← Oversold
0 ─────────────
RSI Line ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে ওঠানামা করে।
১৪. RSI ৭০ ছুঁলেই কি দাম কমবে?
না।
ধরুন একটি শেয়ার শক্তিশালী Uptrend-এ আছে।
Price:
১০০ → ১১০ → ১২৫ → ১৪০
RSI:
৬০ → ৭০ → ৭৮ → ৮২
এখানে RSI ৭০-এর ওপরে।
কিন্তু Price-ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
অর্থাৎ:
Strong Trend-এর সময় Overbought অবস্থাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তাই RSI ৭০-কে সরাসরি Sell Button হিসেবে ব্যবহার করা ভুল।
১৫. RSI ৩০-এর নিচে গেলেই কি দাম বাড়বে?
একইভাবে:
ধরুন Downtrend:
১৫০ → ১৩৫ → ১২০ → ১০৫
RSI:
৪৫ → ৩৫ → ২৮ → ২২
RSI Oversold।
কিন্তু Price এখনও কমছে।
তাই:
Oversold ≠ নিশ্চিত Reversal
Price কখন ঘুরবে তা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
১৬. RSI + Trend
RSI সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় যখন এটিকে Trend-এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
Uptrend
RSI অনেক সময়:
৪০–৮০
এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
Downtrend
RSI অনেক সময়:
২০–৬০
এর মধ্যে থাকতে পারে।
অর্থাৎ সব Market Condition-এ ৩০ ও ৭০ একইভাবে কাজ করবে না।
১৭. Strong Uptrend-এ RSI
ধরুন একটি শেয়ার শক্তিশালী Uptrend-এ।
Price:
১০০ → ১১০ → ১২০ → ১৩০
RSI:
৬০ → ৬৮ → ৭৫ → ৭৮
এখানে RSI ৭০-এর ওপরে।
কিন্তু Trend এখনও শক্তিশালী।
তাই RSI ৭০ দেখে শুধু Sell করা ঠিক হবে না।
বরং দেখুন:
Price Structure
Support
Resistance
Volume
RSI-এর Direction
১৮. Strong Downtrend-এ RSI
একইভাবে Downtrend-এ:
Price:
১৫০ → ১৪০ → ১৩০ → ১২০
RSI:
৪০ → ৩২ → ২৭ → ২৪
RSI ৩০-এর নিচে।
কিন্তু Downtrend এখনও শক্তিশালী হতে পারে।
তাই RSI ৩০-এর নিচে দেখে Buy করা ঠিক নয়।
১৯. RSI + Support
ধরুন একটি গুরুত্বপূর্ণ Support:
১০০ টাকা
Price Support-এর কাছে এলো।
RSI:
৩৫ → ৩০ → ২৮
এখন RSI Oversold Zone-এ।
একই সময়ে Price Support-এর কাছে।
এখানে Analyst দেখতে পারেন:
Support কি ধরে রাখছে?
এবং:
RSI কি আবার উপরে উঠছে?
যদি Price Support ধরে এবং RSI পুনরায় শক্তিশালী হতে শুরু করে, তাহলে Reversal-এর সম্ভাবনা নিয়ে আরও Analysis করা যায়।
কিন্তু কোনো একটি Signal-কে নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না।
২০. RSI + Resistance
ধরুন Resistance:
২০০ টাকা
Price Resistance-এর কাছে উঠছে।
RSI:
৬৫ → ৭২ → ৭৬
এখন RSI Overbought Zone-এ।
কিন্তু Price Resistance-এর কাছেও।
এখানে Analyst দেখতে পারেন:
Resistance Break করছে কি?
Volume বাড়ছে কি?
Price উপরে থাকতে পারছে কি?
RSI শক্তিশালী থাকছে নাকি নিচে ফিরছে?
এভাবে RSI আরও অর্থবহ হয়।
২১. RSI + Volume
আগের অধ্যায়ে আমরা Volume শিখেছি।
এখন দুটো একসঙ্গে দেখি।
ধরুন:
Price Resistance Break করল।
RSI:
৫৫ → ৬৫ → ৭২
Volume-ও বেড়েছে।
এখানে:
Breakout + RSI Strength + Volume
একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
এটি Breakout-এর Context বিশ্লেষণে সাহায্য করতে পারে।
আবার RSI ৭০-এর ওপরে গেলেও যদি Price Resistance ভাঙতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা।
২২. RSI + Moving Average
এবার আগের অধ্যায়ের Moving Average-এর সঙ্গে RSI মিলিয়ে দেখি।
ধরুন:
Price > SMA ৫০
SMA ৫০ ↗
এবং:
RSI = ৬২
এখানে Price Trend এবং Momentum—দুটিই তুলনামূলক শক্তিশালী কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
আবার:
Price < SMA ৫০
SMA ৫০ ↘
এবং:
RSI = ৩৮
এখানে Trend ও Momentum দুটোই দুর্বল কি না তা দেখা যেতে পারে।
২৩. RSI দিয়ে Momentum-এর Direction দেখা
RSI শুধু ৩০ বা ৭০ দেখার Indicator নয়।
RSI কোন দিকে যাচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ:
RSI ৩৫ → ৪৫ → ৫৫ → ৬৫
Momentum শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
আবার:
RSI ৬৫ → ৫৫ → ৪৫ → ৩৫
Momentum দুর্বল হচ্ছে কি না দেখা যায়।
অর্থাৎ:
RSI-এর Level + Direction—দুটিই দেখুন।
২৪. RSI-এর ছোট ছোট High ও Low
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো RSI-এর নিজস্ব High এবং Low।
ধরুন Price:
১০০ → ১১০ → ১২০
এবং RSI:
৫০ → ৬০ → ৭০
এখানে Price এবং RSI দুটোই উপরের দিকে যাচ্ছে।
আবার যদি Price নতুন High করে কিন্তু RSI আগের High-এর তুলনায় দুর্বল থাকে, তখন আমরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার দিকে এগিয়ে যাব।
সেটি হলো:
Divergence
এটি আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত শিখব।
২৫. RSI Divergence-এর ছোট পরিচয়
ধরুন:
Price:
১০০ → ১১০ → ১২০
অর্থাৎ নতুন High তৈরি করছে।
কিন্তু RSI:
৭০ → ৬৫ → ৬০
অর্থাৎ RSI নতুন High-এর সঙ্গে শক্তিশালী হচ্ছে না।
এখানে Price ও RSI-এর মধ্যে Divergence তৈরি হচ্ছে কি না, তা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
তবে এখনই এটিকে Signal হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
পরবর্তী পর্যায়ে এটি বিস্তারিত শেখা হবে।
২৬. RSI-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি Level
নতুনদের জন্য প্রথমে এই তিনটি Level মনে রাখুন:
🔴 ৭০
Overbought-এর পরিচিত Reference।
🟡 ৫০
Momentum-এর Midline।
🟢 ৩০
Oversold-এর পরিচিত Reference।
100 ─────────────────
70 ───── Overbought
50 ───── Midline
30 ───── Oversold
0 ─────────────────
২৭. RSI পড়ার সহজ পদ্ধতি
কোনো Stock Chart-এ RSI দেখলে প্রথমে:
ধাপ ১
RSI কত?
ধাপ ২
RSI ৫০-এর ওপরে নাকি নিচে?
ধাপ ৩
RSI উপরে যাচ্ছে নাকি নিচে?
ধাপ ৪
RSI ৭০-এর কাছাকাছি বা ওপরে কি?
ধাপ ৫
RSI ৩০-এর কাছাকাছি বা নিচে কি?
ধাপ ৬
Price কী করছে?
ধাপ ৭
Support/Resistance কোথায়?
ধাপ ৮
Volume কী করছে?
এই পদ্ধতিতে RSI অনেক বেশি কার্যকরভাবে পড়তে পারবেন।
২৮. RSI দিয়ে একটি DSE উদাহরণ
ধরুন DSE-এর একটি শেয়ারের:
Price = ১৫০ টাকা
SMA ৫০ = ১৪০ টাকা
RSI = ৬৪
এখন দেখা গেল:
Price SMA ৫০-এর ওপরে
SMA ৫০ ঊর্ধ্বমুখী
RSI ৫০-এর ওপরে
Volume স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি
এগুলো একসঙ্গে একটি তুলনামূলক শক্তিশালী Price + Momentum Structure-এর দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।
কিন্তু এখানেও বলা যাবে না:
“দাম অবশ্যই বাড়বে।”
২৯. আরেকটি DSE উদাহরণ
ধরুন:
Price = ১০০ টাকা
SMA ৫০ = ১১০ টাকা
RSI = ৩২
Price SMA ৫০-এর নিচে।
RSI ৫০-এর নিচে।
অর্থাৎ Trend ও Momentum দুটোই দুর্বল কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
যদি RSI ৩০-এর নিচে যায়, তখন Oversold Zone-এর বিষয়টিও দেখা যাবে।
কিন্তু Oversold মানেই Buy নয়।
৩০. RSI কি Leading Indicator?
RSI সাধারণত Price-এর সাম্প্রতিক তথ্য ব্যবহার করে Momentum সম্পর্কে ধারণা দেয়।
তাই এটিকে একেবারে ভবিষ্যৎ দেখার Indicator হিসেবে ভাবা ঠিক নয়।
RSI Price-এর পরিবর্তন থেকে হিসাব হয়।
অর্থাৎ:
RSI Price-এর আচরণকে বিশ্লেষণ করে; Price-এর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে না।
❌ ৩১. নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল
ভুল ১
RSI ৭০ = Sell
ভুল।
ভুল ২
RSI ৩০ = Buy
ভুল।
ভুল ৩
RSI-এর Direction না দেখা।
ভুল ৪
Trend উপেক্ষা করা।
ভুল ৫
Support/Resistance না দেখা।
ভুল ৬
Volume উপেক্ষা করা।
ভুল ৭
শুধু RSI দিয়ে Trading Decision নেওয়া।
ভুল ৮
Strong Trend-এ Overbought/Oversold-কে Reversal-এর নিশ্চয়তা মনে করা।
🧠 ৩২. এক মিনিটে RSI
মনে রাখুন:
RSI = Momentum বোঝার Indicator
RSI Scale = ০–১০০
RSI ৭০+ = Overbought Zone-এর পরিচিত Reference
RSI ৩০− = Oversold Zone-এর পরিচিত Reference
RSI ৫০ = গুরুত্বপূর্ণ Midline
RSI ৭০-এর ওপরে মানেই Sell নয়।
RSI ৩০-এর নিচে মানেই Buy নয়।
Trend + RSI + Price Action + Volume = ভালো Context।
📊 ৩৩. Quick Reference Table
RSI অবস্থান
সাধারণ পর্যবেক্ষণ
৭০-এর ওপরে
Overbought Zone
৬০–৭০
শক্তিশালী Bullish Momentum হতে পারে
৫০-এর ওপরে
Bullish Momentum তুলনামূলক শক্তিশালী হতে পারে
প্রায় ৫০
Momentum-এর মাঝামাঝি
৩০–৫০
Bearish Momentum তুলনামূলক শক্তিশালী হতে পারে
৩০-এর নিচে
Oversold Zone
RSI ↑
Momentum শক্তিশালী হচ্ছে কি না
RSI ↓
Momentum দুর্বল হচ্ছে কি না
নোট: এগুলো সাধারণ Technical Analysis reference; কঠোর Buy/Sell নিয়ম নয়।
✍️ ৩৪. Practical Exercise
DSEPLEX-এর কোনো একটি Stock Chart খুলুন এবং RSI যোগ করুন।
RSI-এর জন্য শুরুতে:
Period = ১৪
রাখতে পারেন।
এবার গত ৩০–৫০টি Candle দেখুন।
Exercise ১
RSI কতবার ৭০-এর ওপরে গেছে?
Exercise ২
৭০-এর ওপরে যাওয়ার পর Price সঙ্গে সঙ্গে কমেছিল, নাকি আরও বেড়েছিল?
Exercise ৩
RSI কতবার ৩০-এর নিচে গেছে?
Exercise ৪
৩০-এর নিচে যাওয়ার পর Price সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছিল, নাকি আরও কমেছিল?
Exercise ৫
RSI ৫০-এর ওপরে উঠলে Price কী করেছিল?
Exercise ৬
RSI ৫০-এর নিচে নামলে Price কী করেছিল?
Exercise ৭
RSI-এর High ও Low এবং Price-এর High ও Low তুলনা করুন।
শেষ Exercise-টিই আপনাকে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে নিয়ে যাবে।
📚 এই অধ্যায়ের Glossary
Momentum
Overbought
Oversold
Moving Average
SMA
EMA
Price Action
Trend
Support
Resistance
Volume
Volume Confirmation
Breakout
78
1
পড়ুন →
technical analysis
13 Sep, 2026
RSI Divergence কী? — Price ও RSI যখন ভিন্ন কথা বলে
১. RSI Divergence কী?
আগের অধ্যায়ে আমরা জেনেছি, RSI (Relative Strength Index) হলো একটি Momentum Indicator। এটি সাধারণত ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে ওঠানামা করে এবং Price-এর Momentum সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।
এখন ধরুন—
একটি শেয়ারের Price নতুন Low তৈরি করছে, কিন্তু একই সময়ে RSI আগের Low-এর তুলনায় উঁচু Low তৈরি করছে।
অর্থাৎ Price একদিকে যাচ্ছে, কিন্তু RSI অন্য ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই Price ও RSI-এর মধ্যে এমন অমিলকে বলা হয় RSI Divergence।
সহজভাবে:
Price যা দেখাচ্ছে এবং RSI যা দেখাচ্ছে—দুটোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি হলে সেটিই Divergence।
এটি অনেক সময় বর্তমান Trend-এর Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা দেখাতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
Divergence মানেই Trend সঙ্গে সঙ্গে Reverse হবে—এমন নয়।
২. Divergence কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Price-এর Trend দেখে আমরা বুঝতে পারি বাজার কোন দিকে এগোচ্ছে।
কিন্তু Trend-এর Momentum একই গতিতে শক্তিশালী আছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়।
ধরুন একটি শেয়ার ধারাবাহিকভাবে নিচে যাচ্ছে।
Price:
100
↓
95
↓
90
↓
85
দেখে মনে হচ্ছে Downtrend চলছে।
কিন্তু যদি প্রতিটি নতুন Low-এর সময় RSI ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে, তাহলে বোঝা যেতে পারে—
Price নিচে গেলেও Selling Momentum আগের মতো শক্তিশালী নেই।
এখানেই Divergence-এর গুরুত্ব।
৩. RSI Divergence-এর প্রধান দুই ধরন
Beginner হিসেবে প্রথমে এই দুই ধরনের Divergence ভালোভাবে বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. Bullish Divergence
Price নতুন Lower Low তৈরি করে, কিন্তু RSI তৈরি করে Higher Low।
এটি Bearish Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।
২. Bearish Divergence
Price নতুন Higher High তৈরি করে, কিন্তু RSI তৈরি করে Lower High।
এটি Bullish Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।
৪. Bullish Divergence কী?
Bullish Divergence সাধারণত তখন দেখা যায় যখন—
Price একটি নতুন Low তৈরি করে
কিন্তু RSI আগের Low-এর তুলনায় Higher Low তৈরি করে
অর্থাৎ:
Price → Lower LowRSI → Higher Low
এটি সম্ভাব্যভাবে Selling Momentum দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন একটি শেয়ারের Price:
প্রথম Low দ্বিতীয় Low
80
↓
70
↓
65
Price:
70 → 65
অর্থাৎ নতুন Low তৈরি করেছে।
এখন RSI যদি এমন হয়:
প্রথম RSI Low দ্বিতীয় RSI Low
28
↓
↓
35
RSI:
28 → 35
অর্থাৎ RSI Higher Low তৈরি করেছে।
তাহলে এটি একটি সম্ভাব্য Bullish Divergence।
মূল বিষয়:
বিষয়
প্রথম Swing
দ্বিতীয় Swing
Price
70
65
RSI
28
35
পরিবর্তন
—
Price Lower Low, RSI Higher Low
এখানে Price দুর্বল দেখালেও RSI-এর Momentum তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
৫. Bullish Divergence-এর সহজ Formula
মনে রাখুন:
Price Lower Low + RSI Higher Low = Bullish Divergence
অর্থাৎ—
PRICE
Low 1 ────────╲
╲
╲──── Low 2
(আরও নিচে)
RSI
Low 1 ─────╲
╲
╲──── Low 2
(উপরে)
Price নিচে যাচ্ছে।
RSI কিন্তু নিচে না গিয়ে তুলনামূলকভাবে উপরে উঠছে।
৬. Bearish Divergence কী?
এবার বিপরীত বিষয়টি দেখি।
Bearish Divergence সাধারণত তখন দেখা যায় যখন—
Price একটি নতুন Higher High তৈরি করে
কিন্তু RSI একটি Lower High তৈরি করে
অর্থাৎ:
Price → Higher HighRSI → Lower High
এটি Bullish Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন Price:
প্রথম High দ্বিতীয় High
100
↑
│
↑
110
Price:
100 → 110
অর্থাৎ নতুন Higher High তৈরি করেছে।
কিন্তু RSI যদি হয়:
প্রথম RSI High দ্বিতীয় RSI High
75
↑
↑
68
RSI:
75 → 68
অর্থাৎ RSI Lower High তৈরি করেছে।
এটি একটি সম্ভাব্য Bearish Divergence।
৭. Bearish Divergence-এর সহজ Formula
মনে রাখুন:
Price Higher High + RSI Lower High = Bearish Divergence
অর্থাৎ—
PRICE
High 1 ─────╱
╱
╱──── High 2
(আরও উপরে)
RSI
High 1 ─────╲
╲
╲──── High 2
(নিচে)
Price নতুন High করছে।
কিন্তু RSI-এর Momentum আগের High-এর মতো শক্তিশালী নয়।
৮. Bullish বনাম Bearish Divergence
বিষয়
Bullish Divergence
Bearish Divergence
Price
Lower Low
Higher High
RSI
Higher Low
Lower High
কোন Momentum দুর্বল হতে পারে?
Selling Momentum
Buying Momentum
সম্ভাব্য অর্থ
Downside Momentum দুর্বল হতে পারে
Upside Momentum দুর্বল হতে পারে
নিশ্চিত Reversal?
❌ না
❌ না
এখানে “সম্ভাব্য” শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Divergence দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
৯. শুধু RSI-এর দুটি Point দেখলেই Divergence হয় না
এটি Beginner-দের একটি খুব সাধারণ ভুল।
চার্টে RSI-এর যেকোনো দুটি Point নিয়ে Price-এর দুটি Point-এর সঙ্গে তুলনা করলেই Divergence তৈরি হয় না।
সাধারণত আপনার খুঁজতে হবে দুটি পরিষ্কার Swing High অথবা Swing Low।
Bullish Divergence-এর জন্য:
দুটি স্পষ্ট Price Low খুঁজুন।
তারপর সেই একই জায়গাগুলোর RSI Low তুলনা করুন।
Bearish Divergence-এর জন্য:
দুটি স্পষ্ট Price High খুঁজুন।
তারপর সেই একই জায়গাগুলোর RSI High তুলনা করুন।
১০. Swing Point কী?
Swing High হলো চার্টের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ High, যার আশেপাশের Price কিছুটা নিচে থাকে।
Swing Low হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ Low, যার আশেপাশের Price কিছুটা উপরে থাকে।
সহজভাবে:
High
▲
/ \
/ \
/ \
/ \
▼
Low
Divergence খোঁজার সময় ছোটখাটো প্রতিটি ওঠানামা না দেখে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার Swing ব্যবহার করা ভালো।
১১. Divergence কোথায় বেশি অর্থবহ হতে পারে?
Divergence একা দেখার চেয়ে চার্টের গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বেশি কার্যকর।
বিশেষ করে—
Support-এর কাছে
Price গুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছে এসে Bullish Divergence তৈরি করলে Selling Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
Resistance-এর কাছে
Price গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর কাছে এসে Bearish Divergence তৈরি করলে Buying Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে।
তবে এখানেও Confirmation প্রয়োজন।
১২. Divergence + Price Action
Divergence দেখার পর Price Action কী করছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন Bullish Divergence দেখা গেল।
তারপর Price একটি শক্তিশালী Bullish Candlestick তৈরি করল এবং গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর দিকে এগোল।
এক্ষেত্রে Divergence-এর সঙ্গে Price Action-ও বিশ্লেষণ করা যায়।
আবার Bearish Divergence-এর পর Price যদি দুর্বল Candlestick তৈরি করে এবং Support ভেঙে নিচে যায়, তাহলে সেটিও আলাদা Confirmation হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অর্থাৎ:
Divergence → ObservationPrice Action → Confirmation-এর একটি অংশ
১৩. Divergence + Volume
Volume-ও গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন Price নতুন Low তৈরি করছে এবং Bullish Divergence দেখা যাচ্ছে।
যদি পরবর্তী সময়ে Price-এর শক্তিশালী upward move-এর সঙ্গে Volume বৃদ্ধি পায়, তাহলে Price Movement-এর প্রতি Market Participation সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এখানে Volume Confirmation ধারণাটি কাজে আসে।
তবে মনে রাখবেন:
Volume বাড়লেই Price অবশ্যই বাড়বে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
১৪. Divergence + Moving Average
Divergence-এর সঙ্গে Moving Average-ও দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
RSI Bullish Divergence
Price গুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছে
Price একটি গুরুত্বপূর্ণ Moving Average-এর আশেপাশে
এরপর Price Action উন্নত হচ্ছে
তাহলে সব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা যায়।
একটি Indicator-এর উপর সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর না করাই ভালো।
১৫. Bearish Divergence হলেও Price আরও উপরে যেতে পারে
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন:
Price Higher High করছে
RSI Lower High করছে
Bearish Divergence তৈরি হয়েছে
এর মানে এই নয় যে Price এখনই পড়ে যাবে।
শক্তিশালী Uptrend-এ Divergence অনেক সময় তৈরি হতে পারে, কিন্তু Price আরও কিছু সময় উপরে যেতে পারে।
তাই:
Divergence = সতর্ক হওয়ার সংকেত হতে পারে, কিন্তু সরাসরি Sell Signal নয়।
১৬. Bullish Divergence হলেও Price আরও নিচে যেতে পারে
একইভাবে Bullish Divergence দেখেও Price সঙ্গে সঙ্গে উপরে উঠবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
একটি শক্তিশালী Downtrend-এ একাধিকবার Bullish Divergence তৈরি হতে পারে এবং Price তারপরও নতুন Low তৈরি করতে পারে।
তাই:
Bullish Divergence = সম্ভাব্য Momentum Weakening-এর ইঙ্গিত, Guaranteed Buy Signal নয়।
১৭. একটি বাস্তবসম্মত Analysis Framework
চার্টে Divergence খুঁজলে এই ৬টি ধাপে কাজ করতে পারেন।
ধাপ ১ — Trend দেখুন
Price বর্তমানে Uptrend, Downtrend নাকি Sideways?
Trend
ধাপ ২ — গুরুত্বপূর্ণ Swing খুঁজুন
দুটি পরিষ্কার High বা Low চিহ্নিত করুন।
ধাপ ৩ — RSI তুলনা করুন
একই দুটি Swing-এর RSI High/Low তুলনা করুন।
ধাপ ৪ — Divergence আছে কি না দেখুন
Bullish:
Price = Lower Low
RSI = Higher Low
Bearish:
Price = Higher High
RSI = Lower High
ধাপ ৫ — গুরুত্বপূর্ণ Level দেখুন
Support বা Resistance-এর কাছে Divergence তৈরি হয়েছে কি না দেখুন।
ধাপ ৬ — Confirmation দেখুন
Price Action, Volume, Moving Average, Candlestick ইত্যাদি বিবেচনা করুন।
১৮. একটি সম্পূর্ণ Bullish Divergence উদাহরণ
ধরুন একটি কাল্পনিক শেয়ারের চার্টে:
Price
120 ────────────────
110 ───────╮
│
100 ╰────╮
│
90 ╰───────╮
╰── 85
RSI
70
60
50
40 ╲
30 ╲── 25
20 ╲
╰──── 35
Price:
90 → 85
অর্থাৎ Lower Low।
কিন্তু RSI:
25 → 35
অর্থাৎ Higher Low।
এখানে Bullish Divergence-এর একটি সম্ভাব্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
কিন্তু এখানেই Analysis শেষ নয়।
এরপর দেখতে হবে:
Price কি Support ধরে রাখছে?
Bullish Price Action হচ্ছে কি?
Volume কী বলছে?
Price কি আগের গুরুত্বপূর্ণ Level অতিক্রম করছে?
Trend-এর কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে কি?
১৯. একটি সম্পূর্ণ Bearish Divergence উদাহরণ
ধরুন:
Price
100 ───────╮
╰─────╮
110 ╰──────╮
╰── 120
RSI
80 ╭──── 75
│
70 ╰──╮
╰──── 65
Price:
110 → 120
Higher High।
কিন্তু RSI:
75 → 65
Lower High।
এখানে Bearish Divergence-এর সম্ভাব্য উদাহরণ।
এরপর দেখতে হবে Price কীভাবে আচরণ করছে।
২০. DSEPLEX Chart-এ Divergence কীভাবে অনুশীলন করবেন?
আপনি DSEPLEX-এর যেকোনো Chart খুলে RSI Indicator ব্যবহার করতে পারেন।
উদাহরণ হিসেবে:
DSEPLEX Chart — FAMILYTEX
অথবা:
DSEPLEX Chart — ETL
চার্টে RSI যোগ করে কিছু সময়ের Price Movement পর্যবেক্ষণ করুন।
তারপর খুঁজুন—
Bullish Divergence
Price → Lower Low
RSI → Higher Low
Bearish Divergence
Price → Higher High
RSI → Lower High
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
শুধু একটি চার্টে Divergence খুঁজে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
প্রথমে Pattern চিনতে শেখাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২১. Divergence Analysis-এর সময় যে ভুলগুলো করবেন না
❌ ভুল ১: RSI 30-এর নিচে গেলেই Bullish Divergence ভাবা
RSI 30-এর নিচে যাওয়া নিজে Divergence নয়।
❌ ভুল ২: RSI 70-এর উপরে গেলেই Bearish Divergence ভাবা
RSI 70-এর উপরে থাকা নিজে Bearish Divergence নয়।
❌ ভুল ৩: যেকোনো দুটি Point তুলনা করা
দুটি পরিষ্কার Swing Point ব্যবহার করা ভালো।
❌ ভুল ৪: Divergence দেখেই Buy করা
Divergence কোনো Guaranteed Buy Signal নয়।
❌ ভুল ৫: Divergence দেখেই Sell করা
Bearish Divergence কোনো Guaranteed Sell Signal নয়।
❌ ভুল ৬: Trend উপেক্ষা করা
একটি শক্তিশালী Trend-এর বিপরীতে শুধু Divergence দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
❌ ভুল ৭: Confirmation বাদ দেওয়া
Support/Resistance, Price Action ও Volume-এর মতো অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
২২. Regular Divergence বনাম শুধু RSI Level
এই দুটি বিষয় আলাদা।
RSI Level
RSI 70-এর উপরে → Overbought Zone-এর ReferenceRSI 30-এর নিচে → Oversold Zone-এর Reference
Divergence
Price-এর Swing এবং RSI-এর Swing-এর মধ্যে সম্পর্ক দেখা।
উদাহরণ:
RSI = 25
এটি শুধু একটি RSI Level।
কিন্তু—
Price: 70 → 65
RSI: 25 → 35
এটি একটি সম্ভাব্য Bullish Divergence।
অর্থাৎ RSI-এর Level এবং Divergence এক জিনিস নয়।
২৩. Divergence-এর সবচেয়ে সহজ মনে রাখার কৌশল
শুধু দুটি Formula মনে রাখুন।
🟢 Bullish Divergence
Price নিচে → RSI উপরে
Price ↓
RSI ↑
অর্থাৎ:
Lower Low + Higher Low
🔴 Bearish Divergence
Price উপরে → RSI নিচে
Price ↑
RSI ↓
অর্থাৎ:
Higher High + Lower High
🧠 এক মিনিটে পুরো অধ্যায় Revision
বিষয়
মনে রাখুন
Divergence
Price ও RSI-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অমিল
Bullish Divergence
Price Lower Low + RSI Higher Low
Bearish Divergence
Price Higher High + RSI Lower High
Bullish অর্থ
Selling Momentum দুর্বল হতে পারে
Bearish অর্থ
Buying Momentum দুর্বল হতে পারে
Swing Point
পরিষ্কার High/Low তুলনা করুন
Support
Bullish Divergence বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
Resistance
Bearish Divergence বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
Volume
Confirmation-এর জন্য দেখা যেতে পারে
Price Action
পরবর্তী আচরণ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
নিশ্চিত Reversal
❌ নয়
Guaranteed Buy/Sell
❌ নয়
✍️ Practical Exercise
এবার নিজে হাতে অনুশীলন করুন।
DSEPLEX Chart খুলে একটি Stock নির্বাচন করুন।
Exercise ১
কমপক্ষে ৩টি সম্ভাব্য Bullish Divergence খুঁজুন।
প্রতিটির জন্য লিখুন:
Price Low 1:
Price Low 2:
RSI Low 1:
RSI Low 2:
Bullish Divergence:
Yes / No
Exercise ২
কমপক্ষে ৩টি সম্ভাব্য Bearish Divergence খুঁজুন।
লিখুন:
Price High 1:
Price High 2:
RSI High 1:
RSI High 2:
Bearish Divergence:
Yes / No
Exercise ৩
প্রতিটি Divergence-এর পরে কী হয়েছে সেটি দেখুন।
Price কি Reverse করেছে?
নাকি আরও কিছু সময় একই Trend-এ থেকেছে?
Volume কী করেছে?
Support/Resistance কী ভূমিকা রেখেছে?
এই অনুশীলনটি করলে বইয়ের সংজ্ঞার চেয়ে Chart-এ Divergence অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
📚 সম্পর্কিত DSEPLEX Glossary
এই অধ্যায়ের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের Glossary পড়তে পারেন:
Momentum
Bullish Divergence
Bearish Divergence
Price Action
Trend
Support
Resistance
Volume
Volume Confirmation
Moving Average
Candlestick
Overbought
Oversold
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
RSI Divergence একটি Technical Analysis Tool। এটি Price-এর Momentum সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের Price Movement নিশ্চিতভাবে বলে না।
Divergence দেখা মানেই Buy বা Sell করার নিশ্চিত সংকেত নয়।
Trend, Price Action, Support/Resistance, Volume এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক।
86
1
পড়ুন →
technical analysis
13 Sep, 2026
RSI কীভাবে বাস্তবে ব্যবহার করবেন? — RSI ৩০, ৫০, ৭০ ও Divergence একসঙ্গে
১. RSI শুধু ৩০ আর ৭০ নয়
অনেক Beginner RSI সম্পর্কে প্রথমে একটি বিষয়ই শেখেন—
RSI 70-এর উপরে = OverboughtRSI 30-এর নিচে = Oversold
এটি RSI বোঝার শুরু, কিন্তু পুরো বিষয় নয়।
RSI দিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ Level দেখা হয়:
RSI 50
তাই RSI পড়ার সময় আমরা মূলত তিনটি Reference Level ব্যবহার করতে পারি:
RSI 70 ───────── Overbought Reference
RSI 50 ───────── Momentum-এর মাঝামাঝি Reference
RSI 30 ───────── Oversold Reference
এই তিনটি Level একসঙ্গে দেখলে RSI অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।
২. RSI ৫০ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
RSI ৫০-কে একটি Midline বা মধ্যবর্তী Reference হিসেবে দেখা হয়।
সহজভাবে:
RSI ৫০-এর উপরে থাকলে Momentum তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারে
RSI ৫০-এর নিচে থাকলে Momentum তুলনামূলকভাবে দুর্বল হতে পারে
তবে এটিকে কঠোর Buy/Sell Rule হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সহজ উদাহরণ
RSI
70 ─────────────────
↑
60 ────│────────────
│
50 ────┼────────────
│
40 ────│────────────
↓
30 ─────────────────
ধরুন RSI:
40 → 48 → 53 → 58
এখানে RSI ৫০-এর নিচ থেকে উপরে উঠছে।
এটি Momentum শক্তিশালী হওয়ার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
৩. RSI ৩০ কী বোঝায়?
RSI ৩০-এর নিচে গেলে সেটিকে সাধারণত Oversold Zone-এর Reference হিসেবে দেখা হয়।
এর অর্থ Price-এর সাম্প্রতিক Momentum তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে।
কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল এড়িয়ে চলুন:
RSI 30-এর নিচে মানেই এখনই Buy করতে হবে—এমন নয়।
একটি শক্তিশালী Downtrend-এ RSI অনেক সময় দীর্ঘ সময় ৩০-এর নিচে থাকতে পারে।
তাই RSI ৩০ দেখার পর প্রশ্ন হবে:
Price কী করছে?
৪. RSI ৭০ কী বোঝায়?
RSI ৭০-এর উপরে গেলে সেটিকে সাধারণত Overbought Zone-এর Reference হিসেবে দেখা হয়।
এটি Price-এর সাম্প্রতিক Momentum অনেক শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
কিন্তু:
RSI 70-এর উপরে মানেই এখনই Sell করতে হবে—এমন নয়।
একটি শক্তিশালী Uptrend-এ RSI দীর্ঘ সময় ৭০-এর উপরে থাকতে পারে।
৫. RSI ৩০, ৫০ ও ৭০ একসঙ্গে দেখুন
একটি সহজ Framework:
RSI অবস্থান
সাধারণভাবে কী বোঝাতে পারে
70-এর উপরে
শক্তিশালী Upside Momentum / Overbought Reference
50–70
তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী Momentum
30–50
তুলনামূলকভাবে দুর্বল Momentum
30-এর নিচে
Downside Momentum / Oversold Reference
এগুলো Reference Zone, নিশ্চিত Signal নয়।
৬. Uptrend-এ RSI কীভাবে আচরণ করতে পারে?
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
একটি শক্তিশালী Uptrend-এ RSI বারবার ৩০-এর কাছে নাও আসতে পারে।
বরং RSI অনেক সময়:
50
↑
60
↓
52
↑
65
↓
55
↑
70
অর্থাৎ RSI বারবার ৫০-এর উপরে Support নেওয়ার মতো আচরণ করতে পারে।
এটি দেখলে বোঝা যেতে পারে যে Uptrend-এর সময় Momentum তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।
তবে শুধু RSI দেখে Uptrend নিশ্চিত করা যাবে না।
Trend-এর Price Structure-ও দেখতে হবে।
৭. Downtrend-এ RSI কীভাবে আচরণ করতে পারে?
Downtrend-এর সময় উল্টো চিত্র দেখা যেতে পারে।
RSI অনেক সময় ৫০-এর কাছে উঠে আবার নিচে চলে যেতে পারে।
উদাহরণ:
RSI
60
↑
50 ────╮
╰────
40 ╲
╲
30 ───────────╲
অর্থাৎ RSI ৫০-এর কাছাকাছি উঠে আবার দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
এটি Downtrend-এর Momentum সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দিতে পারে।
আবারও বলছি—RSI ৫০ একা Trend নির্ধারণ করে না।
৮. RSI ৫০ Cross কীভাবে দেখবেন?
ধরুন RSI দীর্ঘ সময় ৫০-এর নিচে ছিল।
তারপর:
RSI
60 ────────────
55
50 ───────╱────
45 ─────╱
40 ────╯
RSI ৫০-এর উপরে উঠে গেল।
এটি Momentum উন্নত হওয়ার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।
কিন্তু তখনও দেখুন:
Price কি Higher High তৈরি করছে?
Price কি গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর কাছে?
Volume কেমন?
Price Action কেমন?
Moving Average-এর অবস্থান কী?
৯. RSI ৫০-এর নিচে নেমে গেলে কী করবেন?
একইভাবে RSI ৫০-এর উপরে থেকে নিচে নেমে গেলে Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
70
60
50 ─────╲──────
╲
40 ╲
╲
30
কিন্তু এটিকে সরাসরি Sell Signal হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
Price-এর অবস্থান এবং Trend Structure দেখতে হবে।
১০. RSI + Trend — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়
RSI ব্যবহার করার সময় প্রথম প্রশ্ন হতে পারে:
“RSI এখন কোথায়?”
কিন্তু তার পরের প্রশ্ন হওয়া উচিত:
“Price-এর Trend কী?”
উদাহরণ
ধরুন Stock একটি Uptrend-এ।
Price:
100 → 105 → 102 → 110 → 106 → 115
এখানে Higher High এবং Higher Low দেখা যাচ্ছে।
RSI:
58 → 65 → 55 → 68 → 57 → 72
এখানে RSI বেশিরভাগ সময় ৫০-এর উপরে।
Price Trend এবং RSI Momentum—দুটিই একই ধরনের শক্তি দেখাচ্ছে।
১১. RSI + Support
ধরুন একটি Stock গুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছে এসেছে।
সেখানে RSI ৩০-এর কাছাকাছি বা নিচে।
এখন কী করবেন?
সরাসরি Buy নয়।
বরং দেখবেন:
Support ধরে রাখছে কি?
RSI ঘুরে উপরে উঠছে কি?
Price Action উন্নত হচ্ছে কি?
Volume পরিবর্তন হচ্ছে কি?
কোনো Bullish Divergence আছে কি?
এই তথ্যগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা যায়।
১২. RSI + Resistance
ধরুন Price গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর কাছে পৌঁছেছে।
একই সময়ে RSI ৭০-এর কাছাকাছি বা উপরে।
এখনও সরাসরি Sell করা উচিত নয়।
দেখুন:
Resistance ভাঙছে কি?
Breakout-এর সঙ্গে Volume আছে কি?
RSI শক্তিশালী থাকছে কি?
Bearish Divergence তৈরি হয়েছে কি?
Price Action কী বলছে?
এভাবে Context তৈরি হয়।
১৩. RSI + Divergence
এখন আগের অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যুক্ত করি।
Bullish Divergence
Price → Lower Low
RSI → Higher Low
এর সঙ্গে যদি Price গুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছাকাছি থাকে, তাহলে সম্ভাব্য Momentum Weakening নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
Bearish Divergence
Price → Higher High
RSI → Lower High
এর সঙ্গে যদি Price গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর কাছে থাকে, তাহলে Bullish Momentum দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
১৪. RSI ৩০ + Bullish Divergence
এটি Beginner-দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ধরুন:
Price:
100
↓
90
↓
85
Price Lower Low করছে।
RSI:
32
↓
25
↓
30
এখানে দ্বিতীয় Price Low আরও নিচে গেলেও RSI দ্বিতীয় Low আগের তুলনায় উপরে।
এটি Bullish Divergence-এর একটি সম্ভাব্য উদাহরণ।
এখন যদি Price গুরুত্বপূর্ণ Support-এ থাকে এবং পরবর্তীতে Bullish Price Action দেখা যায়, তাহলে পুরো Setup-টি আরও মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
কিন্তু এখনও নিশ্চিত Reversal নয়।
১৫. RSI ৭০ + Bearish Divergence
এবার বিপরীত উদাহরণ।
Price:
100
↑
110
↑
120
Price Higher High করছে।
RSI:
72
↑
75
↓
68
দ্বিতীয় Price High বেশি হলেও RSI High কমে গেছে।
এটি Bearish Divergence-এর সম্ভাব্য উদাহরণ।
যদি একই সময়ে Price গুরুত্বপূর্ণ Resistance-এর কাছে থাকে, তাহলে Buying Momentum দুর্বল হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
১৬. RSI ৫০ + Divergence
সব Divergence ৩০ বা ৭০-এর কাছে তৈরি হবে—এমন নয়।
এটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন:
Price → Lower Low
RSI → Higher Low
RSI: 42 → 47
এখানেও Bullish Divergence হতে পারে।
অর্থাৎ Divergence চেনার মূল বিষয় হলো:
RSI 30 বা 70-এ আছে কি না নয়; Price ও RSI-এর Swing-এর সম্পর্ক কী।
১৭. RSI + Volume Confirmation
এখন আরও একটি Layer যোগ করি।
ধরুন:
Bullish Divergence তৈরি হয়েছে
Price Support-এর কাছে
RSI ঘুরে উপরে উঠছে
Price Bullish Candlestick তৈরি করছে
পরবর্তী Price Movement-এ Volume বৃদ্ধি পাচ্ছে
এগুলো একসঙ্গে Price Movement-এর সম্ভাব্য শক্তি সম্পর্কে বেশি তথ্য দিতে পারে।
এখানে Volume Confirmation ধারণাটি কাজে আসে।
তবে মনে রাখবেন:
একাধিক Indicator একই কথা বললেও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়ে যায় না।
১৮. RSI + Moving Average
আরেকটি উদাহরণ দেখি।
ধরুন:
Price Moving Average-এর উপরে
RSI ৫০-এর উপরে
Price Higher High/Higher Low তৈরি করছে
Volume স্বাভাবিকের তুলনায় ভালো
এগুলো একসঙ্গে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী Market Structure-এর ছবি দিতে পারে।
আবার—
Price Moving Average-এর নিচে
RSI ৫০-এর নিচে
Price Lower High/Lower Low করছে
তাহলে দুর্বল Market Structure-এর সঙ্গে RSI Momentum-ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
১৯. RSI দিয়ে Entry কীভাবে ভাববেন?
RSI ব্যবহার করে Entry ভাবার সময় শুধু একটি সংখ্যা দেখবেন না।
একটি সহজ Checklist হতে পারে:
Entry-এর আগে:
☐ Trend কী?☐ Price কোথায়?☐ Support/Resistance কোথায়?☐ RSI কোন Zone-এ?☐ RSI ৫০-এর উপরে না নিচে?☐ Divergence আছে কি?☐ Price Action কী বলছে?☐ Volume কী বলছে?☐ সম্ভাব্য Risk কতটা?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না জেনে শুধু “RSI 30” বা “RSI 50” দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া দুর্বল Analysis হতে পারে।
২০. RSI দিয়ে Exit কীভাবে ভাববেন?
একইভাবে Exit-এর ক্ষেত্রেও শুধু RSI ৭০ দেখবেন না।
ধরুন:
Price Resistance-এর কাছে
RSI ৭০-এর উপরে
Bearish Divergence তৈরি হয়েছে
Price দুর্বল Price Action দেখাচ্ছে
তখন সম্ভাব্য Risk সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যায়।
অন্যদিকে শক্তিশালী Uptrend-এ RSI ৭০-এর উপরে থেকেও Price আরও উপরে যেতে পারে।
তাই:
RSI 70 = “Sell করতেই হবে” নয়।
২১. RSI-এর একটি Complete Reading Model
একটি Chart দেখার সময় এই ক্রম অনুসরণ করতে পারেন:
১. Trend
↓
২. Support / Resistance
↓
৩. Price Action
↓
৪. RSI 30 / 50 / 70
↓
৫. RSI Divergence
↓
৬. Volume
↓
৭. Moving Average
↓
৮. Risk Management
এটি কোনো Guaranteed Trading Formula নয়।
এটি শুধু একটি Analysis Framework।
২২. একটি কাল্পনিক সম্পূর্ণ Setup
ধরুন একটি Stock Downtrend-এ ছিল।
তারপর:
Step 1: Price একটি গুরুত্বপূর্ণ Support-এর কাছে এল।
Step 2: Price নতুন Low করল।
Step 3: RSI আগের Low-এর তুলনায় Higher Low করল।
→ Bullish Divergence
Step 4: RSI ৩০-এর কাছাকাছি থেকে উপরে উঠতে শুরু করল।
Step 5: Price একটি Bullish Candlestick তৈরি করল।
Step 6: পরবর্তী সময়ে Volume বৃদ্ধি পেল।
এখন একজন Technical Analyst বলতে পারেন:
“Price-এর downside Momentum দুর্বল হওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং কিছু Confirmation পাওয়া যাচ্ছে।”
কিন্তু বলা যাবে না:
“এখন Price অবশ্যই বাড়বে।”
এই পার্থক্যটাই একজন শিক্ষানবিশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
২৩. RSI ব্যবহার করার সময় সবচেয়ে বড় ৮টি ভুল
❌ ১. RSI ৩০ = Buy
ভুল।
❌ ২. RSI ৭০ = Sell
ভুল।
❌ ৩. RSI ৫০ Cross = নিশ্চিত Trend Change
ভুল।
❌ ৪. Divergence = নিশ্চিত Reversal
ভুল।
❌ ৫. শুধু RSI দেখে সিদ্ধান্ত
ভুল।
❌ ৬. Price Structure না দেখা
ভুল।
❌ ৭. Volume উপেক্ষা করা
দুর্বল Analysis হতে পারে।
❌ ৮. Strong Trend-এ RSI-এর বিরুদ্ধে তাড়াহুড়ো করে Trade করা
ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২৪. RSI-এর একটি সহজ Decision Tree
চার্টে RSI দেখে নিজেকে প্রশ্ন করুন:
RSI দেখুন
│
┌────────┴────────┐
│ │
RSI > 50 RSI < 50
│ │
Momentum তুলনামূলক Momentum তুলনামূলক
শক্তিশালী দুর্বল
│ │
Trend দেখুন Trend দেখুন
│ │
Divergence? Divergence?
│ │
Confirmation Confirmation
এরপর Support, Resistance, Price Action ও Volume বিবেচনা করুন।
২৫. DSEPLEX Chart-এ Practical Exercise
এবার DSEPLEX Chart ব্যবহার করে নিজে অনুশীলন করুন।
উদাহরণ:
DSEPLEX — FAMILYTEX Chart
অথবা:
DSEPLEX — ETL Chart
RSI Indicator চালু করুন।
তারপর অন্তত ৩০–৫০টি Candlestick পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রতিটি জায়গায় নিচের তথ্য লিখুন:
Stock:
Timeframe:
Price Trend:
Uptrend / Downtrend / Sideways
RSI:
বর্তমান Level:
RSI 50:
উপরে / নিচে
RSI 70:
Touch / Break / No
RSI 30:
Touch / Break / No
Divergence:
Bullish / Bearish / None
Support:
Resistance:
Volume:
Weak / Normal / Strong
Price Action:
কী ঘটেছে?
এভাবে কয়েকটি Chart বিশ্লেষণ করলে RSI-এর ব্যবহার অনেক পরিষ্কার হবে।
🧠 এক মিনিটে পুরো অধ্যায় Revision
RSI 30
Oversold-এর Reference Zone
কিন্তু Automatic Buy নয়।
RSI 50
Momentum-এর Midline Reference
৫০-এর উপরে/নিচে অবস্থান Price Momentum বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
RSI 70
Overbought-এর Reference Zone
কিন্তু Automatic Sell নয়।
Bullish Divergence
Price Lower Low + RSI Higher Low
Bearish Divergence
Price Higher High + RSI Lower High
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
RSI একা নয়—Price + Trend + Support/Resistance + Volume + Price Action + RSI একসঙ্গে দেখুন।
✍️ আপনার জন্য Final Practice
একটি DSE Stock Chart নির্বাচন করুন।
তারপর নিচের ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিন:
১. Price বর্তমানে কোন Trend-এ?
২. RSI ৫০-এর উপরে নাকি নিচে?
৩. RSI ৩০ বা ৭০-এর কাছে আছে কি?
৪. Bullish/Bearish Divergence আছে কি?
৫. Volume ও Price Action কি RSI-এর তথ্যকে Support করছে?
যদি আপনি এই ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, তাহলে RSI-কে শুধু একটি Indicator হিসেবে দেখা থেকে বের হয়ে Chart Analysis-এর একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছেন।
📚 DSEPLEX Glossary
এই অধ্যায়ের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পড়ুন:
Momentum
Bullish Divergence
Bearish Divergence
Overbought
Oversold
Trend
Price Action
Support
Resistance
Volume
Volume Confirmation
Moving Average
Candlestick
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
RSI একটি Technical Analysis Indicator। এটি Price Momentum বিশ্লেষণে সহায়ক হলেও ভবিষ্যতের Price Movement নিশ্চিতভাবে বলে না।
RSI ৩০, ৫০ বা ৭০-এর কোনো Level-ই নিজে থেকে Guaranteed Buy/Sell Signal নয়। একইভাবে Divergence-ও নিশ্চিত Reversal-এর নিশ্চয়তা দেয় না।
Technical Analysis শেখার উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য পরিস্থিতি শনাক্ত করা এবং Risk বুঝে Analysis করা, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করা নয়।
60
পড়ুন →
platform guide
07 Oct, 2026
Advanced Screener: ফিল্টার করে কীভাবে আপনার স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী শেয়ার খুঁজবেন?
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) বর্তমানে প্রায় ৪০০-এর বেশি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে। এখন ধরুন, আপনার এমন কিছু শেয়ার দরকার যাদের P/E রেশিও ১৫ এর নিচে, যারা নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেয় এবং যাদের আজকের ভলিউম অনেক বেশি।
৪০০টি কোম্পানির ডেটা ম্যানুয়ালি ঘেঁটে এই শর্তগুলো পূরণ করে এমন শেয়ার বের করাটা খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজার মতোই কঠিন! কিন্তু এই অসাধ্য কাজটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে করে দিতে পারে DSEPlex-এর Advanced Screener (অ্যাডভান্সড স্ক্রিনার)।
Advanced Screener কী? স্ক্রিনার হলো এমন একটি স্মার্ট টুল যেখানে আপনি আপনার নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি বা শর্ত (Parameters) সেট করে দিলে, টুলটি পুরো মার্কেট স্ক্যান করে শুধুমাত্র সেই শেয়ারগুলোই আপনার সামনে এনে দিবে যেগুলো আপনার শর্তগুলো পূরণ করে।
কী ধরনের ফিল্টার বা শর্ত আপনি সেট করতে পারবেন?
১. ফান্ডামেন্টাল ফিল্টার (Fundamental Filters): আপনি যদি লং-টার্ম বিনিয়োগকারী হন, তবে ফান্ডামেন্টাল ডেটা দিয়ে স্ক্রিনিং করতে পারেন। যেমন:
EPS (আয়) ৫ টাকার বেশি হতে হবে।
P/E রেশিও (Price to Earnings) ১০ থেকে ১৫ এর মধ্যে হতে হবে।
Dividend Yield (লভ্যাংশ হার) ৫% এর বেশি হতে হবে।
২. টেকনিক্যাল ও প্রাইস ফিল্টার (Technical Filters): আপনি যদি শর্ট-টার্ম বা ডে-ট্রেডার হন, তবে টেকনিক্যাল ডেটা দিয়ে ফিল্টার করতে পারেন। যেমন:
শেয়ারের দাম ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হতে হবে।
আজকের ভলিউম (Volume) ১ মিলিয়নের বেশি হতে হবে।
RSI (Relative Strength Index) ৫০ থেকে ৭০ এর ভেতর থাকতে হবে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
সাইডবার মেনু থেকে '🔍 Adv. Screener'-এ ক্লিক করুন।
আপনার স্ক্রিনে অনেকগুলো ড্রপডাউন এবং স্লাইডার ফিল্টার দেখতে পাবেন।
আপনার ট্রেডিং প্ল্যান অনুযায়ী শর্তগুলো (যেমন: P/E, EPS, Volume ইত্যাদি) ইনপুট দিন।
নিচে সাথে সাথেই ফিল্টার করা শেয়ারের তালিকা চলে আসবে। ৪০০ শেয়ার থেকে কমে হয়তো আপনার সামনে মাত্র ১০-১২টি সেরা শেয়ারের লিস্ট আসবে, যেগুলো নিয়ে আপনি ফার্দার এনালাইসিস করতে পারবেন।
এভাবে স্ক্রিনার ব্যবহার করে আপনি প্রতিদিন আপনার রিসার্চের কয়েক ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারেন।
স্ক্রিনার দিয়ে তো সেরা শেয়ার বের করলেন, কিন্তু পুরো বাজারের সামগ্রিক মুড বা সেন্টিমেন্ট আজ কেমন—তা এক পলকে বুঝবেন কীভাবে?
পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা শিখবো— Market Heatmap: কালার কোড দেখে পুরো বাজারের সেন্টিমেন্ট কীভাবে বুঝবেন?
3
পড়ুন →